Muwatta Malik
Sahih
1651

রেওয়ায়ত ১. জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ আনসারী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা বনী আনমার যুদ্ধের[1] জন্য রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সহিত রওয়ানা হইলাম। জাবির (রাঃ) বলেন, আমরা একটি বৃক্ষের নিচে অবস্থান করিতেছিলাম। হঠাৎ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখা গেল। আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ছায়ায় আসুন। তিনি আসিয়া ছায়ায় দাঁড়াইলেন। আমি আমার টুকরির কাছে যাইয়া উহাতে (কিছু খাদ্য) অনুসন্ধান করিতে লাগিলাম। শেষ পর্যন্ত উহাতে একটি কাকড়ি পাওয়া গেল। আমি উহাকে কাটিয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সম্মুখে উপস্থিত করিলাম। তিনি বলিলেন, ইহা কোথা হইতে আসিল? জাবির (রাঃ) বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা ইহাকে মদীনা হইতে লইয়া যাত্রা করিয়াছিলাম। জাবির বলেন, আমাদের সহিত এক ব্যক্তি ছিল যাহার নিকট আমরা সফরের মালপত্র দিয়াছিলাম। সে ব্যক্তি আমাদের জন্তুগুলিও চরাইত। যখন সে আমাদের জন্তুগুলি চরাইতে যাইতে লাগিল, তখন তাহার গায়ে দুইটি পুরান ছেড়া চাদর ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহা দেখিয়া বলিলেন, এই ব্যক্তির নিকট কি অন্য কোন কাপড় নাই? জাবির বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহার নিকট ইহা ব্যতীত আরও কাপড় রহিয়াছে যাহা সে পুটলি বাঁধিয়া রাখিয়াছে। উহা আমি তাহাকে পরিতে দিয়াছিলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, তাহাকে ঐ কাপড় পরিধান করিতে বল। আমি তাহাকে ডাকিয়া উহা পরিধান করিতে বলিলে সে তাহা বাহির করিয়া পরিধান করিল। যখন সে আবার যাইতেছিল তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তাহার কি হইয়াছিল যে, কাপড় থাকিতে সে তাহা পরিধান করিল না? আল্লাহ তাহার গর্দান মারুক! এখন কি তাহাকে আগের চাইতে ভাল দেখায় না? সে ব্যক্তি ইহা শুনিতে পাইয়া বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর রাস্তায় কি আমার গর্দান মারা যাইবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, হ্যাঁ, আল্লাহর রাস্তায়। পরে ঐ ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হইয়া গেল।

Mauquf Daif
1652

রেওয়ায়ত ২. উমর (রাঃ) বলেনঃ আমি ক্কারীগণকে (কুরআনের আলিমগণ) শুভ্ৰ পোশাকে দেখিতে পছন্দ করি।

Mauquf Sahih
1653

রেওয়ায়ত ৩. উমর (রাঃ) বলিতেন, যখন তোমাদেরকে আল্লাহ সচ্ছলতা দান করিবেন, তখন তোমরাও নিজের উপর সচ্ছলতার নিদর্শন দেখাও। নিজেদের পোশাক তৈরি করিয়া লও।

Sahih
1654

No translation available for this language.

Sahih
1655

রেওয়ায়ত ৪. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) গেরুয়া ও যাফরানী রঙে রঞ্জিত কাপড় পরিধান করিতেন। মালিক (রহঃ) বলেন, আমার মতে শিশুদেরকে স্বর্ণ পরান মাকরূহ। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে আমার নিকট এই খবর পৌছিয়াছে যে, তিনি সোনার আংটি পরিতে নিষেধ করিয়াছেন। পুরুষ ও ছেলের জন্য সোনা ব্যবহার করা মাকরূহ মনে করি। যরকানী বলেনঃ বড়দের জন্য সোনা ব্যবহার করা মাকরুহ তাহরীমা এবং ছোটদের জন্য মাকরুহ তানযীহী। বাচ্চাদেরকে রৌপ্যের অলঙ্কার পরানোও অনেকের মতে মাকরূহ, আবার কাহারও মতে বৈধ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমি পুরুষদের জন্য ঘরে ও ঘরের আশেপাশে কুসুম রঙের রঞ্জিত চাদর গায়ে দেওয়া হারাম মনে করি না। কিন্তু আমার মতে না পরাই ভাল, ইহা ব্যতীত অন্য পোশাক পরিধান করাই পছন্দনীয়।

Mauquf Sahih
1656

রেওয়ায়ত ৫. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাঃ)-কে একটি কাপড় পরাইয়াছেন, যাহা নিজেও পরিধান করিতেন, উহাতে পশম ও রেশম ছিল।

Mauquf Hasan
1657

রেওয়ায়ত ৬. আলকামা ইবন আবি আলকামা (রহঃ)-এর জননী মারজানা হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হাফসা বিনতে আবদুর রহমান (রাঃ) একটি মিহিন ওড়না পরিয়া উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট গেলে আয়েশা (রাঃ) উহাকে ছিড়িয়া ফেলিলেন এবং মোটা কাপড়ের ওড়না তাহাকে পরাইয়া দিলেন।

Mauquf Sahih
1658

রেওয়ায়ত ৭. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কাপড় পরিহিতা উলঙ্গিনী[1] এবং পুরুষদেরকে নিজের প্রতি আকৃষ্টকারিণী স্ত্রীলোকগণ বেহেশতে প্রবেশ করিতে পারবে না, বরং তাহারা বেহেশতের সুগন্ধও পাইবে না। অথচ ঐ সুগন্ধ পাঁচশত বৎসরের দূরত্ব হইতে অনুভূত হয়।

Sahih
1659

রেওয়ায়ত ৮. ইবনে শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাত্রে জাগরিত হইলেন এবং আকাশের প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করিয়া বলিলেন, আল্লাহ তা’আলা এই রাত্রে কত ধনাগার খুলিয়া দিয়াছেন এবং কত ফিতনা অবতীর্ণ করিয়াছেন! পৃথিবীতে অনেক কাপড় পরিধানকারিণী স্ত্রীলোক পরকালে উলঙ্গ অবস্থায় উঠিবে।[1] যাহারা কক্ষে রহিয়াছে তাহাদেরকে জাগাইয়া দাও (অর্থাৎ ইবাদতের জন্য)।

Sahih
1660

রেওয়ায়ত ৯. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি গর্বভরে স্বীয় কাপড় টাখনুর নিচে লটকায় কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলা তাহাকে রহমতের দৃষ্টিতে দেখিবেন না।

Previous section
Page 1 of 2
Next section