রেওয়ায়ত ১. মুআয ইবন জাবাল (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সর্বশেষ ওসীয়্যত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে করিয়াছেন যখন আমি ঘোড়ার রেকাবে পা রাখিতেছিলাম। তাহা এই যে, হে মুআয! মানুষের সহিত সৎ ব্যবহার করিবে।
রেওয়ায়ত ২. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে, তিনি বলিয়াছেন, যখনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে দুইটি কাজের মধ্যে একটি গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হইত তিনি সহজটি গ্রহণ করিতেন, যদি উহা গুনাহর কাজ না হইত। যদি উহা গুনাহর কাজ হইত, তবে তিনিই সর্বাধিক উহা বর্জন করিয়া চলিতেন। তিনি নিজের জন্য কাহারও উপর প্রতিশোধ গ্রহণ করেন নাই। কিন্তু যখন আল্লাহর হারামের পর্দা ছিদ্র হইত তখন তিনি প্রতিশোধ লইতেন।
রেওয়ায়ত ৩. আলী ইবন হুসাইন হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, ইসলামের সৌন্দর্যের মধ্যে ইহাও রহিয়াছে যে, মানুষ অপ্রয়োজনীয় কথা ও কাজ ত্যাগ করিবে।
রেওয়ায়ত ৪. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, কেহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট সাক্ষাৎ করিতে অনুমতি চাহিল। আমি তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘরে ছিলাম। তিনি বলিলেনঃ এই লোকটি মন্দ। অতঃপর তিনি তাহাকে আসিতে অনুমতি দান করিলেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, বেশিক্ষণ না যাইতেই আমি ঐ লোকটির সহিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাসিতে শুনিতে পাইলাম। তাহার প্রস্থানের পর আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এইমাত্র আপনি তাহাকে মন্দ বলিলেন, আর এখনই আপনি তাহার সহিত হাসিতেছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সকলের চাইতে মন্দ ঐ ব্যক্তি যাহার অনিষ্টকারিতার জন্য লোকে তাহাকে ভয় করে।
রেওয়ায়ত ৫. কাব আহবার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেন, কোন বান্দার মর্যাদা তাহার প্রভুর নিকট কিরূপ উহা জানিতে ইচ্ছা করিলে দেখ, অন্যান্য লোক তাহার সম্বন্ধে কি ধারণা পোষণ করে।
রেওয়ায়ত ৬. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ হইতে বর্ণিত। তিনি বলিয়াছেন, আমার নিকট এই রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, মানুষ তাহার সৎ চরিত্রের জন্য সারা রাত্রি ইবাদতকারী ও সর্বদা রোযা রাখে, এমন ব্যক্তির মর্যাদা লাভ করিয়া থাকে।
রেওয়ায়ত ৭. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেনঃ আমি কি তোমাদের এমন কাজের সন্ধান দিব যাহা বহু নামায ও অনেক সদকা হইতেও উৎকৃষ্ট? লোকেরা বলি, নিশ্চয়ই। বলুন। তিনি বলিলেন, পরস্পর আপস করাইয়া দেওয়া। আর তোমরা শক্রতা ও দুশমনী হইতে দূরে থাক। কারণ এই স্বভাব নেকীকে বিনষ্ট করে।
রেওয়ায়ত ৮. মালিক (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার নিকট এই খবর পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, আমি নৈতিকতাকে পূর্ণতা দান করিবার জন্য নবী হইয়া আগমন করিয়াছি।
রেওয়ায়ত ৯. যায়েদ ইবন তালহা ইবন রুকানা (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, প্রতিটি ধর্মেরই একটা স্বভাব রহিয়াছে, আর ইসলামের স্বভাব হইল লজ্জা।
রেওয়ায়ত ১০. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির নিকট দিয়া যাইতেছিলেন। সে তাহার ভাইকে বেশি লজ্জা না করার জন্য নসীহত করিতেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ এই বিষয়ে তাহাকে নসীহত করা হইতে বিরত থাক। কেননা এই লজ্জা ঈমানের অঙ্গস্বরূপ।