। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতিপয় অনারব বাদশাহদের নিকট চিঠি প্রেরণ করতে চাইলে তাঁকে বলা হলো যে, তারা তো সিল মোহরবিহীন কোনো চিঠি পড়ে না। সুতরাং তিনি রূপা দিয়ে একটি আংটি বানান, এবং তাতে ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ অংকিত করান।[1] সহীহ।
। আনাস (রাঃ) সূত্রে ঈসা ইবনু ইউনুসের বর্ণিত উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। এতে আরো রয়েছেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রূপার আংটি তাঁর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তাঁর হাতেই ছিলো। অতঃপর সেটি আবূ বাকর (রাঃ)-এর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তাঁর হাতে, এরপর উমার (রাঃ)-এর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর হাতে ছিলো, অতঃপর উসমান (রাঃ)-এর হাতে এলে তিনি কূপের নিকট অবস্থানকালে হঠাৎ তাঁর হাত থেকে সেটি কূপে পড়ে যায়। পরে তার নির্দেশে কূপের সমস্ত পানি নিষ্কাষন করা হয় কিন্তু সেটি আর পাওয়া যায়নি।[1] সনদ সহীহ।
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি রূপার আংটি ছিলো এবং এর পাথর ছিলো আবিসিনীয়।[1] সহীহ।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আংটি ও তাঁর পাথর পুরাটাই ছিলো রূপার।[1] সহীহ।
। ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি আংটি বানিয়েছিলেন স্বর্ণের এবং এর উপরিভাগ ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ অংকন করিয়েছিলেন। ফলে লোকেরাও স্বর্ণের আংটি বানালো। তিনি তা দেখে স্বর্ণের আংটি বর্জন করে বললেনঃ আমি এটি আর কখনই পরবো না। অতঃপর তিনি রূপা দিয়ে একটি আংটি বানালেন এবং তাতে ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ অংকিত করালেন। তাঁর মৃত্যুর পর আবূ বাকর (রাঃ) তা ব্যবহার করেন। তার মৃত্যুর পর উমার (রাঃ) তা ব্যবহার করেন এবং তার পরে উসমান (রাঃ) তা ব্যবহার শুরু করেন। একদিন তার হাত থেকে সেটি ‘আরীস’ নামক কূপে পড়ে যায়। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘উসমান (রাঃ)-এর হাত থেকে আংটিটি পড়ে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত লোকেরা তার সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়নি।[1] সহীহ।
। ইবনু উমার (রাঃ) এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রূপা দিয়ে একটি আংটি বানালেন এবং তাতে ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ অংকিত করে বলেন, কেউ যেন তার আংটিতে এ বাক্য অংকিত না করে। অতঃপর বর্ণনাকারী অবশিষ্ট হাদীস বর্ণনা করেন।[1] সহীহ।
। ইবনু উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে এ সম্পর্কে বর্ণনা করেন, তারা আংটিটি অনুসন্ধান করে পেলেন না। অতঃপর উসমান (রাঃ) আরেকটি আংটি বানান এবং তাতে ‘মুহাম্মাদু রাসূলুল্লাহ’ বাক্য অংকিত করেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি সেটি আংটি হিসেবে ব্যবহার করতেন অথবা সিল মোহর হিসেবে সরকারী কাজে ব্যবহার করতেন।[1] সনদ দুর্বল মাতান মুনকার।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে একটি রূপার আংটি দেখতে পেলেন। লোকজনও আংটি বানিয়ে ব্যবহার শুরু করে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা ছুঁড়ে ফেলে দিলেন, ফলে তারা তা ছুঁড়ে ফেলে দেয়।[1] সহীহ।
। আব্দুর রাহমান ইবনু হারমালাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলতেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশটি বিষয় অপছন্দ করতেনঃ (১) পীত রঙ ব্যবহার, (২) বার্ধক্য পরিবর্তন, (৩) পরিধেয় বস্ত্র হেঁচড়ানো, (৪) (পুরুষের) স্বর্ণের আংটি ব্যবহার, (৫) স্বামী ছাড়া অন্য পুরুষের নিকট নারীদের সৌন্দর্য প্রকাশ করা, (৬) দাবা বা অনুরূপ খেলার গুটি চালনা করা, (৭) ‘মুআব্বিযাত’ অর্থাৎ সূরা ‘নাস’ ও ‘ফালাক’ ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে ঝাঁড়ফুক করা, (৮) তাবিজ লটকানো, (৯) লজ্জাস্থানের বাইরে বীর্যপাত করা, (১০) দুধ দানকারিনী স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করা, তবে তা হারাম নয়। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীস কেবল বাসরাহর বর্ণনাকারীরা বর্ণনা করেছেন।[1] মুনকার।
। আব্দুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। একদা এক ব্যক্তি পিতলের আংটি পরিহিত অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলে তিনি তাকে বলেনঃ আমি তোমার কাছ থেকে মূর্তির গন্ধ পাচ্ছি কেন? এ কথা শুনে লোকটি আংটি ছুঁড়ে ফেলে দিলো। অতঃপর সে একটি লোহার আংটি পরে এলে তিনি বলেনঃ আমি তোমার নিকট জাহান্নামীদের অলংকার দেখছি কেন? লোকটি এটিও ছুঁড়ে ফেলে দিলো। লোকটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে কিসের আংটি ব্যবহার করবো? তিনি বলেনঃ রূপার আংটি ব্যবহার করো, তবে তা যেন এক মিসকাল এর অধিক না হয়।[1] দুর্বল।