Jami At Tirmidhi
Hasan
3370

। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলার নিকট দু'আর চেয়ে কোন জিনিস বেশি সম্মানিত নয়। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮২৯)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা কেবল 'ইমরান আল-কাত্তানের সূত্রেই মারফুরূপে অবগত হয়েছি। ইমরান আল-কাত্তান দাওয়ার-এর ছেলে তার উপনাম আবূল আওওয়াম। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী হতে, তিনি ইমরান আল কাত্তান (রাহঃ) হতে এই সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন।

Daif
3371

। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দু’আ হল ইবাদাতের মূল বা সার। এই শব্দে হাদীসটি যঈফ, রাওজুন নায়ীর (২/২৮৯), মিশকাত (২২৩১) আবূ ঈসা বলেনঃ উপরোক্ত সনদসূত্রে এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু ইবনু লাহীআর রিওয়ায়াত হিসেবে এ হাদীস জেনেছি।

Sahih
3372

নুমান ইবনু বাশীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু'আই হল ইবাদাত। তারপর তিনি পাঠ করেন (অনুবাদ) “এবং তোমাদের রব বলেছেন, আমাকে তোমরা আহবান কর, আমি তোমাদের আহবানে সাড়া দিব। নিশ্চয় যে সকল লোক আমার ইবাদাত করতে অহংকার করে (বিরত থাকে), শীঘ্রই তারা ভৎসনার সঙ্গে জাহান্নামে প্রবেশ করবে”— (সূরা মু'মিন ৬০)। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮২৮)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি মানসূর ও আমাশ (রাহঃ) যার-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আমরা এ হাদীসটি কেবল যার-এর সনদেই অবগত হয়েছি। যার ইবনু আবদুল্লাহ আল-হামদানী নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। তিনি উমার ইবনু যার-এর পিতা।

Hasan
3373

। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলার কাছে যে লোক চায় না, আল্লাহ তা'আলা তার উপর নাখোশ হন। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮২৭)। আবূ ঈসা বলেনঃ ওয়াকী এবং আরো অনেকে হাদীসটি আবূল মালীহ (রাহঃ) হতে রিওয়ায়াত করেছেন। হাদীসটি আমরা কেবল এই সূত্রেই অবগত হয়েছি। আবূল মালীহ-এর নাম সাবীহ। আমি মুহাম্মাদকে এ কথা বলতে শুনেছি। তাকে ফারিসীও বলা হয়। ইসহাক ইবনু মানসূর-আবূ আসিম হতে, তিনি হুমাইদ-আবূল মালীহ হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন।

3374

। আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমরা কোন এক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহঃ-এর সাথেই ছিলাম। আমরা যখন ফিরে আসলাম এবং মাদীনার উপকণ্ঠে উপস্থিত হলাম তখন কিছু লোক উচ্চস্বরে তাকবীর বললেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের পালনকর্তা বধিরও নন এবং অনুপস্থিতও নন। তিনি তোমাদের মাঝে তোমাদের সৈন্য দলের সাথেই আছেন। তারপর তিনি বললেন, হে আবদুল্লাহ ইবনু কাইস আমি কি তোমাদের জান্নাতের গুপ্তধন শিখিয়ে দিব না? তা হল “লা- হাওলা ওয়ালা কু-ওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ"। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৩৮২৪), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। আবূ উসমান আন নাহদী-এর নাম ‘আবদুর রহমান ইবনু মুল্ল। আবূ না'আমাহ আস্ সা'দীর নাম 'আমর ইবনু ঈসা।

Sahih
3375

আবদুল্লাহ ইবনু বুসর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক লোক অতিরিক্ত বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমার জন্য ইসলামের শারী'আতের বিষয়াদি অতিরিক্ত হয়ে গেছে। সুতরাং আমাকে এমন একটি বিষয় জানান, যা আমি শক্তভাবে আঁকড়ে থাকতে পারি। তিনি বললেনঃ সর্বদা তোমার জিহ্বা যেন আল্লাহ তা'আলার যিকরের দ্বারা সিক্ত থাকে। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৭৯৩)। আবূ ঈসা বলেন, উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীসটি হাসান গারীব।

Daif
3376

। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হল, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলার নিকট বান্দাদের মধ্যে কে মর্যাদায় সবোত্তম হবে? তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার অধিক পরিমাণে যিকিরকারীগণ। রাবী বলেনঃ আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় জিহাদকারীর চেয়েও অধিক মর্যাদাশালী? তিনি বললেনঃ যদি কেউ নিজের তলোয়ার দিয়ে কাফির ও মুশরিকদের উপর এমনভাবে আঘাত হানে যে, তা ভেঙ্গে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় এবং নিজেও রক্তাক্ত হয়ে যায়, তবে অধিক পরিমাণে আল্লাহ তা'আলার যিকিরকারী বান্দাগণ মর্যাদায় তার চেয়েও উত্তম। যঈফ, তা’লীকুর রাগীব (২/২২৮) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু দাররাজের রিওয়ায়াত হিসেবে তা জেনেছি।

Sahih
3377

। আবূদ দারদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে কি তোমাদের অধিক উত্তম কাজ প্রসঙ্গে জানাব না, যা তোমাদের মনিবের নিকট সবচেয়ে পবিত্র, তোমাদের সম্মানের দিক হতে সবচেয়ে উঁচু, স্বর্ণ ও রৌপ্য দান-খাইরাত করার চেয়েও বেশি ভাল এবং তোমাদের শক্রর মুকাবিলায় অবতীর্ণ হয়ে তাদেরকে তোমাদের সংহার করা ও তোমাদেরকে তাদের সংহার করার চাইতেও ভাল? তারা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলার যিকর। মু'আয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহ তা'আলার শাস্তি হতে মুক্তি পাওয়ার জন্য আল্লাহ তা'আলার যিকরের তুলনায় অগ্রগণ্য কোন জিনিস নেই। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৭৯০)। কোন কোন বর্ণনাকারী উক্ত সনদে এ হাদীসটি আবদুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) হতে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন। কিছু বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রাহঃ) হতে উক্ত সনদে এটিকে মুরসাল হিসেবেও রিওয়ায়াত করেছেন।

Sahih
3378

। আবূ হুরাইরাহ ও আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) প্রত্যেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রসঙ্গে সাক্ষ্য দেন যে, তিনি বলেছেনঃ যখনই কোন এক স্থানে কিছু সংখ্যক লোক আল্লাহ তা'আলার যিকরে মাশগুল হয়, তখনই ফেরেশতাগণ তাদের আবূত করে রাখে, তাদেরকে আল্লাহ তা'আলার রহমত ও করুণা ছেয়ে ফেলে এবং তাদের প্রতি প্রশান্তি অবতীর্ণ হয়। আর আল্লাহ তা'আলা স্বয়ং তার সমীপে উপস্থিতদের কাছে তাদের আলোচনা করেন। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৭৯১), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।

Sahih
3379

। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) মসজিদে গেলেন। তিনি (মসজিদে কিছুলোক বসা দেখে তাদেরকে) বললেন, তোমাদের কিসে বসিয়ে রেখেছে? তারা বললেন, আমরা বসে বসে আল্লাহ তা'আলার যিকর করছি। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! তোমাদেরকে আল্লাহ তা'আলার যিকরই কি বসিয়ে রেখেছে? তারা বললেন, আল্লাহর শপথ আল্লাহ তা'আলার যিকরই আমাদেরকে বসিয়ে রেখেছে। তিনি বললেন, শোন! তোমাদের মিথ্যা বলার সন্দেহে আমি তোমাদেরকে শপথ করাইনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আমার চেয়ে কম হাদীস বর্ণনাকারীও কেউ নেই। একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথীদের এক দরবারে পৌছে বললেনঃ তোমাদেরকে কিসে বসিয়ে রেখেছে? তারা বলেন, এখানে বসে আমরা আল্লাহ তা'আলার যিকর করছি এবং তার প্রশংসা করছি, কেননা ইসলামের দিকে তিনিই আমাদেরকে পথ দেখিয়েছেন এবং ইসলামের মাধ্যমে আমাদের প্রতি বিরাট অনুগ্রহ করেছেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহর শপথ! এটাই তোমাদেরকে বসিয়ে রেখেছে কি? তারা বললেন, আল্লাহর শপথ! আমাদেরকে শুধুমাত্র এটাই বসিয়ে রেখেছে। তিনি বললেনঃ তোমাদের মিথ্যা বলার সন্দেহে আমি তোমাদেরকে কসম দেইনি। জিবরীল (আঃ) আমার কাছে এসে আমাকে জানিয়েছেন যে, আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাদের সম্মুখে তোমাদের নিয়ে গর্ব করছেন। সহীহঃ মুসলিম (হাঃ ৮/৭২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধু উপর্যুক্ত সনদেই অবগত হয়েছি। আবূ না'আমাহ্ আস-সাদীর নাম 'আমর ইবনু ঈসা এবং আবূ উসমান আন-নাহদীর নাম ‘আবদুর রহমান ইবনু মাল্ল।

Previous section
Page 1 of 25
Next section