Jami At Tirmidhi
Sahih
2645

। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা যে ব্যক্তির কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের জ্ঞানে সমৃদ্ধ করেন। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (২২০), বুখারী ও মুসলিম। উমার, আবূ হুরাইরাহ ও মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে। হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

Sahih
2646

। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক জ্ঞানের খোঁজে কোন পথে চলবে, তার জন্য আল্লাহ তা'আলা জান্নাতের পথ সহজ করে দিবেন। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (২২৫), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।

Daif
2647

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি জ্ঞানের খোজে বের হলে সে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় আছে বলে গণ্য হবে। যঈফ, মিশকাত (২২০)যঈফা (২০৩৭), আর-রাওয (১০৯) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। কোন কোন রাবী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন তবে মারফুরূপে নয়।

Mawdu
2648

। সাখবারা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি জ্ঞান খোঁজ করে, এটা তার জন্য তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যায়। মাওযু, মিশকাত (২২১), যঈফা (৫০১৭) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সনদের দিক হতে যঈফ। আবদুল্লাহ ইবনু সাখবারা ও তার পিতা সাখবারা (রাঃ)-এর হাদীস রিওয়ায়াত প্রসঙ্গে আমাদের বেশী কিছু জানা নেই। রাবী আবূ দাউদের নাম নুফাই আল-আ'মা কাতাদা এবং অন্যান্যরা তার সমালোচনা করেছেন।

Sahih
2649

। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক এমন ইলম (জ্ঞান) সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয় যা সে জানে, অতঃপর সে তা গোপন করে, তাকে কিয়ামতের দিবসে আগুনের লাগাম পরানো হবে। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (২৬৪) জাবির ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।

Daif
2650

। আবূ হারূন আল-আবদী (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ)-এর নিকটে (জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে) আসলে তিনি বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপদেশকে “মারহাবা, স্বাগতম!” কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (আমার পরে) মানুষ তো তোমাদের অনুসারী হবে। দিগদিগন্ত হতে মানুষ ধর্মের জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে তোমাদের নিকটে আসবে। তারা তোমাদের নিকটে এলে তোমরা তাদের কল্যাণ সাধনের ব্যাপারে (আমার) উপদেশ গ্রহণ কর। যঈফ, ইবনু মাজাহ (২৪৯) আবূ ঈসা বলেনঃ আলী ইবনু আবদুল্লাহ বলেছেন যে, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ বলেছেন, শুবা (রাহঃ) আবূ হারূন আবদীকে যঈফ বলতেন, কিন্তু ইবনু আওন আমৃত্যু তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ হারূনের নাম উমারা ইবনু জুয়াইন।

Daif
2651

। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রাচ্যের দিক হতে বহু লোক জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে তোমাদের নিকটে আসবে। তারা তোমাদের নিকটে এলে তোমরা তাদের কল্যাণ কামনায় (আমার) সদুপদেশ গ্রহণ কর। তিনি (হারূন) বলেন, আবূ সাঈদ (রাঃ) আমাদের দেখলে বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপদেশকে স্বাগতম। যঈফ, দেখুন পূর্বের হাদীস আবূ ঈসা বলেন, আবূ হারূন আবদী-আবূ সাঈদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীস ব্যতীত এই প্রসঙ্গে আমাদের কিছু জানা নাই।

Sahih
2652

। আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (শেষ যামানায়) আল্লাহ তা'আলা মানুষের নিকট হতে একটানে ইলম উঠিয়ে নিবেন না, বরং আলিমদেরকে উঠিয়ে নেয়ার মাধ্যমেই ইলম উঠিয়ে নিবেন। অবশেষে যখন তিনি কোন আলিমই অবশিষ্ট রাখবেন না, তখন মানুষেরা অজ্ঞ জাহিলদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। তারপর বিভিন্ন বিষয়ে তাদের নিকট প্রশ্ন করা হবে, আর তারা ইলম ছাড়াই ফাতাওয়া দিবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যকেও পথভ্রষ্ট করবে। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৫২), বুখারী ও মুসলিম। আয়িশাহ ও যিয়াদ ইবনু লাবীদ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। যুহরী (রহঃ) এ হাদীস উরওয়াহ হতে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ)-এর বরাতে এবং উরওয়াহ হতে, ‘আয়িশাহ (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে, উভয় সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন।

Sahih
2653

। আবূদ দারদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ "-এর সাথে ছিলাম। তিনি আকাশের দিকে তাকালেন, তারপর বললেনঃ এই সময়ে মানুষের কাছ থেকে ইলমকে ছিনিয়ে নেয়া হবে, এমনকি এ সম্পর্কে তাদের কোন সামর্থ্যই থাকবে না। যিয়াদ ইবনু লাবীদ আল-আনসার (রাযিঃ) জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের নিকট হতে কিভাবে ইলম ছিনিয়ে নেয়া হবে, অথচ আমরা কুরআন তিলাওয়াত করি? আল্লাহর কসম! অবশ্যই আমরা তা তিলাওয়াত করবো এবং আমাদের স্ত্রীদের ও সন্তানদেরকেও তা শিখাবো। তিনি বললেনঃ হে যিয়াদ! তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক, আমি তো তোমাকে মাদীনার অন্যতম জ্ঞানী ব্যক্তি বলেই গণ্য করতাম! এই তো ইয়াহুদী-নাসারাদের নিকট তাওরাত ও ইনজীল রয়েছে, তা তাদের কি কাজে লেগেছে? জুবাইর (রাযিঃ) বলেন, তারপর আমি উবাদা ইবনুস সামিত (রাযিঃ)-এর সাথে দেখা করে বললাম, আপনার ভাই আবূদ দারদা (রাযিঃ) কি বলছেন তা আপনি শুনতে পাননি? আবূদ দারদা (রাযিঃ) যা বলেছেন, তা আমি তার নিকট বললাম। তিনি বলেন, আবূদ দারদা (রাযিঃ) ঠিকই বলেছেন। তুমি চাইলে আমি তোমাকে একটি কথা বলতে পারি। ইলমের যে বস্তুটি সর্বপ্রথম মানুষের কাছ থেকে তুলে নেয়া হবে তা হল বিনয়। খুব শীঘ্রই তুমি কোন জামে মসজিদে গিয়ে হয়তো দেখবে যে, একজন লোকও সেখানে বিনয়াবনত নয়। সহীহঃ তাখরীজু ইকতিযায়িল ইলমি আল-আমল (৮৯) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। হাদীসবিশারদগণের মতে মু'আবিয়াহ ইবনু সালিহ একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান ব্যতীত অন্য কেউ তার সমালোচনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। মুআবিয়াহ ইবনু সালিহ হতেও এরকম হাদীস বর্ণিত আছে। কোন কোন বর্ণনাকারী এই হাদীস আবদুর রাহমান ইবনু জুবাইর ইবনু নুফাইর হতে, তিনি তার বাবা হতে, তিনি ‘আওফ ইবনু মালিক (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন।

Hasan
2654

। কাব ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে লোক আলিমদের সাথে তর্ক বাহাস করা অথবা জাহিল-মূর্খদের সাথে বাকবিতণ্ডা করার জন্য এবং মানুষকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করার উদ্দেশে ইলম অধ্যয়ন করেছে, আল্লাহ তা'আলা তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। হাসানঃ মিশকাত (২২৩-২২৫), তা’লীকুর রাগীব (১/৬৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই জেনেছি। হাদীস বিশেষজ্ঞদের মতে ইসহাক ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু তালহা খুব একটা শক্তিশালী বর্ণনাকারী নন। তার স্মৃতিশক্তি সমালোচিত।

Previous section
Page 1 of 5
Next section