Jami At Tirmidhi
Sahih
2125

। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বারীরা (রাঃ)-কে ক্রয় করার ইচ্ছা করলেন। কিন্তু মালিক পক্ষ নিজেদের জন্য ওয়ালাআর শর্তারোপ করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে ব্যক্তি মূল্য পরিশোধ করে অথবা যে ব্যক্তি নিয়ামাতের (আযাদকৃতের) মালিক সে-ই ওয়ালাআর অধিকারী। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (২৫৮৯), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু উমার ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস মুতাবিক আলিমগণ আমল করেছেন।

Sahih
2126

। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, ওয়ালাআ-স্বত্ব বিক্রয় করতে অথবা হিবা করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারণ করেছেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৭৪৭, ২৭৪৮), বুখারী মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আমরা শুধুমাত্র আব্দুল্লাহ ইবনু দীনারের সুত্রে ইবনু উমারের বরাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীসটি জেনেছি। তিনি ওয়ালাআ বিক্রয় বা হিবা করতে বারণ করেছেন। উপরে বর্ণিত হাদীসটি আবদুল্লাহ ইবনু দীনারের সূত্রে শুবা, সুফিয়ান সাওরী ও মালিক ইবনু আনাস (রাহঃ) বর্ণনা করেছেন। শুবা (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসটি যখন আবদুল্লাহ ইবনু দীনার বর্ণনা করেন তখন আমি মনে মনে ইচ্ছা করছিলাম যে, তিনি সম্মতি দিলে আমি উঠে গিয়ে তার মাথায় চুমু খেতাম। এই হাদীসটি উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার-নাফি হতে, তিনি ইবনু উমার (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনু সুলাইম বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এতে বিভ্রান্তি আছে। ইয়াহইয়া ইবনু সুলাইম এতে বিভ্রান্তি ঘটিয়েছেন। সহীহ সনদ হলো উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার-আবদুল্লাহ ইবনু দীনার হতে, তিনি ইবনু উমার (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার হতে একাধিক বর্ণনাকারী একইরকম বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি আবদুল্লাহ ইবনু দীনার এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

Sahih
2127

। ইবরাহীম আত-তাইমী (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আলী (রাঃ) আমাদের সামনে খুতবাহ দেন এবং বলেন, যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, আমাদের নিকট আল্লাহ্ তা'আলার গ্রন্থ এবং এই পুস্তিকা যার মধ্যে উটের বয়সের বিবরণী ও জখমের ক্ষতিপূরণের বিধান রয়েছে তা ব্যতীত আরো কোন গ্রন্থ আছে সে মিথ্যাবাদী। তিনি তার খুৎবায় আরো বলেন, এই গ্রন্থে আরো আছেঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাদীনার হেরেমের সীমানা হচ্ছে আইর পাহাড় হতে সাওর পর্বত পর্যন্ত। যদি কেউ এতে কোন প্রকার বিদ"আতের প্রচলন ঘটায় অথবা কোন বিদ'আতীকে আশ্রয় দেয় তাহলে তার উপর আল্লাহ, ফিরিশতাগণ ও সকল মানুষের অভিসম্পাত। কিয়ামত দিবসে তার কোন ফরয বা নাফল ইবাদাতই আল্লাহ তা'আলা কুবুল করবেন না। যে লোক তার বাবাকে পরিত্যাগ করে অন্য কাউকে বাবা বলে দাবি করে (নিজের বংশপরিচয় গোপন করে অন্য বংশের পরিচয় দেয়) অথবা তার মনিবকে ছেড়ে দিয়ে অন্য মনিবের নিকট পালিয়ে যায় তার উপর আল্লাহ, ফিরিশতাগণ এবং সকল মানুষের অভিশাপ। তার ফরয বা নাফল কোন ইবাদাতই গ্রহণ করা হবে না। মুসলিমদের যিম্মা প্রদান একই সমান ও অখণ্ড। তাদের মধ্যকার সবচেয়ে সাধারণ ব্যক্তি (কাউকে) আশ্রয় দান করলে তাও রক্ষা করা হবে। সহীহ, ইরওয়া (১০৫৮), নাকুদুল কাত্তানী (৪২), সহীহ আবূ দাউদ (১৭৭৩-১৭৭৪), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, কিছু বর্ণনাকারী আমাশ হতে, তিনি ইবরাহীম আত-তাইনী হতে, তিনি হারিস ইবনু সুওয়াইদ হতে, তিনি আলী (রাঃ)-এর হতে এই সূত্রে একইরকম বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। উপরোক্ত হাদীসটি একাধিকভাবে আলী (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে।

Sahih
2128

। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ফাযারা বংশের একজন লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আমার স্ত্রী একটি কালো বর্ণের ছেলেসন্তান প্রসব করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তোমার উট আছে কি? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ সেগুলো কি বর্ণের? সে বলল, লাল। তিনি বললেনঃ সেগুলোর মধ্যে ধূসর বর্ণের উট আছে কি? সে বলল, হ্যাঁ সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি ধূসর বর্ণের উটও আছে। তিনি বললেনঃ সেগুলোর মধ্যে এই ধরনের রং কোথা হতে এল? সে বলল, হয়তো বংশধারা হতে তা এসেছে (এই বংশে হয়তো এরকম কোন উট ছিল)। তিনি বললেনঃ এটাও হয়তো বংশধারার টান, (তোমার) পূর্বপুরুষের মধ্যে কেউ এরূপ ছিল। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২১০২), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

Sahih
2129

No translation available for this language.

Daif
2130

। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা একজন অন্যজনকে উপহার দাও। উপহার মনের ময়লা দূর করে। এক প্রতিবেশিনী অপর প্রতিবেশিনীকে বকরীর পায়ের এক টুকরা ক্ষুর হলেও তা উপহার দিতে যেন অবহেলা না করে। (যঈফ, মিশকাত ৩০২৮ হাদীসের ২য় অংশ এক প্রতিবেশিনী শেষ.. শেষ পর্যন্ত সহীহ, বুখারী, মুসলিম।) আবূ ঈসা বলেনঃ উল্লেখিত সনদসূত্রে এ হাদীসটি গারীব। একদল বিশেষজ্ঞ আলিম আবূ মা’শারের স্মরণশক্তির সমালোচনা করেছেন। আবূ মা’শারের নাম নাজীহ, বানু হাশিমের মুক্তদাস।

Sahih
2131

। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক দান করার পর তা আবার ফিরিয়ে নেয় সে কুকুর সমতুল্য, যে পেট ভরে খাওয়ার পর বমি করে, আবার ফিরে এসে তা খায়। সহীহ, ইরওয়া (৬/৩৬), বুখারী, মুসলিম সংক্ষিপ্ত ভাবে। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু আব্বাস ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।

Sahih
2132

। ইবনু উমার ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উপহার প্রদানের পর তা আবার ফিরিয়ে নেয়া কারো জন্য বৈধ নয়। তবে পিতা তার সন্তানকে দেয়া উপহার ফিরিয়ে নিতে পারে। উপহার প্রদানের বা দানের পর তা পুনরায় যে লোক ফিরিয়ে নেয় সে লোক কুকুর সমতুল্য। যেমন কুকুর পেট ভরে খাওয়ার পর বমি করে এবং তা আবার ভক্ষণ করে। সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইমাম শাফিঈ বলেন, যে ব্যক্তি দান করে তার জন্য তার দানকৃত বস্তু পুনরায় ফিরিয়ে নেয়া বৈধ নয়। তবে পিতার জন্য তা বৈধ অর্থাৎ সে তার সন্তানকে কিছু দান করে তা আবার ফিরিয়ে নিতে পারে। এ হাদীসটি ইমাম শাফিঈ তার মতের অনুকূলে দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন।