Jami At Tirmidhi
Sahih
1524

। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গুনাহের কাজ সম্পাদনের উদ্দেশ্যে মানত করা বৈধ হবে না। শপথ ভঙ্গের কাফফারার অনুরূপ এর কাফফারা। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২১২৫) ইবনু উমার, জাবির ও ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীস সহীহ নয়। কেননা আবূ সালামার নিকট হতে এ হাদীস ইমাম যুহরী শুনেননি। আমি ইমাম বুখারীকে এভাবে বলতে শুনেছিঃ মূসা ইবনু উকবা, আবূ আতীক ইবনু আবূ কাসীর হতে, তিনি আবূ সালামা হতে, তিনি আইশা (রাঃ) হতে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ (বুখারী) বলেন, এটাই সেই হাদীস।

Sahih Lighairihi
1525

। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার আনুগত্যের উদ্দেশ্যে কোন লোক মানত করলে সে যেন তা পূর্ণ করে। আর কোন লোক আল্লাহ্ তা'আলার অবাধ্যাচরণের উদ্দেশ্যে মানত করলে সে যেন তা পূর্ণ না করে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২১২৬), বুখারী হাসান ইবনু আলী আল খাল্লাল-আব্দুল্লাহ ইবনু নুমাইর হতে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার হতে, তিনি তালহা ইবনু আব্দুল মালিক হতে তিনি কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ হতে, তিনি আইশা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে (উপরের হাদীসের) অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। কাসিম ইবনু মুহাম্মাদের সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাসীরও এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এই মত দিয়েছেন একদল সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ। ইমাম মালিক এবং শাফিঈরও এই মত। তারা বলেন, আল্লাহ্ তা'আলার নাফরমানী করা চলবে না, নাফরমানীর জন্য মানত করলেও তা পূর্ণ করা জায়িয নয় এবং তার জন্য কাফফারাও দিতে হবে না।

Sahih
1526

No translation available for this language.

Sahih
1527

। সাবিত ইবনু যাহহাক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে জিনিসে বান্দার মালিকানা নেই তার মানত হয় না। সহীহ, ইরওয়া (২৫৭৫), নাসা-ঈ আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন।

Daif
1528

। উকবা ইবনু আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নাম উল্লেখ না করে মানত করা হলে তার কাফফার শপথ ভঙ্গের কাফফারার মতই। যঈফ, হাদীসে বর্ণিত "নাম উল্লেখ না করে" অংশ বাদে হাদীসটি সহীহ, ইরওয়া (২৫৮৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গরীব।

Sahih
1529

। আবদুর রাহমান ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আবদুর রাহমান শাসকের পদ চেয়ে নিও না। কেননা এ পদ চাওয়ার কারণে তোমার আয়ত্বে এলে তোমাকে এর যিন্মায় (সহায়হীনভাবে) ছেড়ে দেয়া হবে। এ পদটি যদি না চাইতেই তোমার আয়ত্বে আসে তবে তুমি (দায়িত্বভার বহনে) সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। তুমি কোন কাজের মানত করার পরে তার বিপরীত করার মধ্যে কল্যাণ দেখতে পেলে কল্যাণকর কাজটিই করবে এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা প্রদান করবে। সহীহ, ইরওয়া (৭/১৬৬), (৮/২২৮, ২৬০১) সহীহ আবূ দাউদ (২৬০১), নাসা-ঈ আলী, জাবির, আদী ইবনু হাতিম, আবূদ দারদা, আনাস, আইশা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবূ হুরাইরা, উম্মু সালামা ও আবূ মূসা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আব্দুর রহমান ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।

Sahih
1530

। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন বিষয়ে কেউ শপথ করার পর তার বিপক্ষে কাজ করার মধ্যে মঙ্গল দেখতে পেলে সে যেন তার শপথ ভঙ্গের কাফফারা প্রদান করে এবং কল্যাণকর কাজটি সম্পাদন করে। সহীহ, ইরওয়া (২০৮৪), রাওযুন নায়ীর (১০২৯), মুসলিম উম্মু সালামা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশির ভাগ অভিজ্ঞ সাহাবী ও তৎপরবর্তী আলিমগণ আমল করেছেন। তারা বলেছেন, শপথ ভঙ্গের আগে কাফফারা আদায় করা যায়। এই মত দিয়েছেন ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকও। অপর কয়েকজন অভিজ্ঞ আলিম বলেছেন, শপথ ভঙ্গের আগে কাফফারা আদায় করবে না। সুফিয়ান সাওরী বলেছেন, আমি শপথ ভঙ্গের পর কাফফারা প্রদানকে উত্তম মনে করি। তবে কোন লোক শপথ ভঙ্গের আগেই অগ্রিম কাফফারা প্রদান করলে তাও যথেষ্ট হবে।

Sahih
1531

। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গানীমাতের মধ্যে দুই অংশ ঘোড়ার জন্য এবং এক অংশ সৈনিকের জন্য নির্ধারণ করেছেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৮৫৪), নাসা-ঈ মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার আব্দুর রাহমান ইবনু মাহদী হতে, তিনি সুলাইম ইবনু আখ্যার হতে এই সূত্রেও অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। মুজাম্মি ইবনু জারিয়া, ইবনু আব্বাস ও ইবনু আবূ আমরাহ হতে তার বাবার সূত্রে এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস মোতাবিক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশির ভাগ অভিজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ আমল করেছেন। একই মত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী, আওযাঈ, মালিক ইবনু আনাস, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকও। তারা বলেন, গানীমাতের মধ্যে অশ্বারোহী যোদ্ধা তিন অংশ পাবে। তার নিজের জন্য এক অংশ এবং তার ঘোড়ার জন্য দুই অংশ। আর পদাতিক যোদ্ধা এক অংশ পাবে।

Sahih
1532

। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ শপথ করে ইনশা-আল্লাহ বললে তার শপথ ভঙ্গের কারণে কোন অপরাধ হবে না। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২১০৪) আমি (আবূ ঈসা) এ হাদীস বিষয়ে ইমাম বুখারীকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এ হাদীসটি ভুল বর্ণনা করা হয়েছে। আবদুর রাযযাক এটাকে সংক্ষিপ্ত আকারে অন্য একটি হাদীস হতে বর্ণনা করেছেন। সেই হাদীসটি এইঃ আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সুলাইমান ইবনু দাউদ (আঃ) বললেনঃ আমি আজকের রাত্রিতে সত্তরজন স্ত্রীর শয্যাসঙ্গী হব। প্রত্যেক স্ত্রীই একটি করে ছেলে সন্তান প্রসব করবে। তিনি সকল স্ত্রীর শয্যাসঙ্গী হলেন। কিন্তু তাদের মধ্যে কেউই সন্তান প্রসব করল না। শুধুমাত্র একজন স্ত্রী একটি অর্ধাঙ্গ বাচ্চা প্রসব করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তিনি যদি ইনশাআল্লাহ বলতেন তাহলে তিনি যেরূপ বলেছিলেন সেরূপই হত। আবদুর রাযযাক লম্বা হাদীসটি উল্লেখিত সনদ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। সুলাইমান (আঃ)-এর স্ত্রীর পরিমাণও তিনি সত্তরজন বলে উল্লেখ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ হাদীসটি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “সুলাইমান ইবনু দাউদ (আঃ) বললেন, আমি আজ রাতে একশতজন স্ত্রীর শয্যাসঙ্গী হব”।

Sahih
1533

। সালিম (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমার (রাঃ)-কে আমার পিতার শপথ, আমার পিতার শপথ’ বলতে শুনলেন। তিনি বললেনঃ সাবধান! অবশ্যই তোমাদেরকে তোমাদের বাবার নামে শপথ করতে আল্লাহ তা'আলা নিষেধ করেছেন। উমার (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ আমি এরপর হতে আর কখনো এভাবে শপথ করিনি বা অন্যের বরাতেও তা উল্লেখ করিনি। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২০৯৪), নাসা-ঈ সাবিত ইবনু যাহহাক, ইবনু আব্বাস, আবূ হুরাইরা, কুতাইলা ও আবদুর রাহমান ইবনু সামুরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আবূ উবাইদ বলেন, 'ওলা আছিরান' এর অর্থ অন্যের বরাতেও আমি তা উল্লেখ করিনি।

Previous section
Page 1 of 3
Next section