قَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمْ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَعَنْ الصَّلَاةِ فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُونَ আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ধারণী তীর-এ সমস্তই ঘৃণ্য বস্তু এবং শয়তানের কাজ, সুতরাং তোমরা তা পরিত্যাগ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। শয়তান তো মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শক্রতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর যিকির ও সালাতে বাঁধা দিতে চায়। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না? (সূরা মায়িদাঃ ৯০–৯১) ৫৫৩৯. আবু বকর ইবন আহমদ (রহঃ) ... উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মদ হারাম হওয়া সম্পর্কে আয়াত নাযিল হলো, তখন উমর (রাঃ) দু'আ করলেনঃ হে আল্লাহ! মদ সম্পর্কে আমাদেরকে স্পষ্ট আদেশ দান করুন। তখন সূরা বাকারার আয়াত নাযিল হলো। উমর (রাঃ)-কে ডেকে ঐ আয়াত পড়ে শোনানো হলো। তিনি দু'আ করলেনঃ হে আল্লাহ্! মদ সম্পর্কে আমাদেরকে পরিষ্কার আদেশ দান করুন। তখন সূরা নিসা-এর আয়াত নাযিল হলোঃ (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْرَبُوا الصَّلَاةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَى) অর্থাৎ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা নেশা অবস্থায় সালাতের নিকটেও যাবে না।” এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ হতে একজন আহ্বানকারী নামাযের সময় বলতোঃ তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সালাতের নিকটবর্তী হয়াে না। উমর (রাঃ)-কে ডেকে এই আয়াত পড়ে শুনানো হলো। তিনি পুনরায় দু'আ করলেনঃ হে আল্লাহ্! মদ সম্পর্কে আমাদের জন্য পরিষ্কার হুকুম নাযিল করুন। তারপর যখন সূরা মায়িদার আয়াত নাযিল হলো, তখন উমর (রাঃ)-কে ডেকে তা শুনানো হলো। যখন তিলাওয়াতকারী ঐ আয়াতের (فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُونَ) পর্যন্ত পৌছলেন, তখন উমর (রাঃ) বলে উঠলেনঃ আমরা নিবৃত্ত হলাম, আমরা নিবৃত্ত হলাম।
সুওয়ায়দ ইবন নাসর (রহঃ) ... সুলায়মান তায়মী (রহঃ) থেকে বর্ণিত, আনাস ইবন মালিক (রাঃ) তাদেরকে জানিয়েছেন যে, আমি আমার চাচাদের সাথে গােত্রের মধ্যে দাঁড়ান ছিলাম। আমি ছিলাম বয়সে তাদের সর্বকনিষ্ঠ। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বললোঃ খামর (মদ) হারাম হয়ে গেছে। আমি তখন তাদের মাঝে দাঁড়িয়ে তাদেরকে ফাযীখ নামক পানীয় পান করাচ্ছিলাম। তারা বললেনঃ এই পাত্র উলটে দাও, তখন আমি ঐ পাত্রগুলো উলটে দিলাম। এ সময় আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলামঃ ফাযীখ কি? তিনি বললেনঃ তা শুকনো এবং কাঁচা খেজুরের তৈরি পানীয়। আবু বকর ইবন আনাস (রহঃ) বললেন, তখন এটাই ছিল তাদের খামদর (মদ)। আনাস (রাঃ) তা শুনে আপত্তি করেন নি।
সুওয়ায়দ ইবন নাসর (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি, আবূ তালহা, উবাই ইব্ন কা'ব এবং আবু দুজানা আনসারদের এক দলকে শরাব পান করাতাম। তখন এক ব্যক্তি এসে বললোঃ একটা ঘটনা ঘটেছে। মদ হারাম করা হয়েছে। এ খবর শুনে আমরা শরাবের পাত্র উল্টিয়ে দিলাম। তিনি বলেনঃ তখনকার দিনের মদ ছিল ফাযীখ।
সুওয়ায়দ ইন নাসর (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বলেন, মদ যখন হারাম হওয়ার সময় হলো, তখন হারাম হলো। আর তাদের শরাব ছিল শুকনো ও কাঁচা খেজুর দ্বারা তৈরি।
সুওয়ায়দ ইবন নসর (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেনঃ কাঁচা ও শুকনা খেজুরের শারাবকে খামর বলা হয়।
সুওয়ায়দ ইবন নসর (রহঃ) ... মুহারিব ইবন দিসার (রহঃ) বলেন, আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, কাঁচা ও শুকনো খেজুরের শরাব খামর (মদ)।
কাসিম ইবন যাকারিয়া (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আঙ্গুর এবং খেজুর মিশ্রিত পানীয় খামর (মদ)।
ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জনৈক সাহাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেকে ওঠা কাঁচা খেজুর ও শুকনো খেজুর এবং আঙুর ও খেজুরযোগে তৈরি পানীয় পান করতে নিষেধ করেছেন।
ওয়াসিল ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) .... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কদুর খোলে, হানতাম, মুযাফফাত এবং নকীরে পানীয় তৈরি করতে এবং আধাপাকা-ও হলদে হয়ে ওঠা খেজুর মিশাতে নিষেধ করেছেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কদুর খোল, মুযাফফাত এবং কাঠের পাত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন, আর তিনি খেজুরকে কিশমিশের সাথে এবং কাঁচা খেজুরকে শুকনো খেজুরের সাথে মিশাতে নিষেধ করেছেন।