সুলায়মান ইবন সালম বলখী (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামথেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি যিলহজ্জ মাসের নতুন চাঁদ দেখার পর কুরবানী করার ইচ্ছা করে, সে যেন কুরবানী করার পূর্বে চুল ও নখ না কাটে।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবদুল হাকাম (রহঃ) ... ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী উম্মে সালামা (রাঃ) তাঁকে অবহিত করেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরবানী করার ইচ্ছা করে, সে যেন যিলহজ্জের প্রথম দশ দিনে তার নখ ও কোন চুল না কাটে।
আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যাক্তি কুরবানী করার ইচ্ছা করে আর দশ দিন আরম্ভ হয়ে যায়, সে যেন তখন আর চুল ও নখ না কাটে। রাবী বলেন, এ বিষয়টি ইকরামার নিকট উল্লেখ করলে তিনি বললেন, তাহলে কি স্ত্রী এবং সুগন্ধিও ত্যাগ করতে হবে?
আবদুল্লাহ্ ইবন মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) ... সাঈদ ইবন মুসায়্যাব সূত্রে উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন যিলহজ্জ মাসের দশ দিন আরম্ভ হয় এবং তোমাদের কেউ কুরবানী করার ইচ্ছা করে, সে যেন তার চুল ও নখ থেকে কিছুই না কাটে।
ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বললেনঃ কুরবানীর দিনকে ঈদের দিন করার জন্য আমাকে আদেশ করা হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা এই উম্মতের জন্য একে সাব্যস্ত করেছেন। তখন ঐ ব্যক্তি বললোঃ যদি আমি দুধপান করার জন্য অন্যের দান করা পশু ব্যতীত অন্য কিছু না পাই, তা হলে কি আমি তা-ই কুরবানী করবো? তিনি বললেনঃ না, কিন্তু তুমি তোমার চুল, নখ কেটে ফেলবে এবং গোঁফ ছোট করবে এবং তোমার নাভির নিচের পশম কামাবে; এটাই হবে আল্লাহর নিকট তোমার কুরবানীর পূর্ণতা।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবদুল হাকাম (রহঃ) ... নাফি' (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ (রাঃ) তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহে যবেহ বা নাহর করতেন।
আলী ইবন উসমান নুফায়লী (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন মদীনায় নহর করেছেন। তিনি বলেন, মদীনায় নহর না করলে ঈদগাহে যবেহ করতেন।
হান্নাদ ইন সারী (রহঃ) ... জুনদুব ইবন সুফয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ঈদগাহে উপস্থিত ছিলাম। তিনি লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন, সালাত শেষে দেখলেন একটি বকরী যবেহ করা হয়েছে। তখন তিনি বললেন, সালাতের পূর্বে কে যবেহ করলো? সে যেন এর পরিবর্তে অন্য একটি বকরী যবেহ করে। আর যে এখনও যবেহ করেনি, সে যেন আল্লাহর নামে যবেহ করে।
ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... বনী শায়বানের আযাদকৃত দাস আবু যাহহাক উবায়দ ইবন ফায়রূয (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারা (রাঃ)-কে বললাম, যে সকল পশু কুরবানী করতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন, তা আমার নিকট বর্ণনা করুন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (খুতবা দিতে) দাঁড়ালেন আর আমার হাত তাঁর হাত অপেক্ষা ছােট। তিনি বললেন, চার প্রকার পশু কুরবানী বৈধ নয়, কানা পশু যার কানা হওয়াটা সুস্পষ্ট, রুগ্ন যার রোগ সুস্পষ্ট, খোঁড়া পশু যার খোঁড়া হওয়া সুস্পষ্ট; দুর্বল, যার হাঁড়ে মজ্জা নেই। আমি বললামঃ আমি শিং ও দাঁতে ত্রুটি থাকাও পছন্দ করি না। তিনি বললেনঃ তুমি যা অপছন্দ কর, তা ত্যাগ কর; কিন্তু অন্য লোকের জন্য তা হারাম করো না।
মুহাম্মদ ইবন বাশার (রহঃ) ... উবায়দ ইবন ফায়রূয (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারা ইবন আযিবকে বললাম, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীতে কোন্ কোন্ পশু অপছন্দ করতেন বা নিষেধ করতেন তা আমাকে বলুন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত দ্বারা এরূপ দেখালেন। আর আমার হাত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাত থেকে ছোট। বললেন- চার প্রকারের পশুর কুরবানী করা বৈধ নয় : কানা পশু, যার কানা হওয়া প্রকাশ্য; রোগা পশু, যার রোগ প্রকাশ্য; খোঁড়া পশু, যার খোঁড়া হওয়া প্রকাশ্য আর এমন দুর্বল পশু যার হাঁড়ে মজ্জা নেই। তিনি বললেনঃ আমি শিং এবং কানে ত্রুটি থাকাও অপছন্দ করি। তিনি বললেন, যা তোমার অপছন্দ হয় তা ত্যাগ কর; কিন্তু অন্য মুসলিমের জন্য তা হারাম করো না।