Sunan an Nasai
Sahih
4222

ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এখন ফারা এবং ‘আতীরা নেই।

Sahih
4223

মুহাম্মদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... মা'মার (রহঃ) ও সুফয়ান (রহঃ) যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল-মুসায়্যিব (রহঃ) থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাদের একজন বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফারা এবং আতীরা করতে নিষেধ করেছেন। অন্যজন বললেনঃ এখন আর ফারা ও আতীরা নেই।

Hasan
4224

আমর ইবন যুরারা (রহঃ) ... মিখনাফ ইবন সুলায়ম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আরাফায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে অবস্থানরত ছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ হে লোক সকল! প্রতি বছর প্রত্যেক পরিবারে একটি কুরবানী করা ওয়াজিব এবং একটি আতীরা। মুআয (রাঃ) বলেন, ইবন আউন রজবে ‘আতীরা করতেন, আমি স্বচক্ষে তা দেখেছি।

Hasan
4225

ইবরাহীম ইবন ইয়াকূব ইবন ইসহাক (রহঃ) ... শু‘আয়ব ইবন মুহাম্মদ এবং যায়দ ইবন আসলাম (রাঃ) বলেন, লোকেরা জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ফারা কী? তিনি বললেনঃ তা যথার্থ। যদি তোমরা ফারার জন্তু যবেহ না করে জওয়ান হওয়া পর্যন্ত রেখে দাও, তারপর তাকে আল্লাহর রাস্তায় দিয়ে দাও অথবা মিসকীন, বিধবাকে দান কর, তবে সেটাই উত্তম তাকে যবেহ করার চাইতে, যদ্দরুন তার মা এমন কৃশকায় হয়ে পড়বে যে, তার গোশত পশমের সাথে লেগে যাবে আর সেক্ষেত্রে যেন তুমি তার সবটা দুধ তোমার পাত্রে ঢেলে নিলে (অর্থাৎ তার দুধ শুকিয়ে যাবে) এবং তাকে শোকাহত করলে। লোকেরা জিজ্ঞাসা করলোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আতীরার কি হুকুম? তিনি বললেনঃ 'আতীরাও যথার্থ।

Daif
4226

সুওয়াদ ইবন নসর (রহঃ) ... হারিস ইবন আমর (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বিদায় হজ্জের সময় সাক্ষাত করেন, তখন তিনি তাঁর আযবা নামক উটনীর উপর সওয়ার ছিলেন। আমি তাঁর একদিকে এসে বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার মাতাপিতা আপনার উপর কুরবান হোক। আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তিনি বললেন, আল্লাহ্ তোমাদেরকে ক্ষমা করুন। এরপর আমি বিশেষভাবে আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনার উদ্দেশ্যে অন্যদিক দিয়ে তাঁর কাছে এসে বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তখন তিনি তাঁর হাত দ্বারা ইশারা করে বলেছেনঃ আল্লাহ্ তোমাদের সকলকে ক্ষমা করুন। তখন উপস্থিত লোকদের এক ব্যক্তি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! ‘আতীরা এবং ফারার ব্যাপারে আপনি কি বলেন? তিনি বললেনঃ যার ইচ্ছা আতীরা কর, আর যার ইচ্ছা করবে না। আর যার ইচ্ছা ফারা করবে, যার ইচ্ছা করবে না, কিন্তু বকরীর কুরবানী ওয়াজিব। তখন তিনি তাঁর একটি আঙ্গুল ব্যতীত সবগুলো আঙ্গুল গুটিয়ে নেন।

Daif
4227

হারূন ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... হারিস ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মিলিত হই, তখন আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মাতাপিতা আপনার উপর কুরবান হোক, আপনি আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের সকলকে ক্ষমা করুন। তখন তিনি তাঁর আযবা নামক উটনীর উপর উপবিষ্ট ছিলেন। এরপর আমি অন্যদিকে ঘুরে গেলাম ... হাদীসের শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করলাম।

Sahih
4228

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... নুবায়শা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা জাহেলী যুগে আতীরা করতাম। তিনি বললেনঃ যে কোন মাসে আল্লাহর জন্য যবেহ করো, নেকী করো, অভাবগ্রস্তকে আল্লাহর ওয়াস্তে খাওয়াও।

Sahih
4229

আমর ইবন আলী (রহঃ) ... নুবায়শা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মিনায় উচ্চস্বরে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা জাহিলী যুগে রজব মাসে ‘আতীরা করতাম, এখন আপনি আমাদেরকে কী আদেশ করেন? তিনি বললেনঃ যে কোন মাসেই আল্লাহর নামে যবেহ করতে পার, আল্লাহর জন্য নেককাজ কর এবং খাদ্য দান কর। সে ব্যক্তি বললোঃ আমরা তো ফারাও করতাম; এখন আপনি আমাদেরকে কী আদেশ করেন? তিনি বললেনঃ প্রত্যেক জন্তুতে, যারা চরে বেড়ায়, ফারা (শাবক) রয়েছে। তার মা তাকে খাওয়াতে থাকুক। যখন তা বড় হবে, তখন তাকে যবেহ করে গোশত সাদকা করে দিও।

Sahih
4230

আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) ... হুযায়ল গোত্রের এক ব্যক্তি নুবায়শা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি তিনদিনের বেশি কুরবানীর গোশত রাখতে নিষেধ করেছিলাম যাতে তোমাদের সকলে তা খেতে পায়। কিন্তু এখন আল্লাহ্ সচ্ছলতা দান করেছেন। অতএব এখন তোমরা খাও, দান কর এবং জমা করে রাখতে পার। আর এ সকল দিন হলো খাওয়া, পান করা এবং আল্লাহকে স্মরণ করার দিন। এক ব্যক্তি বললোঃ আমরা জাহিলী যুগে রজব মাসে ‘আতীরা করতাম। এখন আপনি কি আদেশ করেন? তিনি বললেনঃ আল্লাহর জন্য যবেহ কর, তা যে মাসেই হোক। আল্লাহর জন্য নেকী কর এবং অভাবগ্রস্তদেরকে খাদ্য দান কর। আর এক ব্যক্তি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা জাহিলী যুগে ফারা করতাম। এখন আপনি আমাদেরকে কী বলেন? তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বকরীতে ফারা রয়েছে। কিন্তু তোমরা তার মাকে খাওয়াতে দাও। যখন তা উপযুক্ত হয়, তখন তাকে যবেহ করবে এবং পথিকজনকে তার গোশত দান করবে। তা-ই উত্তম।

Sahih
4231

আবুল আশআস আহমদ ইবন মিকদাম (রহঃ) ... নুবায়শা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উচ্চস্বরে ডেকে বললোঃ আমরা জাহিলী যুগে ‘আতীরা করতাম। এখন আপনি আমাদের কী আদেশ করেন? তিনি বললেনঃ তা যবেহ কর, যে মাসেই হোক না কেন। আর আল্লাহর জন্য নেককাজ কর, লোকদেরকে খাওয়াও। সে বললোঃ আমরা জাহিলী যুগে ফারা করতাম। তিনি বললেনঃ প্রত্যেক জন্তু যা চরে বেড়ায় তাতে ফারা' (শাবক) রয়েছে। যখন তা উপযুক্ত হয়, তখন তাকে যবেহ করবে এবং গোশত সাদকা করবে, এটাই উত্তম।

Previous section
Page 1 of 5
Next section