। আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলিয়াত যুগের অধিবাসীদের জন্য প্রত্যেক বৎসরে দু'টি দিন ছিল, যাতে তারা খেল-তামশা করতো। যিখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমন করলেন তখন তিনি বললেন, তোমাদের জন্য দু'টি দিন ছিল, যাতে তোমরা খেল-তামশা করতে। এখন আল্লাহ তা'আলা তোমাদের জন্য উক্ত দু'দিনের পরিবর্তে তার চেয়েও অধিকতর উত্তম দু'টি দিন নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, ঈদুল ফিতরের দিন এবং কুরবানীর দিন।
। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আবু উমায়র ইবনু আনাসের চাচাদের থেকে বর্ণিত যে, একদল লোক রমযানের ত্রিংশতম দিনে চাঁদ দেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসল। তিনি তাদেরকে পরবর্তী দিনে, দিন উজ্জ্বল হওয়ার পর ইফতার করার এবং ঈদগাহে গমনের নির্দেশ দিলেন।
। আমর ইবনু যুরারাহ (রহঃ) ... হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) আমার মাতা-পিতা আপনার উপর কুরবান হোক, বলা ব্যতীত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে স্মরণ করতেন না। একবার আমি তাকে বললাম, তুমি কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ এরূপ বলতে শুনেছ? সে বলল হ্যাঁ; তার উপর আমার মাতা-পিতা কুরবান হোক। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, কিশোরী, যুবতী এবং ঋতুমতিগণ যেন বের হয় এবং তারা যেন ঈদগাহ এবং মুসলিমদের দোয়ায় উপস্থিত থাকে আর ঋতুমতিগণ যেন সালাতের স্থান থেকে দূরে অবস্থান করে।
। কুতায়বা (রহঃ) ... মুহাম্মাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাত করে তাকে বললাম, আপনি কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন? তিনি যখনই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে স্মরণ করতেন, বলতেন, আমার মাতা-পিতা আপনার উপর কুরবান হোক। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কিশোরী এবং যুবতীদেরকে রওয়ানা করে দেবে যাতে তারা ঈদের সালাতে এবং মুসলমালদের দোয়ায় উপস্থিত থাকতে পারে। আর ঋতুমতিগণ যেন মানুষের সালাতের স্থান থেকে দূরে অবস্থান করে।
। সুলায়মান ইবনু দাঊদ (রহঃ) ... সালিমের পিতা [আব্দুল্লাহ (রাঃ)] থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) একবার বাজারে এক জোড়া মোটা রেশমী পোষাক পেলেন। তিনি তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সমীপে নিয়ে আসলেন এবং বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি এটা ক্রয় করে নিন, যাতে ঈদে এবং কোন প্রতিনিধি দল আসলে আপনি তা পরিধান করতে পারেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, রেশমী পোষাক তাদেরই পোষাক যাদের ভাগ্যে পরকালে রেশমের কোন অংশ নেই অথবা (তিনি বলেছেন) রেশমী পোষাক তারাই পরিধান করবে, যাদের ভাগ্যে পরকালে রেশমের কোন অংশ নেই। উমর (রাঃ) আল্লাহ তা’আলার যতদিন ইচ্ছা ছিল অপেক্ষা করলেন। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন উমর (রাঃ) এর কাছে একটি রেশমী জুব্বা পাঠালেন। তিনি তা গ্রহণ করলেন, এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি বলেছিলেন, রেশমী পোষাক তাদেরই পোষাক যাদের ভাগ্যে পরকালে রেশমের কোন অংশ নেই। তা-ই আবার আমার কাছে পাঠালেন? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তা বিক্রি করে দাও এবং বিক্রয় লব্ধ অর্থ দ্বারা স্বীয় প্রয়োজন মিটাও।
। ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ... ছা'লাবা ইবনু যাহদাম (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আলী (রাঃ) আবূ মাসউদ (রাঃ)-কে জন সাধারণের প্রতিনিধি নির্বাচিত করে ঈদের দিন বের হয়ে গেলেন এবং বললেন, হে লোক সকল! ইমামের পূর্বে সালাত আদায় করা সূন্নাতে নববীতে আওতাভুক্ত নয়।
। কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে ঈদের দিনে সালাত আদায় করলেন খুৎবার পুর্বে আযান এবং ইকামাত ব্যতীত।
। মুহাম্মাদ ইবনু উসমান (রহঃ) ... বারা ইবনু আযিব (রাঃ) মসজিদের কোন এক খুঁটির নিকট দাঁড়িয়ে আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন খুৎবা দিলেন। তিনি বললেন, আজকের এ দিন আমরা যে কাজ দ্বারা প্রথমে শুরু করব তা হল আমরা সালাত আদায় করব তারপর কুরবানী করব। অতএব যারা অনুরূপ করবে তারা আমাদের সুন্নাত অনুযায়ী করবে। আর যারা সালাতের পুর্বে কুরবানী করবে তা শুধু গোশতই হবে, যা তাদের পবিবারবের্গের জন্য পূর্বেই যবেহ করে ফেলল (কুরবানী হবে না)। আবূ বুরদাহ ইবনু দীনার (রাঃ) সালাতের পূর্বেই যবেহ ফেললেন এবং বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার কাছে একটি এক বছর বয়সের ছাগলের বাচ্চা আছে যা বাহ্যিক দৃষ্টিতে দু'বছর বয়সের বাচ্চা অপেক্ষাও বেশী হৃষ্টপুষ্ট। তিনি বললেন, তুমি তাই কুরবানী করে দাও। কিন্তু তোমার পরে আর কারো জন্য তা যথেষ্ট হবে না।
। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর এবং উমর (রাঃ) উভয় ঈদের সালাত খুৎবার পূর্বে আদায় করতেন।
। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহার দিনে একটি লাঠি বের করতেন, তা মাটিতে পুঁতে দিতেন এবং তা সম্মুখে রেখে সালাত আদায় করতেন।