। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও হান্নাদ ইবনু সাররী (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইন্তিকাল করলেন, আনসার সম্পদায় বললেন, আমাদের মধ্য থেকে একজন আমীর হবে আর তোমাদের মধ্য থেকে একজন আমীর হবে। তাঁদের নিকট উমর (রাঃ) এসে বললেনঃ তোমরা কি জান না যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর (রাঃ)-কে আদেশ করেছিলেন, লোকের ইমাম হয়ে সালাত আদায় করতে? অতএব তোমাদের মধ্যে কার মন খুশি হবে আবূ বকরের অগ্রগামী হতে? তাঁরা বললেন, নাউযু বিল্লাহ! আমরা আবূ বকরের অগ্রবর্তী হতে চাই না।
। যিয়াদ ইবনু আইয়্যুব (রহঃ) ... আবূল আলিয়া বাররা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিয়াদ বিলম্বে সালাত আদায় করল। তারপর ইবনু সামিত (রাঃ) আমার নিকট আসলে আমি তাঁর জন্য একখানা কুরসী পেতে দিলাম। তিনি তার উপর উপবেশন করলেন। আমি তার নিকট যিয়াদের কান্ড বর্ণনা করলাম- তিনি তার ওষ্ঠদ্বয় কামড়ে ধরলেন এবং আমার উরুদেশ চেপে ধরলেন এবং বললেনঃ আমি আবূ যর (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যেমন তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করলে। তিনিও আমার উষ্ঠদেশে হাত মেরেছিলেন যেমন আমি হাত মেরেছি তোমার উরুর উপর এবং বলেছিলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যেমন তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করলে। তারপর তিনি আমার উরুতে হাত মারলেন, যেমন আমি তোমার উরুতে হাত মেরেছি। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেনঃ সালাত যথাসময়ে আদায় করবে। যদি তাদের সাথে সালাত পাও, তবে আদায় করে নিবে কিন্তু একথা বলো না যে আমি সালাত আদায় করে ফেলেছি এখন আর আদায় করবো না।
। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হয়ত তোমরা এমন লোকের সাক্ষাত পাবে যারা অসময়ে সালাত আদায় করবে। যদি তোমরা তাদের পাও, তাহলে সময়মত সালাত আদায় করবে এবং তাদের সাথে সালাত আদায় করবে এবং তা নফল ধরে নেবে।
। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দলের ইমামতি করবে ঐ ব্যাক্তি যে তাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব অধিক ভাল পাঠ করে। যদি তারা সকলেই কিরাআতে সমপর্যায়ভুক্ত হয়, তাহলে তাদের মধ্যে যে পূর্বে হিজরত করেছে। যদি তারা সকলেই হিজরতে সমপর্যায়ের হয়, তবে তাদের মধ্যে যে সুন্নাহ সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। যদি তারা সুন্নাহতেও যদি সমপর্যাযের হয়, তাহলে যার বয়স অধিক, সে ব্যক্তি। আর তুমি কোন ব্যক্তির কর্তূতের স্থানে ইমামতি করবে না। আর তুমি তার আসনে উপবেশন করবে না, হ্যাঁ, যদি তিনি তোমাকে অনুমতি দেন।
। হাজিব ইবনু সুলায়মান মানবিজী (রহঃ) ... মালিক ইবনু হুয়াইরিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় আমি এবং আমার এক চাচাত ভাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলাম। অন্য এক সময় বলেছেন, আমি এবং আমার এক সাথী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলে তিনি বললেনঃ যখন তোমরা সফর করবে, তখন তোমরা আযান দিবে এবং ইকামত বলবে, আর তোমাদের ইমামতি করবে, তোমাদের মধ্যে যে বয়সে বড়।
। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন তিন ব্যাক্তি একত্র হবে তখন তাদের একজন ইমামতি করবে আর তাদের মধ্যে ইমামতের অধিক হকদার সেই- যে বেশি কুরআন জানে।
। ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ তায়মী (রহঃ) ... আবূ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যাক্তির কর্তৃত্বের স্থানে অন্য কেউ তার ইমাম হবে না। অথবা তার বসার স্থানেও বসা যাবে না। হ্যাঁ, তার অনুমতি পেলে ভিন্ন কথা।
। কুতায়বা (রহঃ) ... সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট সংবাদ পৌঁছল যে, বনূ আমর ইবনু আউফ-এর মধ্যে কোন বিরোধ দেখা দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু লোকসহ তাদের মধ্যে মীমাংসা করার জন্য বের হলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে কাজে আটকা পড়লেন। ইত্যবসরে যোহরের সময় হলো। বিলাল (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ)-এর নিকট এসে বললেনঃ হে আবূ বকর (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো আটকা পড়েছেন, আর এদিকে সালাতের সময় হয়েছে। আপনি কি লোকদের ইমাম হবেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, যদি তুমি ইচ্ছা কর। তখন বিলাল (রাঃ) ইকামত বললেন আর আবূ বকর (রাঃ) সন্মুখে অগ্রসর হলেন। তিনি লোকদের নিয়ে সালাতের তাকবীর বললেন। এদিকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেঁটে এসে কাতারে দাঁড়ালেন। আর লোক (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপস্থিতির কথা জানানোর জন্য) হাত তালি দিতে লাগলেন। আবূ বকর (রাঃ) সালাতের মধ্যে এদিকে লক্ষ্য করছিলেন না। যখন লোক এগুলো বারবার করতে লাগলেন তখন তিনি লক্ষ্য করে দেখলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইঙ্গিতে সালাত আদায় করতে আদেশ করলেন। আবূ বকর (রাঃ) তার হস্তদ্বয় উত্তোলন করে আল্লাহর প্রশ্নংসা করলেন এবং পেছনে সরে আসলেন এবং সালাতের কাতারে দাঁড়িয়ে গেলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সম্মুখে অগ্রসর হয়ে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি সালাত শেয করে লোকদের দিকে ফিরে বললেনঃ হে লোক সকল! তোমাদের কি হলো যে সালাতে কোন সমস্যা দেখা দিলে তোমরা হাত তালি দিতে আরম্ভ কর? হাত তালি দেওয়া তো নারীদের জন্য। সালাতে কারো কোন সমস্যা দেখা দিলে সে যেন সূবহানাল্লাহ বলে। কেননা সুবহানাল্লাহ বলতে শুনলে সকলের তার দিকে লক্ষ্য করবে। (তারপর তিনি বললেনঃ) হে আবূ বকর! আমি যখন তোমার প্রতি ইঙ্গিত করলাম তখন সালাত আদায় করা থেকে তোমাকে কোনৃ বস্তু বিরত রাখলো? আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে আবূ কুহাফার পূত্রের ইমামতি করা শোভা পায় না।
। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ যে সালাত লোকের সাথে জামাআতে আদায় করেন তা ছিল আবূ বকর (রাঃ)-এর পেছনে। তিনি এক কাপড়ে সালাত আদায় করেছিলেন এবং বিপরীত দিক হতে কাঁধের ওপর কাপড় পরে বুকের ওপর এর দুপ্রান্তে গিট দিয়ে নিয়েছিলেন।
। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবূ বকর (রাঃ) লোকের ইমাম হয়ে সালাত আদায় করলেন আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন তাঁর পেছনের কাতারে।