Sahih Muslim
762.01

মুহাম্মাদ ইবনু মিহরান আর রায়ী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সারা বছর রাত জেগে সালাত আদায় করবে সে কদরের রাত প্রাপ্ত হবে। এ কথা শুনে উবাই ইবনু কা'ব বললেনঃ যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই মহান আল্লাহর কসম! নিশ্চিতভাবে লায়লাতুল কদর রমযান মাসে। এ কথা বলতে তিনি কসম করলেন কিন্তু ইনশা-আল্ল-হ বললেন না (অর্থাৎ তিনি নিশ্চিতভাবেই বুঝলেন যে, রমাযান মাসের মধ্যেই 'লায়লাতুল কদর' আছে)। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবার বললেন আল্লাহর কসম! কোন রাতটি কদরের রাত তাও আমি জানি। সেটি হ’ল এ রাত, যে রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সালাত আদায় করতে আদেশ করেছেন। সাতাশ রমযান তারিখের সকালের পূর্বের রাতটি সেই রাত। আর ঐ রাতের আলামাত বা লক্ষণ হ'ল- সে রাত শেষে সকালে সূর্য উদিত হবে তা উজ্জ্বল হবে কিন্তু সে সময় (উদয়ের সময়) তার কোন তীব্র আলোকরশ্মি থাকবে না (অর্থাৎ অন্য দিনের তুলনায় কিছুটা নিষ্প্রভ হবে)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫৫, ইসলামীক সেন্টার)

762.02

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... উবাই ইবনু কা'ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি 'লাইলাতুল কদর বা কদরের রাত সম্পর্কে বলেনঃ আল্লাহর কসম! আমি রাতটি সম্পর্কে জানি এবং এ ব্যাপারে আমি যা জানি তা হচ্ছে, যে রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সালাত আদায় করতে আদেশ করেছেন সেটিই অর্থাৎ সাতাশ তারিখের রাতই কদরের রাত। হাদীসটির ঐ অংশ সম্পর্কে 'যে রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সালাত আদায় করতে আদেশ করেছেন' শুবাহ সন্দেহ পোষণ করেছেন। বর্ণনাকারী শুবাহ বলেছেনঃ আমার এক বন্ধু (আবদাল্লাহ ইবনু আবূ লুবাবাহ) তার থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫৬, ইসলামীক সেন্টার)

762.03

উবায়দুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) ..... শুবাহ (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন। তবে শু'বাহ এ বর্ণনাতে সন্দেহ পোষণ করেছেন এবং এর পরের কথাগুলো উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫৭, ইসলামীক সেন্টার)

762.04

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও ইবনু উমার (রাযিঃ) ..... যির ইবনু হুবায়শ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) কে বললাম, আপনার ভাই আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, যে ব্যক্তি গোটা বছর রাত জাগরণ করে- সে কদরের রাতের সন্ধান পাবে। তিনি (উবাই) বললেন, আল্লাহ তাকে রহম করুন, এর দ্বারা তিনি এ কথা বুঝাতে চাচ্ছেন যে, লোকেরা যেন কেবল একটি রাতের উপর ভরসা করে বসে না থাকে। অথচ তিনি অবশ্যই জানেন যে, তা রমযান মাসে শেষের দশ দিনের মধ্যে এবং ২৭তম রজনী। অতঃপর তিনি দৃঢ় শপথ করে বললেন, তা ২৭তম রজনী। আমি (যির) বললাম, হে আবূল মুনযির! আপনি কিসের ভিত্তিতে তা বলছেন? তিনি বললেন, বিভিন্ন আলামাত ও নিদর্শনের ভিত্তিতে- যে সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে অবহিত করেছেন। যেমন, সেদিন সূর্য উদয় হবে কিন্তু তাতে আলোকরশ্মি থাকবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৪৪, ইসলামীক সেন্টার)

762.05

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... উবাই ইবনু কা'ব (রাযিঃ) কদরের রাত সম্পর্কে বলেন, আল্লাহর শপথ! কদরের রাত সম্পর্কে আমি খুব ভাল করেই জানি। শু'বাহ বলেন, আমার জানামতে তা হচ্ছে, সে রাত যে রাতে জেগে ইবাদাত করার জন্য রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। তা হচ্ছে রমযানের ২৭তম রজনী। “তা হচ্ছে সে রাত, যে রাতে ইবাদাত করার জন্য রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন।" এ বাক্যটুকু সম্পর্কে শুবাহ সন্দেহে পতিত হয়েছেন এবং বলেছেন, আমার এক বন্ধু তার শায়খের সূত্রে আমার নিকট ঐ কথা বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৪৫, ইসলামীক সেন্টার)