আহমাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... মুআয (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা তাবুক অভিযানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। (এ সফরে) তিনি যুহর ও আসর এবং মাগরিব ও ইশার সালাত একসাথে একই ওয়াক্তে আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫০১, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব (রহঃ) ..... মুআয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাবুক অভিযানকালে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর ও আসরের সালাত এবং মাগরিব ও ইশার সালাত একসাথে আদায় করেছেন। আবূ তুফায়ল বর্ণনা করেছেনঃ আমি মুআয ইবনু জাবালকে জিজ্ঞেস করলাম, কী কারণে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন? জবাবে মুআয ইবনু জাবাল বললেন- তিনি তার উম্মাতকে বাধ্যবাধকতার মধ্যে ফেলতে বা কষ্ট দিতে চাননি (এ কারণেই তিনি এরূপ করেছেন)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫০২, ইসলামীক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান দারিমী (রহঃ) ..... মুআয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাবুক যুদ্ধের বছর আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে (যুদ্ধে) বের হলাম। (এ সফরে) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) একসাথে আদায় করতেন। অর্থাৎ, যুহর ও আসর একসাথে আদায় করতেন, আর মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন। পরিশেষে একদিন (এমন) হলো যে, সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) দেরিতে আদায় করলেন। তারপর বের হয়ে এসে যুহর ও আসর একসাথে আদায় করলেন, তারপর (তাঁবুতে) ঢুকলেন। অতঃপর আবার বেরিয়ে এলেন এবং মাগরিব ও ইশা একসাথে আদায় করলেন। অতঃপর বললেন, ইনশাআল্লাহ তোমরা আগামীকাল তাবুক জলাশয়ে পৌছবে, তবে চাশতের সময় না হওয়া পর্যন্ত তোমরা সেখানে পৌছতে পারবে না। তোমাদের মাঝে যে (ই) সেখানে (প্রথমে) পৌছবে সে যেন তার পানির কিছুই স্পর্শ না করে- যতক্ষণ না আমি এসে পৌছি। আমরা (ঠিক সময়েই) সেখানে পৌঁছলাম। (কিন্তু) ইতোমধ্যে দু’ লোক আমাদের পূর্বে সেখানে পৌছে গিয়েছিল। আর প্রসবণটিতে জুতার ফিতার ন্যায় ক্ষীণ ধারায় সামান্য পানি বের হচ্ছিল। মুআয বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ দু'জনকে প্রশ্ন করলেন, তোমরা তা হতে কিছু পানি ছুয়েছে কি? ... তারা উভয়ে বলল, হ্যাঁ! তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দু'জনকে ভৎসনা করলেন। আর আল্লাহর যা ইচ্ছা তাই তাদের বললেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর লোকেরা তাদের হাত দিয়ে অঞ্জলি ভরে ভরে প্রসবণ হতে অল্প অল্প করে (পানি) তুলল, পরিশেষে তা একটি পাত্রে কিছু পরিমাণ জমা হলো। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মাঝে তার দু'হাত এবং মুখ ধুলেন এবং তারপরে তা (পানি) তাতে (প্রসবণে) উল্টিয়ে (ঢেলে) দিলেন। ফলে পানির প্রসবণটি প্রবল পানি ধারায় কিংবা বর্ণনাকারী বলেছেন, অধিক পরিমাণে প্রবাহিত হতে লাগল। আবূ আলী (রহঃ) সন্দেহ করেছেন যে, বর্ণনাকারী এর মধ্যে কোনটি বলেছেন। এবার লোকেরা পানি প্রয়োজন মতো পান করল। পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে মুআয! তুমি যদি দীর্ঘায়ু হও, তবে আশা করা যায় যে, তুমি দেখতে পাবে প্রসবণের এ জায়গাটি বাগানে ভরে গেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৭৪৮, ইসলামিক সেন্টার)