Sahih Muslim
33.01

শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন আমাকে মাহমুদ ইবনু রাবী' ইতবান ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন, মাহমূদ বলেন, আমি মদীনায় আসলাম এবং ইতবানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললাম, আপনার সূত্রে একটি হাদীস আমার কাছে পৌছেছে (সুতরাং ঘটনাটি আমাকে সবিস্তারে বলুন)। তিনি (ইতবান) বললেন, আমার দৃষ্টিশক্তি কিছুটা কমে যাওয়ায় আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এ মর্মে সংবাদ পাঠালাম যে, আমার ইচ্ছা আপনি আমার বাড়িতে এসে এক জায়গায় সালাত আদায় করবেন এবং আমি সে জায়গাটি সালাতের জন্য নির্দিষ্ট করে নিবো। তিনি (ইতবান) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসলেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তার সাথে তার কতিপয় সাহাবাও আসলেন। তিনি ঘরে প্রবেশ করেই সালাত আদায় করতে লাগলেন। আর তার সাহাবাগণ আপোষে কথাবার্তা বলতে থাকলেন। তাদের আলোচনার এক পর্যায়ে এসে তারা মালিক ইবনু দুখশুম* সম্পর্কে মস্ত বড় আপত্তিকর বদদু'আ করুন এবং সে ধ্বংস হয়ে যাক। আবার কেউ এ ইচ্ছাও প্রকাশ করলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বদদু'আ করুন এবং সে ধ্বংস হয়ে যাক। আবার কেউ এ বাসনাও প্রকাশ করলেন যে, যদি তার উপর আকস্মিক কোন দুর্ঘটনা নেমে আসতো তাহলে খুবই উত্তম হতো। ইত্যবসরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাত সমাপ্ত করলেন এবং জিজ্ঞেস করলে, সে (মালিক) কি এ কথার সাক্ষ্য দেয় না যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল"? লোকেরা বলল, সে মুখে বলে ঠিকই কিন্তু তার অন্তরে এর প্রতি কোন উপাস্য নেই। তিনি বললেন, "যে কেউ এ সাক্ষ্য দিবে যে, "আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল" সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। অথবা তিনি বলেছেন, আগুন তাকে গ্রাস করবে না। আনাস (রাযিঃ) বলেন, এ হাদীসটি আমার নিকট খুবই চমৎকার মনে হয়েছে। তাই আমি আমার পুত্রকে বললাম, এটা লিখে নাও। সুতরাং সে তা লিখে নিলো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

33.02

আবূ বকর ইবনু নাফি আল আবদী (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। ইতবান (রাযিঃ) অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এ বলে খবর পাঠালেন, আপনি আমার ঘরে তাশরীফ আনুন এবং আমার জন্য একটি সালাতের স্থান নির্দিষ্ট করে দেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সঙ্গীদের নিয়ে তাশরীফ আনলেন এবং মালিক ইবনু দুখশুম নামক এক ব্যক্তির কথা সেখানে উল্লেখ করা হলো ..... তারপর বর্ণনাকারী সুলাইমান ইবনু মুগীরার মতো হাদীসটি বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

33.03

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া আত তুজীবী (রহঃ) ..... মাহমুদ ইবনুর রাবী আল আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বাদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী আনসার সাহাবী ইতবান ইবনু মালিক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি আমার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছি। অথচ আমি আমার কওমের লোকদের ইমামাত করি। কিন্তু বৃষ্টি হলে তাদের ও আমার এলাকার মধ্যবর্তী উপত্যকা প্লাবিত হয়ে যায়। তাই আমি মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করাতে পারি না। (এভাবে আমিও জামা'আতে সালাত আদায় করা থেকে বঞ্চিত হই) হে আল্লাহর রসূল! তাই আমার আকাঙ্ক্ষা হলো, আপনি আমার বাড়ীতে গিয়ে একটি জায়গায় সালাত আদায় করবেন। সে স্থানটিকে আমি আমার সালাতের স্থান হিসেবে নির্দিষ্ট করে নিব। হাদীস বর্ণনাকারী মাহমূদ ইবনুর রাবী আল আনসারী বলেন, এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগীর আমি তা করব। ইতবান ইবনু মালিক আল আনসারী বলেনঃ পরদিন সকালে কিছুটা বেলা হলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকর (রাযিঃ) আসলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমার বাড়ীতে প্রবেশের) অনুমতি চাইলেন। আমি তাকে অনুমতি দিলে তিনি বাড়ীর ভিতরে গিয়ে না বসেই সোজা ঘরে প্রবেশ করলেন এবং আমাকে জিজ্ঞেস করলেন। ঘরের কোন স্থানে সালাত আদায় করলে তোমার ভাল হয়? আমি তখন তাকে ঘরের এক কোণের দিকে ইশারা করে দেখিয়ে দিলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে সালাত আদায় করতে দাঁড়ালেন। তিনি তাকবীরে তাহরীমা বললে আমরাও তার পিছনে দাঁড়িয়ে গেলাম। তিনি দু' রাকাআত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন। ইতবান ইবনু মালিক আল আনসারী বলেন- আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য ছোট ছোট টুকরা করে যে গোশত পাক করেছিলাম তা খাওয়ার জন্য তাকে তৎক্ষণাৎ চলে যেতে বাধা দিলাম। ইতোমধ্যে (খবর ছড়িয়ে পড়াতে) আমাদের আশে-পাশের বাড়ীর লোকজন ছুটে আসল। শেষ পর্যন্ত ঘরে বেশ কিছু সংখ্যক লোক জমে গেল। তাদের মধ্যে একজন বলল, মালিক ইবনুদ দুখশুন কোথায়? (তাকে তো দেখছি না!) অন্য একজন বলে উঠল, আরে, সে তো মুনাফিক। সে আল্লাহ এবং তার রসূলকে মোটেই পছন্দ করে না। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার সম্পর্কে এভাবে বলো না। তুমি কি মনে করো না যে, সে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই “লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ” বলেছে। অর্থাৎ- “আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই" বলে বিশ্বাস করেছে। ইতবান ইবনু মালিক আল আনসারী বলেন, এ কথা শুনে উপস্থিত সবাই বলল, আল্লাহ এবং তার রসূলই এ ব্যাপারে সর্বাধিক অবগত। একজন বলল, আমরা দেখি, সে মুনাফিকদের সাথে হাসিমুখে আলাপ করে এবং তাদের (উপদেশ দানের মাধ্যমে) কল্যাণ কামনা করে বা তাদের সাথে সলাপরামর্শ করে। (এ কথা শুনে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের নিমিত্তে 'লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ' বলেছে অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই বলে ঘোষণা করেছে, আল্লাহ তা'আলা তাকে জাহান্নামের জন্য হারাম করেছেন। বর্ণনাকারী ইবনু শিহাব বলেন- পরে আমি বানী সালিম গোত্রের নেতৃস্থানীয় হুসায়ন ইবনু মুহাম্মাদ আনসারীকে মাহমূদ ইবনুর রাবী’ বর্ণিত হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি হাদীসটির সত্যতা স্বীকার করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৬৯, ইসলামীক সেন্টার)

33.04

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' ও 'আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... ইতবান ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম। তবে এ হাদীসে তিনি এতটুকু অধিক বর্ণনা করেছেন যে, জনৈক ব্যক্তি বলে উঠল, মালিক ইবনুদ দুখশুন অথবা বলল (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) মালিক ইবনুদ দুখায়শিন কোথায়? তিনি হাদীসটিতে এতটুকু কথা অধিক বলেছেন যে, মাহমুদ ইবনুর রাবী’ বলেছেন, আমি এ হাদীসটি একদল লোকের কাছে বর্ণনা করলাম। তাদের মধ্যে (সহাবা) আবূ আইয়ুব আল আনসারীও ছিলেন। তিনি বললেন, তুমি যা বললে আমার মনে হয় না রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা বলেছেন। মাহমুদ ইবনুর রাবী’ বলেন, এ কথা শুনে আমি এ মর্মে শপথ করলাম যে ইতবান ইবনু মালিককে আবার জিজ্ঞেস করার জন্য তার কাছে ফিরে যাব। তিনি বলেছেনঃ অতঃপর আমি তার কাছে গেলাম। তখন তিনি অত্যন্ত বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এবং তার দৃষ্টিশক্তিও নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তিনি ছিলেন তার কওমের ইমাম। আমি গিয়ে পাশে বসে এ হাদীসটি সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি আমাকে প্রথমবারের মতো করে হাদীসটি বর্ণনা করে শুনালেন। হাদীসটির বর্ণনাকার যুহরী বলেছেন, এ ঘটনার পরেও আরো অনেক ফারয (ফরয) ও অন্যান্য বিষয়ে হুকুম আহকাম অবতীর্ণ হয়েছে। আমরা মনে করি যে, (হুকুম-আহকামের) বিষয়টি এর পরেই শেষ হয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি ধোকায় পড়তে না চায়, সে যেন এর দ্বারা ধোকায় না পড়ে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৭০, ইসলামীক সেন্টার)

33.05

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... মাহমুদ ইবনুর রাবী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বাড়ীতে একটি বালতি থেকে পানি নিয়ে যে কুল্লি করেছিলেন তা এখনো আমার মনে আছে। মাহমূদ ইবনুর রাবী বলেন, ইতবান ইবনু মালিক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি এভাবে হাদীসটি বর্ণনা করে, “তিনি আমাদের সাথে নিয়ে দু'রাকাআত সালাত আদায় করলেন। আর আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য পাকানো জাশীশাহ নামক খাবার খেতে তাকে ঠেকিয়ে রাখলাম পর্যন্ত" উল্লেখ করলেন। তবে এরপর ইউনুস ও মা'মার বর্ণিত অতিরিক্ত কথাটুকু তিনি উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৭১, ইসলামীক সেন্টার)