Sahih Muslim
1759.01

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, ফাতিমাহ বিনতু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর এর নিকট লোক পাঠালেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্পদে তার মীরাস এর দাবী করে, যা আল্লাহ তা'আলা তাকে মদীনাহ্ ও ফিদাক এর ফাই এবং খাইবারের অবশিষ্ট এক পঞ্চমাংশ থেকে প্রদান করেছেন। তখন আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গিয়েছেন- আমরা আমাদের (নবীগণের) পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে কাউকে ওয়ারিস রেখে যাই না। আমরা যা রেখে যাই তা হয় সদাকাহ (বাইতুল মাল)। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবারবর্গ তা থেকে জীবিকা গ্রহণ করবেন। আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়কালে সদাকাহর যে অবস্থা চালু ছিল, তা আমি পরিবর্তন করব না। আর এতে আমি নিশ্চয়ই সে কাজ করবো, যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করে গিয়েছেন। অতএব, আবূ বাকর (রাযিঃ) ফাতিমাহ্ (রাযিঃ) কে তা থেকে কিছু প্রদান করতে অস্বীকার করলেন। সুতরাং ফাতিমাহ্ (রাযিঃ) এতে রাগান্বিত হয়ে তাকে পরিত্যাগ করলেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে কোন কথা বলেননি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তিকালের পর তিনি ছয় মাস জীবিত ছিলেন। এরপর যখন তিনি ইন্তিকাল করলেন, তখন তার স্বামী আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযিঃ) তাকে রাতে দাফন করলেন এবং ফাতিমাহ (রাযিঃ) এর মৃত্যু সংবাদ পর্যন্ত আবূ বকর (রাযিঃ) কে দেননি। আলী (রাযিঃ) তার জানাযার সালাত আদায় করলেন। ফাতিমাহ (রাযিঃ) এর জীবিতকাল পর্যন্ত আলী (রাযিঃ) এর প্রতি জনগণের বিশেষ মর্যাদাবোধ ছিল। এরপর যখন তার ইন্তিকাল হলো তখন তিনি লোকের চেহারায় অপছন্দনীয় ভাব দেখতে পেলেন। অতএব তিনি আবূ বাকর (রাযিঃ) এর সঙ্গে ফায়সালা করে তার বাই’আতের প্রার্থনা করলেন। কেননা তিনি ঐ মাসগুলোতে তার বাই’আত গ্রহণ করেননি। তারপর ‘আলী (রাযিঃ) আবূ বাকর (রাযিঃ) এর নিকট লোক পাঠিয়ে সংবাদ দিলেন যে, আপনি একাকী আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করুন। আপনার সাথে অন্য কাউকে আনবেন না। কেননা, তিনি উমার (রাযিঃ) এর আগমনকে অপছন্দ করছিলেন। উমার (রাযিঃ) আবূ বাকরকে বললেন, আল্লাহর কসম! আপনি একাকী তাদের কাছে যাবেন না। আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, আমি আশংকা করিনি যে, তারা আমার সাথে কিছু করবেন। আল্লাহর কসম! আমি একাকীই যাব। পরিশেষে আবূ বাকর (রাযিঃ) তাদের কাছে গেলেন। এরপর ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযিঃ) তাশাহহুদ তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য বাণী পাঠ করলেন, তারপর বললেন, হে আবূ বাকর! আপনার মর্যাদা এবং আল্লাহ তা'আলা আপনাকে যে সম্মান প্রদান করেছেন, তা আমরা জানি। আর আল্লাহ তা'আলা আপনাকে যে নি'আমাত প্রদান করেছেন, তাতে আমাদের কোন হিংসা নেই। কিন্তু আপনি আমাদের উপেক্ষা করে খিলাফাতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আত্মীয়তার কারণে আমরা মনে করতাম যে, আমাদেরও অধিকার আছে। আবূ বাকরের সঙ্গে তিনি এভাবে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পরিশেষে আবূ বাকর (রাযিঃ) এর দু'চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হলো। এরপর যখন আবূ বাকর (রাযিঃ) কথা বলতে শুরু করলেন, তখন তিনি বললেন, যার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ করে বলছি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আত্মীয়দের প্রতি উত্তম আচরণ করা আমার কাছে অধিক প্রিয় আমার নিজ আত্মীয়ের প্রতি ভাল আচরণের চেয়েও। তবে আমার এবং আপনাদের মধ্যে এ সম্পদ নিয়ে যে দ্বন্দ শুরু হয়েছে তাতে আমি সত্য পরিহার করব না। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এতে যা করতে দেখেছি তা আমি পরিত্যাগ করব না। এরপর ‘আলী (রাযিঃ) আবূ বাকর (রাযিঃ) কে বললেন যে, আমি বাই’আতের জন্য আপনাকে আজ বিকাল বেলায় কথা দিলাম। যখন আবূ বাকর (রাযিঃ) যুহরের সালাত শেষ করলেন তখন তিনি মিম্বারে আরোহণ করলেন এবং তাশাহহুদ পাঠ করলেন। এরপর তিনি ‘আলী (রাযিঃ) এর ঘটনা বর্ণনা করেন এবং তার বাই’আত গ্রহণে বিলম্ব ও এ বিষয়ে তার ওযর বর্ণনা করেন, যা তার কাছে বর্ণনা করা হয়েছিল। এরপর তিনি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তারপর আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযিঃ) তাশাহহুদ পাঠ করলেন এবং আবূ বাকর (রাযিঃ) এর মহত্ত্ব বর্ণনা করলেন। আর তিনি ব্যক্ত করলেন যে, তিনি যা করেছেন, তা আবূ বাকর (রাযিঃ) এর প্রতি হিংসা পোষণ করে নয়। আর না আছে আমাদের প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত কোন সম্মান ও নি’আমাতের অস্বীকৃতি। বরং আমরা মনে করতাম যে, খিলাফতের মধ্যে আমাদেরও অংশ আছে। কিন্তু আবূ বাকর (রাযিঃ) আমাদের উপেক্ষা করে এ কাজের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এতে আমরা মনঃক্ষুন্ন হয়েছি। এ কথা শুনে মুসলিমগণ আনন্দিত হলেন এবং তারা বললেন যে, আপনি তা ঠিক বলেছেন। তখন তিনি কল্যাণের প্রতি ফিরে এলেন অর্থাৎ- তখন মনোমালিন্যের অবসান হলো এবং আবূ বাকর (রাযিঃ) এর বাই’আত গ্রহণ করা হলো, তখন থেকে মুসলিমগণ আলী (রাযিঃ) এর সংস্পর্শে আসতে লাগলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪২৮, ইসলামিক সেন্টার)

1759.02

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’ ও ‘আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, ফাতিমাহ্ এবং আব্বাস (রাযিঃ) উভয়েই আবূ বাকর (রাযিঃ) এর নিকট আগমন করলেন, তখন তারা উভয়ে ফেদাকের ভূমি ও খাইবারের প্রাপ্য অংশ দাবী করলেন। তখন আবূ বাকর (রাযিঃ) উভয়কে বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি... এরপর যুহরী (রহঃ) হতে উকায়ল কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের মর্মার্থের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। কিন্তু তিনি তাছাড়া এতে বর্ণনা করলেন যে, এরপর আলী (রাযিঃ) দাঁড়ালেন এবং আবূ বাকর (রাযিঃ) এর যোগ্যতা ও মর্যাদা বর্ণনা করলেন এবং তার সর্বকাজে উল্লেখ করলেন। এরপর তিনি আবূ বাকর (রাযিঃ) এর কাছে গেলেন এবং তার অগ্রগামীরা বাই’আত গ্রহণ করলেন। তারপর জনগণ আলী (রাযিঃ) এর নিকট এসে বললেন, আপনি ঠিকই করেছেন, আপনি ভালই করেছেন। যখন আলী (রাযিঃ) কল্যাণকর ব্যবস্থার নিকটবর্তী হলেন, তখন লোকজনও তার সংস্পর্শে আসতে লাগলো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪২৯, ইসলামিক সেন্টার)

1759.03

ইবনু নুমায়র, যুহায়র ইবনু হারব ও হাসান ইবনু ‘আলী হুলওয়ানী (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা ফাতিমাহ (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তিকালের পর আবূ বাকর (রাযিঃ) এর নিকট রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিত্যক্ত সম্পত্তির যা আল্লাহ তাকে দিয়েছেন নিজের প্রাপ্য অংশ দাবী করেন। তখন আবূ বাকর (রাযিঃ) তাকে বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা (নবীগণ) সম্পত্তিতে কাউকে উত্তরাধিকার রেখে যাই না। আমরা যা রেখে যাই তা হবে সদাকাহ। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তিকালের পর ফাতিমাহ্ (রাযিঃ) ছয় মাস জীবিত ছিলেন। ফাতিমাহ্ (রাযিঃ) আবূ বাকর (রাযিঃ) এর নিকট তার সে প্রাপ্য অংশ চেয়েছিলেন- যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবার, ফিদাক এবং মাদীনার (সদাকাহ্) দান থেকে রেখে গিয়েছেন। আবূ বাকর (রাযিঃ) তাকে তা প্রদান করতে অস্বীকার করলেন এবং বললেন, আমি এমন কাজ ছেড়ে দেব না যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করতেন। কেননা আমি ভয় করি যে, যদি তার কোন কাজ পরিত্যাগ করি, তবে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবো। তবে হ্যাঁ, মাদীনার (সদাকার) দানের মাল উমর (রাযিঃ) তার সময়ে আলী এবং আব্বাসকে প্রদান করেছিলেন। কিন্তু আলী (রাযিঃ) একাকীই সে সম্পদ অধিকার করে নেন। আর খাইবার এবং ফিদাকের সম্পদ উমার (রাযিঃ) নিজের দায়িত্বে রাখলেন এবং বললেন, এ ছিল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রয়োজন মেটানোর জন্য এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যয়ের জন্য। এ দু'টাে সম্পদের দায়িত্ব থাকে মুসলিমদের আমীরের উপর। বর্ণনাকারী বলেন, এ উভয় সম্পদের বণ্টন ব্যবস্থা আজ পর্যন্ত তদ্রুপই আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৩০, ইসলামিক সেন্টার)