কুতাইবাহ্ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... মুসআব ইবনু সা'দ (রহঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, আমার পিতা যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক পঞ্চমাংশ হতে কিছু বস্তু নিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলেন, এটি আমাকে উপটৌকন প্রদান করুন। তিনি অস্বীকার করেন। তখন আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ "তারা আপনার কাছে যুদ্ধলব্ধ দ্রব্য সম্ভার সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করে, আপনি বলে দিন, যুদ্ধলব্ধ দ্রব্য সম্ভার আল্লাহ ও রসূলের" আয়াতটি শেষ পর্যন্ত নাযিল হলো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪০৬, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... মুসআব বিন সা'দ (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমার সম্বন্ধে চারটি আয়াত নাযিল হয়েছে। আমি একটি তলোয়ার পেলাম। এরপর সেটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে নিয়ে এসে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি এটি আমাকে দান করুন। তিনি বললেনঃ তুমি এটি রেখে দাও। তারপর আবার দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এটি আমাকে প্রদান করুন। তখনও তিনি বললেন, এটি যেখান থেকে নিয়েছে সেখানে রেখে দাও। তারপর তিনি আবার দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এটি আমাকে দিয়ে দিন। আমাকে কি সে ব্যক্তির মতো গণ্য করা হলো যার এটার দরকার নেই? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি এটি যেখান থেকে নিয়েছ সেখানে রেখে দাও। এরপর এ আয়াত নাযিল হয়ঃ (অর্থ) "তারা আপনাকে যুদ্ধলব্ধ দ্রব্যসম্ভার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলুন, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আল্লাহ ও রসূলের জন্য".....। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪০৭, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... মুসআব ইবনু সা'দ (রাযিঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণিত যে, তার সম্বন্ধে কুরআনের কতক আয়াত নাযিল হলো। তার মা কসম করে ফেলেছে যে, তিনি ইসলামকে যতক্ষণ অস্বীকার না করবেন ততক্ষণ তাঁর সঙ্গে কথা বলবে না, খাবেও না, পানও করবে না। সে বলল, আল্লাহ তা'আলা তোকে নির্দেশ করেছেন, পিতা-মাতার কথা মেনে চলতে। আর আমি তোর মা। আমি তোকে এ আদেশ করছি। মা তিন দিন পর্যন্ত কোন খাদ্য গ্রহণ করল না। যাতনায় সে অজ্ঞান হয়ে গেলে 'উমারাহ নামক তার এক পুত্র তাকে পানি পান করাল। মা সা'দের উপর বদদুআ করতে লাগল। তখন আল্লাহ তা’আলা কুরআন মাজীদে এ আয়াত নাযিল করলেনঃ “আমি মানুষকে আদেশ করেছি তার পিতামাতার প্রতি উত্তম আচরণ করতে। তবে ওরা যদি তোমার উপর শক্তি প্রয়োগ করে আমার সঙ্গে এমন কিছু শারীক করতে যার সম্বন্ধে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তুমি তাদের আনুগত্য করো না”— (সূরাহ্ আল আনকাবূত ২৯ঃ ৮)। “আর পৃথিবীতে তাদের সঙ্গে সম্ভাবে বসবাস করবে”- (সূরা আল লুকমান ৩১ঃ ১৫)। সা'দ বলেন, একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে বিপুল সংখ্যক যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আসলো। এতে একটি তরবারিও ছিল। আমি সেটা নিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললাম, এ তরবারিটি আমাকে দিন। আর আমার অবস্থা কি তা আপনি জানেনই। তিনি বললেন, এটা যেখান থেকে নিয়েছো সেখানেই রেখে দাও। আমি গেলাম এবং ইচ্ছে করলাম যে, এটাকে ভাণ্ডারে রেখে দেই; কিন্তু আমার মন আমাকে বঞ্চনা করল। অমনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ফিরে আসলাম। বললাম, আমায় এটা দান করুন। তিনি উচ্চস্বরে বললেন, এটা যেখান থেকে এনেছো সেখানে রেখে দাও। তখন আল্লাহ তা'আলা নাযিল করলেনঃ “তারা আপনাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে"- (সূরা আল আনফাল ৮ঃ ১)। তিনি বলেন, আমি অসুস্থ বিধায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আসতে বললাম, তিনি আসলেন। আমি বললাম, আমাকে অনুমতি দান করুন, আমি যাকে ইচ্ছা তাকে আমার ধন-সম্পদ ভাগ করে দিয়ে দেই। তিনি অস্বীকার করলেন। আমি বললাম, তবে অর্ধেক ধন-সম্পদ দিয়ে দেই। তিনি তাও স্বীকৃতি দিলেন না। আমি বললাম, তবে তবে এক তৃতীয়াংশ সম্পদই দিয়ে দেই। তিনি চুপ হয়ে রইলেন। পরবর্তীতে এক তৃতীয়াংশ ধন-সম্পদ দান করাই অনুমোদিত হলো। সা'দ বলেন, একবার আমি আনসার ও মুহাজিরদের কতিপয় ব্যক্তির নিকট গেলাম। তারা আমাকে বলল, এসো তোমায় আমরা আহার করাব এবং মদ পান করাব। এ ঘটনা মদ হারাম হওয়ার পূর্বের। আমি তাদের নিকট একটি বাগিচায় গেলাম। সেখানে উটের মাথার গোশত ভুনা হয়েছিল আর মদের একটা মশক ছিল। আমি তাদের সাথে গোশত খেলাম এবং মদ পান করলাম। সেখানে মুহাজির ও আনসারগন আলোচনা কালে আমি বললাম, মুহাজিররা আনসারদের তুলনায় উত্তম। এক ব্যক্তি মাথার একটি হাড় দিয়ে আমাকে আঘাত করল। আমার নাকে যখম হয়ে গেল। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তা উল্লেখ করলাম। তখন আল্লাহ তা'আলা আমার সম্বন্ধে আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ "মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক তীর ঘৃণ্য বস্তু যা শাইতানের কাজ"- (সূরা আল-ময়িদাহ ৫ঃ ৯০)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০২০, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... মুসআব ইবনু সা'দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমার সম্পর্কে চারটি আয়াত নাযিল হয়েছে। অতঃপর পূর্বোল্লিখিত হাদীসের অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করলেন। শু'বাহ কেবল এটুকু কথা অতিরিক্ত বলেছেন- “সা'দ (রাযিঃ) বলেন, মানুষেরা আমার মাকে খাবার খাওয়ানোর সময় একটি কাঠি দিয়ে তাঁর মুখ খুলত, পরে তার মুখে খাদ্য দিত।” এ বর্ণনায় এরূপ রয়েছে, "সাদের নাকে আঘাত হানল তাতে তার নাক ভেঙ্গে গেল। আর সাদের নাক ভাঙ্গাই ছিল"। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০২১, ইসলামিক সেন্টার)