Sahih Muslim
1406.01

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... রাবী' ইবনু সাবরাহ আল জুহানী (রহঃ) থেকে তার পিতা সাবরাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মুত্'আর অনুমতি দিলেন। অতঃপর আমি ও অপর এক ব্যক্তি বানু আমির গোত্রের একটি মহিলার নিকট গেলাম। সে ছিল দেখতে লম্বা ঘাড় বিশিষ্ট তরুণ উষ্ট্রীর ন্যায়। আমরা নিজেদেরকে তার নিকট (মুত্'আহ বিবাহের জন্য) পেশ করলাম। সে বলল, আমাকে কী দিবে? আমি বললাম, আমার চাঁদর। আমার সাথীও বলল, আমার চাঁদর। আমার চাঁদরের তুলনায় আমার সঙ্গীর চাঁদরটি ছিল উৎকৃষ্টতর, কিন্তু আমি ছিলাম তুলনায় কম বয়সের যুবক। সে যখন আমার সঙ্গীর চাঁদরের প্রতি তাকায় তখন তা তার পছন্দ হয় এবং বলল, তুমি এবং তোমার চাঁদরই আমার জন্য যথেষ্ট। অতএব আমি তার সাথে তিনদিন অতিবাহিত করলাম। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কারো কাছে মুত্'আহ বিবাহের সূত্রে কোন স্ত্রী লোক থাকলে সে যেন তার পথ ছেড়ে দেয় (ত্যাগ করে)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৮৫, ইসলামীক সেন্টার)

1406.02

আবূ কামিল ফুযায়ল ইবনু হুসায়ন (রহঃ) ..... রাবী' ইবনু সাবরাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তার পিতা মাক্কাহ্ (মক্কা) বিজয়াভিযানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বলেন, আমরা তথায় ১৫ দিন অর্থাৎ পূর্ণ ১৩ দিন এবং এক দিন ও এক রাত অবস্থান করি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মুত্'আর অনুমতি দিলেন। তখন আমি ও আমার গোত্রের এক ব্যক্তি বেরিয়ে পড়লাম। আমি তার তুলনায় আকর্ষণীয় চেহারার অধিকারী ছিলাম এবং সে ছিল প্রায় কুৎসিত। আমাদের উভয়ের সাথে একটি করে চাঁদর ছিল। আমার চাঁদরটি ছিল পুরাতন এবং আমার চাচাতো ভাইয়ের চাঁদরটি ছিল সম্পূর্ণ নতুন। অবশেষে আমরা মাক্কার (মক্কার) নিম্নভূমিতে অথবা উচ্চভূমিতে পৌছে একটি যুবতী মেয়ের সাক্ষাৎ পেলাম, যাকে দেখতে অনেকটা উঠতি বয়সের চালাক এবং লম্বাঘাড় বিশিষ্ট উষ্ট্রীর মত। আমরা প্রস্তাব দিলাম, আমাদের দু'জনের কারো সাথে তোমার মুত্র'আহ বিবাহ কি সম্ভব? সে বলল, তোমরা কী বিনিময় দিবে? তাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ চাঁদর মেলে ধরল। সে তাদের উভয়ের দিকে তাকাতে লাগল। আমার সঙ্গীও তার দিকে তাকাল। যখন স্ত্রীলোকটির দিকে তাকিয়ে বলল, তার এ চাঁদর পুরাতন এবং আমার চাঁদর একেবারে নতুন। স্ত্রীলোকটি তিনবার কি দু’বার বলল, তার চাঁদরটি গ্রহণে কোন ক্ষতি নেই। অতঃপর আমি তাকে মুত'আহ বিবাহ করলাম এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা হারাম ঘোষণা না করা পর্যন্ত ফিরে আসিনি।। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৮৬, ইসলামীক সেন্টার)

1406.03

আহমাদ ইবনু সাঈদ ইবনু সখর আদ দারিমী (রহঃ) ..... সাবরাহ আল জুহানী (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মাক্কাহ (মক্কা) বিজয়ের বছর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মাক্কায় (মক্কায়) রওনা হলাম .....বাকী অংশ উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তবে এতে রয়েছে, স্ত্রীলোকটি বলল, “এটা কি ঠিক হবে? তার চাঁদরটি পুরাতন এবং ছিড়ে গেছে।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৮৭, ইসলামীক সেন্টার)

1406.04

মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... সাবরাহ্ আল জুহানী (রাযিঃ) বলেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলেন। তিনি বললেন, হে লোক সকল! আমি তোমাদেরকে স্ত্রীলোকদের সাথে মুত'আহ বিবাহের অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু অচিরেই আল্লাহ তা'আলা তা হারাম করেছেন কিয়ামতের দিন পর্যন্ত। অতএব যার নিকট এ ধরনের বিবাহ সূত্রে কোন স্ত্রীলোক আছে, সে যেন তার পথ ছেড়ে দেয়। আর তোমরা তাদের যা কিছু দিয়েছে তা কেড়ে দিও না।। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৮৮, ইসলামীক সেন্টার)

1406.05

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আবদুল আযীয ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে এ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি সাবরাহ আল জুহানী (রাযিঃ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে (কা’বার) দরজা ও রুকনের মাঝে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি ..... বাকী অংশ উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৮৯, ইসলামীক সেন্টার)

1406.06

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবদুল মালিক ইবনু রাবী' ইবনু সাবরাহ আল জুহানী (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (দাদা) বলেন, মাক্কাহ (মক্কা) বিজয়ের বছর আমাদের মাক্কায় (মক্কায়) প্রবেশকালে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মুত'আহ বিবাহের অনুমতি দান করেন। তিনি আমাদের তা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত (নারী সঙ্গ ত্যাগ করে) বের হয়ে আসিনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৯০, ইসলামীক সেন্টার)

1406.07

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... সাবরাহ ইবনু মা'বাদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কাহ (মক্কা) বিজয়ের বছর তার সাহাবীগণকে স্ত্রীলোকদের সাথে মুত্'আর অনুমতি দেন। সারাহ (রাযিঃ) বলেন, তখন আমি এবং সুলায়ম গোত্রের আমার এক সাথী বের হয়ে পড়লাম এবং শেষ পর্যন্ত আমি গোত্রের এক যুবতীকে পেয়ে গেলাম। সে ছিল দীর্ঘাঙ্গী যুবতী উটনীর ন্যায়। আমরা তার নিকট মুত'আহ বিবাহের প্রস্তাব দিলাম এবং আমাদের চাঁদর তার সামনে পেশ করলাম। তখন সে তাকিয়ে দেখল এবং আমাকে আমার সঙ্গীর তুলনায় সুন্দর দেখতে পেল, অপরদিকে আমার চাঁদরের তুলনায় আমার সঙ্গীর চাঁদর উৎকৃষ্টতর দেখল। সে মনে মনে কিছুক্ষণ চিন্তা করল। অতঃপর আমার সঙ্গীর চাইতে আমাকে অগ্রাধিকার দিল। তারা আমাদের সাথে তিন দিনের মুত'আহ করল। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিদায় করে দেয়ার জন্য আমাদের নির্দেশ দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৯১, ইসলামীক সেন্টার)

1406.08

আমর আন নাকিদ ও ইবনু নুমায়র (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... রাবী' ইবনু সাবরাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুত্'আহ (বিবাহ) করতে নিষেধ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৯২, ইসলামীক সেন্টার)

1406.09

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... রাবী' ইবনু সাবরাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কাহ (মক্কা) বিজয়ের দিন মুত্'আহ নিষিদ্ধ করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৯৩, ইসলামীক সেন্টার)

1406.10

হাসান আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... রাবী' ইবনু সাবরাহ আল জুহানী (রহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কাহ (মক্কা) বিজয়ের কালে স্ত্রীলোকদের সাথে মুত্'আহ করতে নিষেধ করেছেন। তাঁর পিতা দুটি লাল চাঁদরের বিনিময়ে মুত্'আহ করেছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৯৪, ইসলামীক সেন্টার)

1406.11

হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ...... উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) মাক্কায় (মক্কায়) (ভাষণ দিতে) দাঁড়িয়ে বললেন, কিছু লোক এমন আছে আল্লাহ তা'আলা যেমন তাদের চোখ অন্ধ করে দিয়েছেন তেমনি অন্তরকেও অন্ধ করে দিয়েছেন। তারা মুত'আর পক্ষে ফাতাওয়া দেয়। এ কথা বলে তিনি এক ব্যক্তির প্রতি ইঙ্গিত করলেন। সে ব্যক্তি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)। তাকে ডেকে বললেন, তুমি একটি অসভ্য ও কাণ্ডজ্ঞানহীন ব্যক্তি। আমার জীবনের শপথ! ইমামুল মুত্তাকীন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে মুত'আহ প্রচলিত ছিল। ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) তাকে বললেন, আপনি নিজে একবার করে দেখুন। আল্লাহর শপথ আপনি যদি তা (মুত্'আহ) করেন তাহলে আপনার জন্য নির্ধারিত পাথর দিয়েই আপনাকে রজম (পাথর নিক্ষেপে হত্যা) করব। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, খালিদ ইবনুল মুহাজির ইবনু সাইফুল্লাহ (রহঃ) আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি এক ব্যক্তির নিকট বসা ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি এসে তাকে মুত্'আহ সম্পর্কে ফাতাওয়া জিজ্ঞেস করে। তিনি তাকে মুত'আর অনুমতি দিলেন। ইবনু আবূ আমরাহ্ আল আনসারী (রাযিঃ) তাকে বললেন, থামুন। সে বলল, কেন? আল্লাহর শপথ ইমামুল মুত্তাকীন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে তা করা হত। ইবনু আবূ আমারাহ (রাযিঃ) বললেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগে নিরুপায় অবস্থায় তার অনুমতি ছিল (যেমন নিরুপায় অবস্থায়) মৃত জীব, রক্ত ও শূকরের (গোশত ভক্ষণের) ন্যায়। অতঃপর আল্লাহ তার দীনকে শক্তিশালী এবং সুদৃঢ় করলেন এবং তা নিষিদ্ধ করলেন। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, রাবী' ইবনু সাবরাহ আল জুহানী আমাকে জানিয়েছেন যে, তার পিতা বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে আমি দুটি লাল চাঁদরের বিনিময়ে আমির গোত্রের একটি স্ত্রীলোকের সাথে মুত্'আহ করেছিলাম। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মুত্'আহ করতে নিষেধ করেন। ইবনু শিহাব (রহঃ) আরও বলেন, আমি রাবী ইবনু সাবরাহকে উমর ইবনু আবদুল আষীয (রহঃ) এর নিকট তা বর্ণনা করতে শুনেছি, আমি তখন (সেখানে) বসা ছিলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৯৫, ইসলামীক সেন্টার)

1406.12

সালামাহ ইবনু শাবীব (রহঃ) ..... রাবী' ইবনু সাবরাহ আল জুহানী (রহঃ) তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুত্'আহ নিষিদ্ধ করেছেন এবং বলেছেন, সাবধান! আজকের এ দিন থেকে কিয়ামত পর্যন্ত মুত'আহ হারাম। যে কেউ (ইতোপূর্বে) মুত'আহ বাবদ যা কিছু দিয়েছে, সে যেন তা ফেরত না দেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৯৬, ইসলামীক সেন্টার)