আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) .... ইবরাহীম আত্ তায়মী (রহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী ইবনু আবূ তুলিব (রাযিঃ) আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, আমাদের (আহলে বায়ত) কাছে আল্লাহর কিতাব ছাড়া যা আমরা পাঠ করি এবং এ সহীফাহ্ রাবী বলেন, অর্থাৎ ঐ সহীফাহ্ যা তার তরবারির খাপে ঝুলন্ত ছিল তা ছাড়া কিছু আছে, সে মিথ্যা বলে। এ সহীফায় উটের বয়স* এবং কিছু যখমের বর্ণনা ছিল। এর মধ্যে আরও ছিল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মাদীনার আয়র ও সাওর এর মধ্যবর্তী স্থান হারাম। এখানে যে ব্যক্তি কোন বিদআতী কর্মে লিপ্ত হয় অথবা কোন বিদ'আতীকে আশ্রয় দেয়, তার উপর আল্লাহ, তার মালায়িকার ও সমগ্র মানব জাতির লানাত। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার কোন ফারয (ফরয) ও নাফল ইবাদাত কবুল করবেন না। মুসলিমদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা প্রদানে সকলে সমান। তাদের নিম্নস্তরের একজনের প্রদত্ত নিরাপত্তাও কার্যকর। যে অন্য পিতার সাথে নিজ বংশ দাবী করে অথবা নিজ মুনীবের পরিবর্তে অন্য মুনীবের সাথে নিজেকে সম্পর্কিত করে তার উপর আল্লাহ, তার ফেরেশতাদের ও সমগ্র মানব জাতির লা'নাত। আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তার ফারয (ফরয) বা নাফল কোন ইবাদাতই গ্রহণ করবেন না। রাবী বলেন, আবূ বাকর ও যুহায়রের হাদীস শেষ হয়ে গেছে "তাদের নিম্নস্তরের একজনের প্রদত্ত নিরাপত্তাও কার্যকরী" এ কথা পর্যন্ত। তারা এর পরবতী অংশ উল্লেখ করেননি। তাদের উভয়ের বর্ণনায় "তার তরবারির খাপে ঝুলন্ত" কথাটুকু উল্লেখিত হয়নি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৯৩, ইসলামীক সেন্টার)
‘আলী ইবনু হুজুর আস্ সাদী, আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে উল্লেখ আছে “যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের সাথে (নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর) বিশ্বাসঘাতকতা করে তার উপর আল্লাহ, তার মালায়িকার ও সমগ্র মানব জাতির লা'নাত। কিয়ামতের দিন তার ফারয (ফরয) বা নাফল কোন ইবাদাতই কবুল করা হবে না। তাদের (‘আলী ও ওয়াকী) উভয়ের বর্ণনায় “যে ব্যক্তি নিজ পিতৃ পরিচয়ের পরিবর্তে অন্য পিতৃ পরিচয়ের দাবী করে কথাটুকুর উল্লেখ এবং ওয়াকী’র বর্ণনায় “কিয়ামতের দিন" কথাটুকুর উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৯৪, ইসলামীক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু উমার আল কাওয়ারীরী (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে ইবনু মুসহির ও ওয়াকী'র হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এদের বর্ণনায় “গোলাম নিজের মুনীবের পরিবর্তে অন্যকে নিজের মুনীব বলে পরিচয় দেয়” কথাটুকু নেই। আর তার প্রতি লা'নাতের কথা উল্লেখিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৯৫, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... ইবরাহীম তাইমী (রাযিঃ) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একবার আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযিঃ) আমাদের সামনে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। তিনি তার বক্তৃতায় বলেন, যে ব্যক্তি মনে করে যে, এ পুস্তিকা ও আল্লাহর কিতাব ব্যতীত আমাদের কাছে এমন কিছু আছে যাকে আমরা অধ্যয়ন করি সে মিথ্যা বলছে। সে (বর্ণনাকারী) বললঃ সে সময় তার আলী (রাযিঃ) তরবারির খাপের মধ্যে একখানা পুস্তক ঝুলানো ছিল। এ পুস্তিকায় উটের দাতের বিবরণ ছিল এবং যখমের দিয়াত (ক্ষতিপূরণ) সম্পর্কে বিধান ছিল। এতে আরও উল্লেখ ছিল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাদীনার 'আয়র’ থেকে ‘সাওর' পর্বত পর্যন্ত এলাকা হারাম (সংরক্ষিত স্থান)। যে ব্যক্তি এ এলাকায় বিদ’আত করবে অথবা কোন বিদ'আতীকে আশ্রয় দিবে তার উপর আল্লাহর লা'নাত, তার ফেরেশতাদের ও সমগ্র মানব জাতির লা'নাত বর্ষিত হবে। কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তার কোন ফরয কিংবা নফল কবুল করবেন না। সকল মুসলিমের দায়িত্ব অভিন্ন। একজন সাধারণ মুসলিমও এ দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকবে। যে ব্যক্তি তার পিতাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে পিতা বলে দাবী করবে অথবা যে ক্রীতদাস তার মনিবকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে মাওলা বানায় তার উপর আল্লাহর লা'নাত, ফেরেশতা ও সমগ্র মানব জাতির লা'নাত বর্ষিত হবে। কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তার কোন ফরয কিংবা নফল (ইবাদাত) কবুল করবেন না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৬৫২, ইসলামিক সেন্টার)