Sahih Muslim
1216.01

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ কেবল হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরামই বাঁধলাম। রাবী আতা (রহঃ) বলেছেন, জাবির (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার যিলহজ্জের ভোরে (মাক্কায় (মক্কায়)) পৌছে আমাদেরকে ইহরাম খোলার নির্দেশ দিলেন। অধঃস্তন রাবী মাত্বারের বর্ণনায় আছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা ইহরামমুক্ত হও এবং স্ত্রীদের কাছে যাও। কিন্তু তার এ নির্দেশ বাধ্যতামূলক ছিল না, বরং তাদেরকে স্ত্রী সহবাসের অনুমতি দেয়া হয়েছিল মাত্র। জাবির (রাযিঃ) বলেন, আরাফাহ দিবসের আর পাঁচদিন মাত্র বাকী। অতএব আমরা এমন অবস্থায় আরাফায় পৌছলাম যে, আমরা যেন এইমাত্র স্ত্রী সঙ্গম করেছি। আত্বা (রহঃ) বলেন, জাবির (রাযিঃ) তার হাত নেড়ে কথাগুলো বলছিলেন এবং আমি যেন তার হাতের নড়াচড়া দেখতে পাচ্ছি। জাবির (রযিঃ) বলেন, ইত্যবসরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন এবং বললেন, তোমরা নিশ্চিত জান- আমি তোমাদের তুলনায় আল্লাহকে অধিক ভয় করি, তোমাদের চেয়ে অধিক সত্যবাদী এবং পুণ্যবান। আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে আমি অবশ্যই ইহরাম ভঙ্গ করতাম যেমন তোমরা ভঙ্গ করেছে। আমাকে কী করতে হবে তা পূর্বেই জানতে পারলে আমি সাথে করে কুরবানীর পশু আনতাম না, অতএব তোমরা হালাল হও (ইহরাম ভঙ্গ কর)। আত্বা (রহঃ) বলেছেন, জাবির (রাযিঃ) বলেনঃ অতএব আমরা হালাল হলাম, তার কথা শুনলাম এবং তার আনুগত্য করলাম। জাবির (রাযিঃ) আরও বলেন, আলী (রাযিঃ) (ইয়ামানবাসীদের থেকে আদায়কৃত) খারাজ নিয়ে উপস্থিত হলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি কোন ধরনের ইহরাম বেঁধেছো? তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ধরনের ইহরাম বেঁধেছেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি কুরবানী কর এবং ইহরাম অবস্থায় থাক। জাবির (রাযিঃ) বলেন, ‘আলী (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য কুরবানীর পশু এনেছিলেন। সুরাকাহ ইবনু মালিক ইবনু জু'শুম (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এটা কি শুধু এ বছরের জন্য, না সব সময়ের জন্য? তিনি বললেন, সর্বকালের জন্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮১০, ইসলামীক সেন্টার)

1216.02

ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে হজ্জের ইহরাম বাঁধলাম। আমরা মাক্কায় (মক্কায়) পৌছলে তিনি আমাদেরকে হালাল হওয়ার এবং এ ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিবর্তন করার নির্দেশ দিলেন। আমাদের জন্য তার এ নির্দেশ কঠোর মনে হল এবং আমাদের মনোকষ্ট হল। এ খবর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌছল। আমাদের জানা নেই তিনি কি ওয়াহীর মাধ্যমে এ খবর পেয়েছেন, না কেউ তার কাছে এ কথা পৌছিয়েছে? তিনি বললেন, হে জনগণ! তোমরা হালাল (ইহরামমুক্ত) হও। আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে আমিও তোমাদের অনুরূপ করতাম। জাবির (রাযিঃ) বলেন, অতএব আমরা ইহরামমুক্ত হলাম, এমনকি স্ত্রী সঙ্গম এবং স্বাভাবিক অবস্থায় সাধারণত যা করা হয়, তাই করলাম। অতঃপর তালবিয়ার দিন (৮ যিলহাজ্জ) আমরা মাক্কাহ (মক্কাহ) ত্যাগ করলাম (মিনা ও আরাফার উদ্দেশে) এবং হাজ্জে (হজ্জে/হজে)র ইহরাম বাঁধলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮১১, ইসলামীক সেন্টার)

1216.03

ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... মূসা ইবনু নাফি' (রহঃ) বলেন, আমি উমরাসহ তামাত্তু হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বেঁধে তালবিয়াহ দিবসের চারদিন পূর্বে (৪ যিলহাজ্জ) মাক্কায় (মক্কায়) পৌছলাম। লোকেরা বলল, এখন তো আপনার হাজ্জ মাক্কা (মক্কা)-বাসীদের অনুরূপ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) হয়ে যাবে। অতএব আমি আতা ইবনু আবূ রাবাহ এর নিকট উপস্থিত হয়ে তার কাছে মাসআলাহ জিজ্ঞেস করলাম। আতা (রহঃ) বললেন, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আল আনসারী (রাযিঃ) আমাকে বলেছেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে করেছেন- যে বছর তিনি সঙ্গে করে কুরবানীর পশু নিয়েছিলেন এবং তারা কেবল হাজ্জের (হজ্জের/হজের) (ইফরাদ হজ্জের) ইহরাম বেঁধেছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা ইহরাম খুলে ফেল, বায়তুল্লাহ এর ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) কর, সাফা-মারওয়াহ পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাঈ কর, মাথার চুল ছাট এবং ইহরামমুক্ত অবস্থায় থাক। যখন তালবিয়ার দিন আসবে- তখন পুনরায় হজ্জের ইহরাম বাঁধ এবং এটা তামাত্তু হাজ্জের ইহরামে পরিণত কর। তারা বললেন, কিভাবে আমরা তা তামাত্তুতে পরিণত করব, অথচ ইতোপূর্বে আমরা হজ্জের ইহরাম বেঁধেছি? তিনি বললেন, আমি তোমাদের যে নির্দেশ দিচ্ছি, তাই কর। কারণ আমি যদি সাথে করে কুরবানীর পশু না আনতাম তবে তোমাদের যে নির্দেশ দিচ্ছি, আমিও তদ্রুপ করতাম। কিন্তু হাদী যথাস্থানে কুরবানী না করা পর্যন্ত আমার জন্য ইহরাম খোলার সুযোগ নেই। অতএব তারা তার নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮১২, ইসলামীক সেন্টার)

1216.04

–(১৪৪/...) মুহাম্মাদ ইবনু মা'মার ইবনু বিরূ'ঈ আল কায়সী (রহঃ) .... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বেঁধে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে (মাক্কায় (মক্কায়) পৌছলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে তা উমরার ইহরামে পরিবর্তন করার এবং (উমরাহ পালনের পর) ইহরামমুক্ত হবার নির্দেশ দিলেন। রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে কুরবানীর পশু থাকায় তিনি নিজের হজ্জের ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিবর্তন করতে পারেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮১৩, ইসলামীক সেন্টার)

1216.05

খালাফ ইবনু হিশাম, আবূ রবী ও কুতায়বাহ (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে (মাক্কায় (মক্কায়) পৌঁছলাম হাজ্জের (হজ্জের/হজের) জন্য তালবিয়াহ উচ্চারণ করতে করতে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিবর্তন করার নির্দেশ দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮১৬, ইসলামীক সেন্টার)