ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বিদায় হাজ্জের (হজ্জের/হজের) বছর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা উমরার জন্য ইহরাম বাঁধলাম। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যার সাথে হাদী অর্থাৎ কুরবানীর পশু আছে সে যেন একত্রে উমরার সাথে হাজ্জের ইহরাম বাঁধে, অতঃপর উমরাহ ও হাজ্জের অনুষ্ঠান শেষ না করে যেন ইহরামমুক্ত না হয়। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বললেন, আমি হায়য অবস্থায় মাক্কায় (মক্কায়) পৌছলাম। তাই আমি বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করতে এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বযের মাঝে সাঈ করতে পারিনি। এ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তোমার চুলের বেণী খুলে ফেল এবং চিরুণী কর, হাজ্জের ইহরাম বাঁধ এবং উমরাহ পরিত্যাগ কর। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি তাই করলাম। আমাদের হজ্জের অনুষ্ঠানাদি সমাপ্ত হলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে (আমার ভাই) আবদুর রহমানের সাথে তানঈম নামক স্থানে পাঠালেন। আমি সেখান থেকে ইহরাম বেঁধে উমরাহ পালন করি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা তোমার (ইহরাম বাঁধার) স্থান। যে সব লোক শুধু উমরার ইহরাম বেঁধেছিল, তারা বায়তুল্লাহর ত্বওয়াফ এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাঈ করার পর ইহরামমুক্ত হয়ে গেল। অতঃপর তারা মিনা থেকে ফিরে এসে পুনরায় তাদের হাজ্জের তওয়াফ করল আর যারা উমরাহ ও হাজ্জের জন্য একত্রে ইহরাম বেঁধেছিল, তারা একবার ত্বওয়াফ করল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৭৭, ইসলামীক সেন্টার)
আবদুল মালিক ইবনু শু'আয়ব ইবনু লায়স (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বিদায় হজ্জের বছর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমাদের কেউ শুধু উমরার ইহরাম বঁধল, আর কেউ শুধু হাজ্জের ইহরাম বাঁধল। এভাবে আমরা মাক্কায় (মক্কায়) পৌছলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যারা উমরার জন্য ইহরাম বেঁধেছে কিন্তু কুরবানীর পশু আনেনি, তারা যেন ইহরাম খুলে ফেলে। আর যারা উমরার ইহরাম বেঁধেছে এবং সাথে কুরবানীর পশুও এনেছে, তারা কুরবানী করার পরই কেবল ইহরামমুক্ত হবে। আর যারা হজ্জের ইহরাম বেঁধেছে, তারা যেন হাজ্জ (হজ্জ/হজ) পূর্ণ করে। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমার হায়য শুরু হয়ে গেল এবং আরাফাহ দিবস পর্যন্ত চলতে থাকল। আমি উমরার ইহরাম বেঁধেছিলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে মাথার চুল খুলে ফেলতে, তাতে চিরুণী করতে, হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বাঁধতে এবং উমরাহ পরিত্যাগ করতে নির্দেশ দিলেন। আমি তাই করলাম এবং হাজ্জের অনুষ্ঠানাদি পূর্ণ করলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে (আমার ভাই) আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকরকে পাঠালেন এবং তিনি আমাকে তানইম থেকে ইহরাম বেঁধে উমরাহ করার নির্দেশ দিলেন- যেহেতু আমি উমরার ইহরাম পরিত্যাগ করে হাজ্জের ইহরাম বেঁধেছিলাম; অথচ আমি উক্ত উমরাহ সমাপ্ত করতে পারিনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৭৮, ইসলামীক সেন্টার)
আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বিদায় হাজ্জের (হজ্জের/হজের) বছর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমি উমরার ইহরাম বাঁধলাম এবং সাথে কুরবানীর পশু নেইনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যার সাথে কুরবানীর পশু আছে, সে যেন তার উমরার সাথে হজ্জের ইহরামও বাঁধে এবং উভয়ের অনুষ্ঠানাদি সমাপ্ত করার পূর্বে যেন ইহরাম না খুলে। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমার মাসিক ঋতু শুরু হয়ে গেল। আরাফার রাত শুরু হলে আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি উমরার ইহরাম বেঁধেছিলাম, অতএব আমি কিভাবে হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করব? তিনি বললেন, তোমরা চুল খুলে ফেল এবং চিরুণী কর, উমরাহ স্থগিত রাখ এবং হজ্জের ইহরাম বাধ। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমি যখন হাজ্জ সমাপ্ত করলাম, তখন তিনি (আমার ভাই) 'আবদুর রহমানকে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি তদানুযায়ী আমাকে তার বাহনের পেছন দিকে বসিয়ে তানঈম থেকে উমরাহ করালেন- যেহেতু আমি উমরার অনুষ্ঠান পালন থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হয়েছিলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৭৯, ইসলামীক সেন্টার)
ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওনা হলাম। তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি একত্রে হাজ্জ ও উমরার ইহরাম বাঁধতে চায়, সে যেন তাই করে। আর যে ব্যক্তি শুধু হাজ্জের ইহরাম বাঁধতে চায়, সেও যেন তাই করে। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধুমাত্র হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বাঁধলেন এবং তার সাথের লোকেরাও তাই করল। কতিপয় লোক উমরাহ ও হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বাঁধল এবং কতিপয় লোক শুধু উমরার ইহরাম বাঁধল। আমি উমরার উদ্দেশে ইহরামকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৮০, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রাযিঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, বিদায় হজ্জের বছর যিলহাজ্জ মাসের নতুন চাঁদ উদয়ের কাছাকাছি সময়ে আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে (মাক্কাহ) রওনা হলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি উমরার ইহরাম বাঁধতে চায়, সে তা করতে পারে। আমার সঙ্গে হাদী বা কুরবানীর পশু না থাকলে আমি উমরার ইহরাম বাঁধতাম। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, লোকদের মধ্যে কতক উমরার ইহরাম বাঁধল এবং কতক হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বাঁধল। তিনি বললেন, আমি উমরার উদ্দেশে ইহরামকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। আমরা রওনা হলাম, অতঃপর মাক্কায় (মক্কায়) পৌছে গেলাম। আরাফাহ দিবস পর্যন্ত আমার মাসিক ঋতু অব্যাহত থাকল এবং উমরাহ করে ইহরাম খোলার সুযোগ পেলাম না। এ সংকটের বিষয়ে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অবহিত করলে তিনি বললেন, তুমি তোমার উমরাহ্ পরিত্যাগ কর, চুলের বাঁধন খুলে ফেল এবং তাতে চিরুণী কর আর হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধ। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি তাই করলাম। অতঃপর যখন মুহাসসাব এর রাত হলো এবং আল্লাহ তা'আলা আমাদের হাজ্জ (হজ্জ/হজ) সমাপন করার তাওফীক দিলেন, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকর (রাযিঃ) কে পাঠালেন এবং তিনি আমাকে তার বাহনের পেছনে বসিয়ে তান'ঈম নামক স্থানে রওনা হলেন। অতঃপর আমি উমরার ইহরাম বাঁধলাম। এভাবে আল্লাহ তা'আলা আমাদের হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ও উমরাহ সমাপনের তাওফীক দান করলেন। এজন্য হাদী বা কুরবানী, সদাকাহ বা সওম কোনটিই পালন করতে হয়নি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৮১, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিলহাজ্জ মাসের নতুন চাঁদ উদয়ের কাছাকাছি সময়ে আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রওনা হলাম। হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করা ছাড়া আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি উমরার ইহরাম বাঁধতে চায়, সে তাই করুক ... হাদীসের অবশিষ্ট অংশ আবদাহ্ (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৮২, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিলহাজ্জ মাসের নতুন চাঁদ উদয়ের কাছাকাছি সময়ে আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমাদের মধ্যে কতক উমরার, কতক হাজ্জ ও উমরাহ উভয়ের এবং কতক শুধু হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বাঁধল। আমি উমরার উদ্দেশে ইহরামকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম ... অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত (উভয়ের) হাদীসের অনুরূপ। তবে উরওয়াহর বর্ণনায় আছে, "আল্লাহ তা'আলা আয়িশাহ (রাযিঃ) কে তার হাজ্জ ও উমরাহ সমাপনের তাওকীক দিলেন।" আর হিশামের বর্ণনায় আছে, “এজন্য (উমরার ইহরাম পরিত্যাগ করে হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বাঁধার কারণে তাকে) হাদী বা কুরবানীও করতে হয়নি, সওমও পালন করতে হয়নি, সদাকাহও দিতে হয়নি।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৮৩, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বিদায় হজ্জের বছর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমাদের মধ্যে কতক উমরার উদ্দেশে, কতক হজ্জ ও উমরাহ উভয়ের উদ্দেশে এবং কতক শুধু হাজ্জের (হজ্জের/হজের) উদ্দেশে ইহরাম বাঁধল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বাঁধলেন। যারা উমরার জন্য ইহরাম বেঁধেছিল, তারা (উমরাহ সমাপনন্তে) ইহরাম খুলে ফেলল। আর যারা শুধু হাজ্জের, আর যারা হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ও উমরাহ উভয়ের ইহরাম বেঁধেছিল, তারা কুরবানী দিবসের পূর্ব পর্যন্ত ইহরামুক্ত হতে পারেনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৮৪, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ‘আমর আন্ নাকিদ, যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) …. আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একমাত্র হজ্জের উদ্দেশে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা সারিফ নামক স্থানে বা এর কাছাকাছি পৌছলে আমার মাসিক ঋতু শুরু হয়ে যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন এবং আমি তখন কাঁদছিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি হায়য হয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আল্লাহ তা'আলা এটা আদম (আঃ) এর কন্যাদের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন। অতএব তুমি হাজ্জের (হজ্জের/হজের) যাবতীয় অনুষ্ঠান পূর্ণ কর, শুধু (হায়যকাল শেষ হবার পর) গোসল না করা পর্যন্ত বায়তুল্লাহ তওয়াফ করবে না। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সহধর্মিণীগণের পক্ষ থেকে গরু কুরবানী করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৮৫, ইসলামীক সেন্টার)
সুলায়মান ইবনু উবায়দুল্লাহ আবূ আইয়্যুব আল গয়লানী (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কেবল হাজের (হজ্জের/হজের) উদ্দেশে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা যখন সারিফ নামক স্থানে পৌছলাম, আমার মাসিক ঋতু শুরু হয়ে গেল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন এবং আমি তখন কাঁদছিলাম। তিনি বললেন, তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি যদি এ বছর হাজ্জ করতে না আসতাম। তিনি বললেন, কী হয়েছে তোমার? সম্ভবতঃ তুমি ঋতুবতী হয়েছো? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আল্লাহ তা'আলা এটা আদম (আঃ) এর কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তুমি হাজ পালনকারীগণ যা করে, তাই কর কিন্তু পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত বায়তুল্লাহ তওয়াফ করো না। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি যখন মাক্কায় (মক্কায়) পৌছলাম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীগণের বললেন, তোমরা উমরার জন্য ইহরাম বাঁধ। যাদের সাথে হাদী বা কুরবানীর পশু ছিল, তারা ব্যতীত সকলে উমরার ইহরাম বাঁধল। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বাকর (রাযিঃ), 'উমার (রাযিঃ) ও অন্যান্য স্বচ্ছল লোকদের সাথে কুরবানীর পশু (হাদী) ছিল, তারা (ইতোপূর্বে যারা ইহরাম খুলে ফেলেছিল, মিনার দিকে) অগ্রসর হবার প্রাক্কালে পুনরায় (হাজ্জের (হজ্জের/হজের)) ইহরাম বাঁধল। তিনি বলেন, আমি কুরবানীর দিন পবিত্র হলাম এবং আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশে তওয়াফে ইফাযাহ্* করলাম। আমাদের জন্য গরুর গোশত পাঠানো হল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এগুলো কী? তারা বলল, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সহধর্মিণীদের পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেছেন। যখন হাসবার রাত এলো, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা হাজ্জ ও উমরাহ পালন করে প্রত্যাবর্তন করছে, আর আমি শুধু হজ্জ করে প্রত্যাবর্তন করছি। রাবী বলেন, তিনি বলেন, তিনি আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকর (রাযিঃ) কে নির্দেশ দিলেন এবং তদনুযায়ী তিনি আমাকে তার উটের পেছন দিকে বসিয়ে রওনা হলেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি ছিলাম অল্প বয়স্কা এবং আমার মনে আছে যে, তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে আমার মাথা বারবার পালানের খুঁটির সাথে আঘাত খাচ্ছিল। এভাবে আমরা তানঈম পৌছলাম। সেখান থেকে আমি আবার উমরার ইহরাম বাঁধলাম- যা লোকেরা ইতোপূর্বে আদায় করেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৮৬, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ আইয়্যুব আল গয়লানী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমরা হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধলাম। আমরা যখন সারিফ নামক স্থানে পৌছলাম তখন আমি ঋতুবতী হলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন- আমি তখন কাঁদছিলাম...অবশিষ্ট বর্ণনা (পূর্ববর্তী) মাজিশূনের হাদীসের অনুরূপ। তবে হাম্মাদের বর্ণনায় নিম্নোক্ত কথার উল্লেখ নেইঃ “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বাকর (রাযিঃ), উমর (রাযিঃ) ও অন্যান্য স্বচ্ছল লোকদের সাথে (হাদী) কুরবানীর পশু ছিল, তারা অগ্রসর হওয়ার প্রাক্কালে পুনরায় (হাজ্জের (হজ্জের/হজের)) ইহরাম বাঁধলেন।" তার বর্ণনায় আয়িশাহ (রাযিঃ) এর নিম্নোক্ত কথার উল্লেখ নেই “আমি ছিলাম অল্প বয়স্কা এবং আমার উত্তমরূপে মনে আছে যে, তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় আমার মাথা বারংবার পালানের খুঁটির সাথে টক্কর খাচ্ছিল।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৮৭, ইসলামীক সেন্টার)
ইসমাঈল ইবনু আবূ উওয়াইস ও ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফরাদ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করেছিলেন।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৮৮, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হজ্জের মাসসমূহে, হাজের (হজ্জের/হজের) সময় ও স্থানসমূহে (অথবা হাজ্জের সময়কার বিধিনিষেধ অনুসরণ করে) এবং হাজ্জের (হজ্জের/হজের) রাতসমূহে ইহরাম বেঁধে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা যখন সারিফ নামক স্থানে যাত্রা বিরতি করলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীগণের নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, তোমাদের মধ্যে যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে যদি চায় তবে সে এই হাজ্জকে উমরায় পরিবর্তিত করে নিক। আর যার সাথে কুরবানীর পশু (হাদী) আছে, সে যেন এরূপ না করে। তাদের মাঝে কিছু সংখ্যক এটা গ্রহণ করল এবং কিছু সংখ্যক- যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল না, তারা উমরাহ করল না। কিন্তু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার স্বচ্ছল সাহাবীগণের সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট প্রবেশ করলেন এবং আমি তখন কাঁদছিলাম। তিনি বললেন, তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললাম, আমি আপনার সাহাবীগণের উদ্দেশে আপনার কথাবার্তা শুনেছি যে, আপনি উমরাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু আমি তা করতে পারছি না। তিনি বললেন, কেন, তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম, আমি সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করতে পারছি না। আমার ঋতু দেখা দিয়েছে। তিনি বললেন, এতে তোমার কোন ক্ষতি নেই, তুমি হাজ্জের (হজ্জের/হজের) অনুষ্ঠানাদি পালন কর। আশা করি আল্লাহ তা'আলা তোমাকে উমরাহ্ পালনের সুযোগ দেবেন। তুমি আদম (আঃ) এর কন্যাদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি তাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, তোমার জন্যও তা নির্ধারণ করেছেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, অতএব আমি হাজ্জের (হজ্জের/হজের) জন্য বের হলাম। অবশেষে মিনায় অবতরণ করলাম এবং পাক হয়ে গেলাম। এরপর আমি বায়তুল্লাহ এর তওয়াফ করলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাস্সাবে অবতরণ করলেন এবং আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকর (রাযিঃ) কে ডেকে বললেন, তোমার বোনকে হারাম সীমার বাইরে নিয়ে যাও, সে (সেখানে গিয়ে) উমরার জন্য ইহরাম বাঁধবে এবং বায়তুল্লাহ এর তওয়াফ করবে। আমি তোমাদের জন্য এখানে অপেক্ষা করব। আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, আমরা রওনা হয়ে (তানঈম) গেলাম এবং (সেখানে) ইহরাম বাঁধলাম, অতঃপর বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করলাম এবং সাফামারওয়াহ সাঈ করলাম। অতঃপর আমরা মধ্যরাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ফিরে এলাম। তিনি স্বস্থানেই ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি উমরাহ সম্পাদন করে নিয়েছো? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি তার সাহাবীগণের রওনা হওয়ার জন্য ঘোষণা দিলেন। তিনি রওনা হয়ে বায়তুল্লাহ পৌছলেন এবং ফজরের সালাতের পূর্বে তার তওয়াফ করলেন, অতঃপর মাদীনার উদ্দেশে রওনা হলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৮৯, ইসলামীক সেন্টার)
–(১২৪/...) ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ূব (রহঃ) ..... উম্মুল মুমিনীন আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের কেউ ইফরাদ হাজ্জের, কেউ কিরআন হাজ্জের (হজ্জের/হজের) এবং তামাত্তু হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বাঁধল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৯০, ইসলামীক সেন্টার)
আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশাহ (রাযিঃ) হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করার জন্য এসেছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৯১, ইসলামীক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ্ ইবনু কা'নাব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, যিলকদাহ মাসের পাঁচদিন অবশিষ্ট থাকতে আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওনা হলাম। হাজ্জ পালন ছাড়া আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না। আমরা মাক্কার (মক্কার) নিকটবর্তী হলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলেন, যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে বায়তুল্লাহ এর তওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করার পর ইহরাম ভঙ্গ করবে। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, কুরবানীর দিন কেউ আমাদের জন্য গরুর গোশত নিয়ে এলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ কী? বলা হল, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সহধর্মিণীদের পক্ষ থেকে কুরবানী করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) বলেন, আমি এ হাদীস কাসিম ইবনু মুহাম্মাদের নিকট উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! তিনি (আম্রাহ) তোমার নিকট হাদীসটি সঠিকভাবে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ২৭৯২, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু আবূ উমর (রাযিঃ) এ সানাদেও পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৯৩, ইসলামীক সেন্টার)
–(১২৬/...) আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও কাসিম (রহঃ) ..... উম্মুল মু'মিনীন [আয়িশাহ্ (রাযিঃ)] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা দু'টি ইবাদাতসহ (হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ও উমরাহ্) প্রত্যাবর্তন করছে, আর আমি একটি মাত্র ইবাদাতসহ (হাজ্জ (হজ্জ/হজ)) ফিরে যাচ্ছি। তিনি বলেন, অপেক্ষা কর। তুমি পবিত্র হয়ে যাবার পর তান'ঈম চলে যাও এবং সেখানে ইহরাম বাঁধ, অতঃপর অমুক অমুক সময় আমাদের সঙ্গে মিলিত হও। রাবী বলেন, আমার মনে হয় তিনি ভোরবেলার কথা বলেছেন এবং তুমি তোমার পরিশ্রম অথবা খরচ অনুযায়ী (এ উমরার সাওয়াব পাবে)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৯৪, ইসলামীক সেন্টার)
ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... উম্মুল মু'মিনীন আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা দু'টি ইবাদাতের সাওয়াব নিয়ে ফিরে যাচ্ছে...অতঃপর অবশিষ্ট হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৯৫, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, শুধুমাত্র হজ্জের উদ্দেশেই আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা (মাক্কায়) পৌছে বায়তুল্লাহ এর ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করলাম। যারা কুরবানীর পশু (হাদী) সাথে আনেনি, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ইহরাম খোলার নির্দেশ দিলেন। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, অতএব যারা কুরবানীর পশুর সঙ্গে আনেনি, তারা ইহরাম ছেড়ে দিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীগণ সাথে কুরবানীর পশু আনেননি। তাই তারাও ইহরাম খুলে ফেললেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) আরও বললেন, আমার মাসিক দেখা দিল এবং বায়তুল্লাহ এর তওয়াফ করতে পারলাম না। হাসবায় অবস্থানের রাতে আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা হজ্জ ও উমরাহ করে ফিরে যাচ্ছে, আর আমি শুধু হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করে ফিরছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আমরা যে রাতে মাক্কায় (মক্কায়) পৌছেছি, তখন তুমি কি বায়তুল্লাহ এর ত্বওয়াফ করনি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তাহলে তুমি তোমার ভাইয়ের সাথে তান'ঈম যাও এবং (সেখানে) উমরার ইহরাম বাঁধ। অতঃপর তুমি অমুক অমুক জায়গায় (আমাদের সাথে) মিলিত হতে পারবে। উন্মুল মুমিনীন সফিয়্যাহ (রাযিঃ) বললেন, মনে হয় আমি আপনাদের আটকিয়ে রাখব। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দূর হতভাগী, তোমার সর্বনাশ হোক! তুমি কুরবানীর দিন বায়তুল্লাহ এর ত্বওয়াফ করেছো? তিনি বললেন, হ্যাঁ, করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে কোন অসুবিধা নেই, তুমি অগ্রসর হও। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে সাক্ষাৎ করলেন, তিনি মাক্কার (মক্কার) উচ্চভূমি দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিলেন। আর আমি তা অতিক্রম করে নিম্নভূমিতে নামছিলাম। অথবা তিনি উচ্চভূমি অতিক্রম করে নিম্নভূমির দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন, আর আমি নিম্নভূমি থেকে উচ্চভূমির দিকে অগ্রসর হচ্ছিলাম। ইসহাকের বর্ণনায় আছে, আয়িশাহ (রাযিঃ) এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয়ে নিম্নভূমি অতিক্রম করছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৯৬, ইসলামীক সেন্টার)
সুওয়ায়দ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তালবিয়াহ পাঠ করতে করতে রওনা হলাম। আমরা সুস্পষ্টভাবে হাজ্জ বা উমরাহ কোনটিরই উল্লেখ করিনি। ... অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত মানসূর (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৯৭, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলহাজ্জ মাসের ৪র্থ অথবা ৫ম দিনে (মাক্কায়) এলেন। এরপর রাগান্বিত অবস্থায় আমার কাছে প্রবেশ করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! কে আপনাকে রাগান্বিত করল, আল্লাহ তাকে আগুনে নিক্ষেপ করুন? তিনি বললেন, তুমি কি জান না- আমি লোকদের একটি কাজের নির্দেশ দিয়েছিলাম অথচ তারা ইতস্ততঃ করছে? রাবী হাকাম বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছেন, যেন তারা ইতস্ততঃ করছে। আমি যদি পূর্বেই জানতাম, যে বিষয়ে আমি পরে সম্মুখীন হয়েছি, তবে আমি সাথে করে কুরবানীর পশু আনতাম না; বরং পরে তা কিনে নিতাম এবং আমিও ইহরাম খুলে ফেলতাম যেমন অন্যরা ইহরাম খুলেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৯৮, ইসলামীক সেন্টার)
উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিলহাজ্জ মাসের চার অথবা পাঁচ তারিখে (মাক্কায়) পৌছলেন ... পূর্বোক্ত গুনদার এর হাদীসের অনুরূপ। কিন্তু এ সানাদে তিনি (রাবী) হাকামের উক্তিতে এ সন্দেহ, “তারা ইতস্ততঃ করেছে" উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৯৯, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি উমরার ইহরাম বাঁধলেন, এরপর (মাক্কায়) পৌছলেন এবং বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) না করতেই ঋতুবতী হলেন। এরপর তিনি হজ্জের ইহরাম বাঁধলেন এবং এর যাবতীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করলেন (ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) ব্যতীত)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় অগ্রসর হবার দিন তাকে বললেন, তোমার (একবারের) ত্বওয়াফই তোমার হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ও উমরাহ উভয়ের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু তিনি তাতে তৃপ্ত হলেন না। তাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আবদুর রহমানের সাথে তানঈম পাঠালেন। অতএব তিনি হজ্জের পর (এখান থেকে) ইহরাম বেঁধে উমরাহ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮০০, ইসলামীক সেন্টার)
হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি সারিফ নামক স্থানে ঋতুবতী হলেন এবং আরাফাহ্ দিবসে পবিত্র হলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তোমার সাফা-মারওয়াহ পাহাড়দ্বয়ের মধ্যকার সাঈ তোমার হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ও উমরাহ উভয়টির জন্য যথেষ্ট। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২৮০১, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী (রহঃ) .... সফিয়্যাহ বিনতু শায়বাহ বলেন, আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা দুটি সাওয়াবসহ প্রত্যাবর্তন করবে আর আমি কি মাত্র একটি সাওয়াব নিয়ে ফিরে যাব? তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকর (রাযিঃ) কে নির্দেশ দিলেন- তাকে নিয়ে তান’ঈম যাওয়ার জন্য। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, তিনি তার উটের পিঠে আমাকে তার পিছনে বসিয়ে রওনা হলেন। আমি আমার ওড়না উঠাচ্ছিলাম এবং তা ঘাড় থেকে সরিয়ে রাখছিলাম। তিনি আমার পায়ে আঘাত করছিলেন- যেমন উটকে আঘাত করেন। আমি তাকে বললাম, আপনি এখানে কাউকে দেখতে পাচ্ছেন কি? তিনি বলেন, আমি (তান'ঈম পৌছে) উমরার ইহরাম বাঁধলাম, অতঃপর (মাক্কায় (মক্কায়) ফিরে এসে (ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) শেষে) হাসাবাহ নামক স্থানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মিলিত হলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮০২, ইসলামীক সেন্টার)