Sahih Muslim
1017.01

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না আল আনাযী (রহঃ) ..... মুনযির ইবনু জারীর থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমরা ভোরের দিকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এ সময় তার কাছে পাদুকাবিহীন, বস্ত্রহীন, গলায় চামড়ার আবা পরিহিত এবং নিজেদের তরবারি ঝুলন্ত অবস্থায় একদল লোক আসল। এদের অধিকাংশ কিংবা সকলেই মুযার গোত্রের লোক ছিল। অভাব অনটনে তাদের এ করুণ অবস্থা দেখে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখমণ্ডল পরিবর্তিত ও বিষন্ন হয়ে গেল। তিনি ভিতরে প্রবেশ করলেন, অতঃপর বেরিয়ে আসলেন। তিনি বিলাল (রাযিঃ) কে আযান দিতে নির্দেশ দিলেন। বিলাল (রাযিঃ) আযান ও ইকামাত দিলেন। সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) শেষ করে তিনি উপস্থিত মুসল্লীদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন এবং এ আয়াত পাঠ করলেনঃ “হে মানব জাতি! তোমরা নিজেদের প্রতিপালককে ভয় কর যিনি তোমাদেরকে একটি মাত্র ব্যক্তি থেকে আদম (আঃ) থেকে সৃষ্টি করেছেন। ..... নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা তোমাদের রক্ষণাবেক্ষণকারী"- (সূরা আন নিসা ৪ঃ ১)। অতঃপর তিনি সূরা হাশরের শেষের দিকের এ আয়াত পাঠ করলেনঃ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। প্রত্যেক ব্যক্তি যেন ভবিষ্যতের জন্য কী সঞ্চয় করেছে সেদিকে লক্ষ্য করে"- (সুরাহ আল হাশর ৫৯ঃ ১৮)। অতঃপর উপস্থিত লোকদের কেউ তার দীনার, কেউ দিরহাম, কেউ কাপড়, কেউ এক সা' আটা ও কেউ এক সা খেজুর দান করল। অবশেষে তিনি বললেন, অন্ততঃ এক টুকরা খেজুর হলেও নিয়ে আসো। বর্ণনাকারী বলেন, আনসার সম্পপ্রদায়ের এক ব্যক্তি একটি বিরাট থলি নিয়ে আসলেন। এর ভারে তার হাত অবসাদগ্ৰস্ত হয়ে যাচ্ছিল কিংবা অবশ হয়ে গেল। রাবী আরো বলেন, অতঃপর লোকেরা সারিবদ্ধভাবে একের পর এক দান করতে থাকল। ফলে খাদ্য ও কাপড়ের দু'টি স্তুপ হয়ে গেল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারা মুবারক খাটি সোনার ন্যায় উজ্জ্বল হয়ে হাসতে লাগল। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে কোন উত্তম প্রথা বা কাজের প্রচলন করে সে তার এক কাজের সাওয়াব পাবে এবং তার পরে যারা তার এ কাজ দেখে তা করবে সে এর বিনিময়েও সাওয়াব পাবে। তবে এতে তাদের সাওয়াব কোন অংশে কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে (ইসলামের পরিপন্থী) কোন খারাপ প্রথা বা কাজের প্রচলন করবে, তাকে তার এ কাজের বোঝা (গুনাহ এবং শাস্তি) বহন করতে হবে। তারপর যারা তাকে অনুসরণ করে এ কাজ করবে তাদের সমপরিমাণ বোঝাও তাকে বইতে হবে। তবে এতে তাদের অপরাধ ও শাস্তি কোন অংশেই কমবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২২০, ইসলামীক সেন্টার)

1017.02

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ ও উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয আল আনবারী (রহঃ) ..... মুনযির ইবনু জারীর (রাযিঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা দিনের প্রথম ভাগে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম ..... ইবনু জাফারের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। আর মুআয (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে আরো আছেঃ ثُمَّ صَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ خَطَبَ "অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুহরের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন এবং ভাষণ দিলেন" উক্তিটি অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২২১, ইসলামীক সেন্টার)

1017.03

উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার আল কাওয়ারীরী, আবূ কামিল এবং মুহাম্মাদ আবদুল মালিক আল আল উমাবী (রহঃ) ..... মুন্‌যির ইবনু জারীর (রাযিঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বসা ছিলাম। এ সময় চামড়ার আবা পরিহিত একদল লোক আসলেন ..... পূর্বের হাদীসের অনুরূপ। এতে আরো আছে, অতঃপর তিনি যুহরের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন। অতঃপর ছোট একটি মিম্বারে উঠে আল্লাহ তা’আলার প্রশংসা ও গুণগান করলেন। অতঃপর বললেন, আল্লাহ তা'আলা তার কিতাবে নাযিল করেছেন- “হে মানব গোষ্ঠী! তোমরা তোমাদের প্রভুকে ভয় কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২২২, ইসলামীক সেন্টার)

1017.04

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পশমী কাপড় পরিহিত অবস্থায় গ্রাম থেকে কয়েক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসল। তিনি তাদের দুরবস্থা দেখেন। তারা অভাব অনটনে নিমজ্জিত আছে। হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বের হাদীসসমূহের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২২৩, ইসলামীক সেন্টার)

1017.05

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিছু সংখ্যক যাযাবর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে আসলো। তাদের পরনে পশমী পোশাক ছিল। তিনি তাদের নিকৃষ্ট অবস্থা দেখলেন। তাদের অভাবে আক্রমণ করেছে। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষদের (তাদেরকে) দান-সদাকাহ করার জন্যে উৎসাহিত করলেন। মানুষেরা দান-সদাকাহ দিতে ইতস্তত করছিল। এমনকি এর প্রতিক্রিয়া তার চেহারায় দেখা গেল। রাবী বলেন, তারপর একজন আনসারী লোক একটি রূপার (টাকার) ব্যাগ নিয়ে আসলেন। তারপর অন্যজন আসলেন। তারপর পর্যায়ক্রমে আসতে লাগলেন, পরিশেষে তার মুখে আনন্দের চিহ্ন দেখা গেল। তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে লোক ইসলামে কোন সুন্নাত চালু করলো এবং পরবর্তীকালে সে অনুসারে ‘আমল করা হলো তাহলে আমলকারীর প্রতিদানের সমান প্রতিদান তার জন্য লিখিত হবে। এতে তাদের প্রতিদানে কোন ঘাটতি হবে না, আর যে লোক ইসলামে কোন অশুভ নীতি চালু করলো এবং তারপরে সে অনুযায়ী ‘আমল করা হলো তাহলে ঐ "আমলকারীর খারাপ প্রতিদানের সমান গুনাহ তার জন্য লিখিত হবে। এতে তাদের পাপ সামান্য ঘাটতি হবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫৫৬, ইসলামিক সেন্টার)

1017.06

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবু বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... জারীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবাহ দিলেন এবং মানুষদেরকে দান করার জন্য উৎসাহ প্রদান করলেন। এরপর জারীর বর্ণিত হাদীসের হুবহু বর্ণনানুযায়ী। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫৫৭, ইসলামিক সেন্টার)

1017.07

(…/...) মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক কোন ভাল কর্মের প্রবর্তন করে না, যা পরবর্তীকালে কাজে পরিণত করা হয়। তারপর তিনি সম্পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫৫৮, ইসলামিক সেন্টার)

1017.08

উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার আল কাওয়ারীরী, আবূ কামিল ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল মালিক আল উমাবী ..... জারীর (রাযিঃ) এর সানাদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, আবূ বাকর ইবনু আবু শাইবাহ ও উবাইদুল্লাহ ইবনু মু’আয (রহঃ) ..... জারীর (রাযিঃ) এর সানাদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫৫৯, ইসলামিক সেন্টার)