আবূ তাহির আহমাদ ইবনু আমর ইবনু সারহ ও হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... উমার ইবনু খাত্তাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। উমার (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি যখন থেকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ থেকে নিষেধ করতে শুনেছি, তখন থেকে আর কখনও সে নামে কসম করিনি, নিজের পক্ষ থেকেও নয়, আর অপরের উদ্ধৃতি দিয়েও নয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১০৮, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুল মালিক ইবনু শু'আয়ব ইবনু লায়স, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) এর সূত্রে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। অবশ্য উকায়ল (রহঃ) বর্ণিত হাদীসে আছে যে, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ থেকে নিষেধ করতে শুনার পর থেকে সে নামে আর শপথ করিনি। আর ঐ নামের কসমের উচ্চারণও করিনি। তবে তিনি "নিজের পক্ষ থেকে এবং অপরের উদ্ধৃতি দিয়েও" কথাটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১০৯, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আমর আন্ নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... সালিম (রহঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা উমর (রাযিঃ) কে তার পিতার নামে শপথ করতে শুনলেন। পরবর্তী অংশ ইউনুস ও মা'মার (রহঃ) এর বর্ণনার অনুসারে বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১১০, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক সময় কাফিলায় উমার ইবনু খাত্তাব (রহঃ) কে পেলেন। উমর (রাযিঃ) তখন তার পিতার নামে শপথ করছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সম্বোধন করে বললেনঃ সাবধান আল্লাহ তোমাদের বাপ দাদার নামে কসম করতে তোমাদের নিষেধ করেছেন। সুতরাং যে কেউ কসম করতে চায়, সে যেন আল্লাহর নামে কসম করে অথবা সে যেন চুপ থাকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১১১, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র, মুহাম্মাদ মুসান্না, ইয়াহইয়া, বিশর ইবনু হিলাল, আবূ কুরায়ব, ইবনু আবূ উমার, ইবনু রাফি, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ইবনু রাফি' (রহঃ) ... তারা সকলেই ইবনু 'উমার (রাযিঃ) হতে অনুরূপ ঘটনা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১১২, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, ইবনু আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শপথ করার জন্য মনস্থ করে, সে যেন আল্লাহর নাম ব্যতীত শপথ না করে। কুরায়শরা তাদের বাপ-দাদার নামে শপথ করতো। কাজেই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা তোমাদের বাপ-দাদার নামে শপথ করো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১১৩, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ তাহির ও হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কসম করে এবং সে কসম করতে গিয়ে বলে, লাতের কসম সে যেন এর পরপরই বলেلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ আর যে ব্যক্তি তার সাথীকে বলে, এসো, তোমার সাথে জুয়া খেলি, সে যেন এর সাথে সাথেই কিছু সদাকাহ করে দেয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১১৪, ইসলামিক সেন্টার)
সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ...... যুহরী (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন। আর মা'মার (রহঃ) এর হাদীস ইউনুস (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ। তবে মা'মার বলেছেন, “সে যেন কোন কিছু সদাকাহ করে দেয়”। আর আওযাঈর হাদীসে আছে, যে ‘লাত’ ও ‘মানাত এর শপথ করবে। (ইসলামিক সেন্টার ৪১১৩) আবূল হুসায়ন মুসলিম (রহঃ) বলেন, এ কথাটি অর্থাৎ তার কথা “তুমি এসো, তোমার সাথে আমি জুয়া খেলি, তবে সে যেন সাথে সাথে সদাকাহ দেয়" যুহরী ব্যতীত অন্য কেউই বর্ণনা করেননি। ইমাম মুসলিম (রহঃ) আরো বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রায় নব্বইটি হাদীস যুহরীর নিকট রয়েছে যা তিনি উত্তম সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যাতে আর কেউ শারীক নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১১৫, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা দেব-দেবীর নামে ও তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১১৬, ইসলামিক সেন্টার)
খালাফ ইবনু হিশাম, কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব হারিসী (রহঃ) ... আবূ মূসা আশ'আরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আশ'আরী গোত্রের কিছু সংখ্যক লোককে নিয়ে বাহন চাওয়ার জন্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসি। তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের বাহনের সওয়ারী দিব না। আর আমার কাছে এমন কিছু নেই যাতে আমি তোমাদের সওয়ার করাতে পারি। আবূ মূসা আশ'আরী (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহ যতটা চাইলেন আমরা ততক্ষণ অপেক্ষা করলাম। তারপর তার কাছে উট আনা হলো। তিনি আমাদেরকে তিনটি সাদা কুঁজবিশিষ্ট উট দেয়ার নির্দেশ দেন। যখন আমরা (তা নিয়ে) চলে আসি। তখন আমরা বললাম, রাবী বলেন, অথবা আমাদের একে অপরকে বললেন যে, এতে আল্লাহ তা'আলা আমাদের কল্যাণ করবেন না। আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট সওয়ারী বাহন চাইতে এসেছিলাম। তখন তিনি কসম করেছিলেন যে, আমাদেরকে সওয়ারী বাহন দিবেন না। এরপর আমাদেরকে সওয়ারী দিলেন। তারপর তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তার কসমের কথা অবগত করালেন। তিনি বললেনঃ আমি নই; বরং আল্লাহ তোমাদের সওয়ারী দিয়েছেন। আর আল্লাহর কসম! ইনশা-আল্লাহ আমি যখনই কোন বিষয়ের উপর কসম করি এরপর যদি এর তুলনায় অন্যটি কল্যাণকর মনে করি, তবে আমি আমার কসমের কাফফারাহ দিয়ে দিব এবং যা উত্তম তাই করবো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১১৭, ইসলামিক সেন্টার)