রেওয়ায়ত ২০. যুরায়ক ইবন হাইয়ান (রহঃ) বর্ণনা করেন - যুরায়ক ছিলেন মিসরের পথে গমনকারী যাত্রীদের নিকট হইতে কর আদায়কারী কর্মচারী। উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) তাঁহাকে লিখিয়াছিলেন, তোমার এই এলাকা দিয়া কোন মুসলিম ব্যবসায়ী পথ অতিক্রম করিলে, তাহার বাণিজ্যিক সম্পদ হইতে প্রতি চল্লিশ দীনারে এক দীনার আদায় করিয়া নিও। চল্লিশ দীনার হইতে কম হইলে সেই অনুপাতে বিশ দীনার পর্যন্ত হইতে আদায় করিবে। বিশ দীনার হইতে এক-তৃতীয়াংশ দীনারও যদি কম হয় তবে তাহা ছাড়িয়া দিও। আর কোন যিম্মী বাসিন্দা ঐ পথ অতিক্রম করিলে তাহার বাণিজ্যিক সম্পদ হইতে প্রতি বিশ দীনারে এক দীনার উসুল করিবে। বিশের কম দশ দীনার পর্যন্ত হইতে সেই অনুপাতে উসুল করবে। দশ দীনার হইতে এক-তৃতীয়াংশ দীনারও কম হইলে উহা ছাড়িয়া দিবে। সম্পূর্ণ বৎসরের জন্য উসুলকৃত পরিমাণের একটা রসিদ করদাতাকে লিখিয়া দিবে যাহাতে এই কর এক বৎসরের মধ্যে তাহাকে পুনরায় দিতে না হয়। মালিক (রহঃ) বলেন, আমাদের নিকট হুকুম হইল, কোন ব্যবসায়ী একবার যাকাত প্রদান করার পর ইহা দ্বারা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে কোন বস্তু অথবা গোলাম অথবা তদ্রুপ কিছু খরিদ করিয়া যাকাত প্রদান করার তারিখ হইতে পূর্ণ এক বৎসর অতিক্রান্ত হওয়ার পূর্বে উহা বিক্রয় করিয়া দিলে, পূর্ণ বৎসর অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত ইহাতে যাকাত ওয়াজিব হইবে না। কয়েক বৎসর পর্যন্ত যদি এই মাল বিক্রয় না করিয়া রাখিয়া দেয় তবে যখন বিক্রয় করিবে তখন শুধু ইহাতে এক বৎসরেরই যাকাত দিতে হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট মাসআলা এই- কেহ যদি ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে স্বর্ণ বা রৌপ্য মুদ্রার বিনিময়ে গম বা খেজুর খরিদ করিয়া রাখিয়া দেয় এবং ইহাতে এক বৎসর অতিক্রান্ত হইয়া যায়, তবে যখন মাল বিক্রয় হইবে তখন নিসাব পরিমাণ হইলে ইহাতে যাকাত ওয়াজিব হইবে। ফল বা ফসলের মত ইহার হুকুম হইবে না।[1]মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যবসায়ীর কাছে বাণিজ্যিক মাল আছে বটে কিন্তু নগদ এত পরিমাণ টাকা তাহার হয় না যাহাতে যাকাত ধার্য হইতে পারে, বাণিজ্যিক মালের মূল্য ও নগদ অর্থ মিলাইয়া নিসাব পরিমাণ হইলে ইহাতে যাকাত ধার্য হইবে নতুবা ধার্য হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ব্যবসায়ে খাটান হউক বা না হউক সম্পদে বৎসরে একবারই যাকাত ধার্য হইয়া থাকে।
Muwatta MalikHadith 596
596
Maqtu Hasan