রেওয়ায়ত ১. আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যদি কেহ নিজের কোন ভাইকে কাফের বলে, তবে এতদুভয়ের মধ্যে একজন (নিশ্চয়ই) কাফের হইল।
রেওয়ায়ত ২. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যদি তুমি কাহাকেও এই কথা বলিতে শুনিতে পাও যে, মানুষ ধ্বংস হইয়াছে, তাহা হইলে সে সবচাইতে অধিক ধ্বংস হইয়াছে।
রেওয়ায়ত ৩. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, তোমাদের কেহই যেন দাহরকে (যুগ বা জমানাকে) মন্দ না বলে। কেননা আল্লাহই দাহর (যুগ)।
রেওয়ায়ত ৪. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, ঈসা ইবনে মরিয়ম (আঃ)-এর সম্মুখে পথে একটি শূকর আসিল। তিনি তখন বলিলেন, নিরাপদে তুমি চলিয়া যাও। লোকেরা তাহাকে বলিল, আপনি শূকরের সাথে কথা বলিতেছেন? (অথচ ইহা সর্বনিকৃষ্ট অশুচি জীব। ইহাকে তো মারিয়া এবং গালমন্দ দিয়া তাড়াইয়া দেওয়া দরকার!) অতঃপর তিনি বলিলেন, ইহাতে আমার মুখ খারাপ কথায় অভ্যস্ত হইবে বলিয়া আমি ভয় করিতেছি।
রেওয়ায়ত ৫. বিলাল ইবনে হারিস মুযানী (রাঃ) হইতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, (অনেক সময়) মানুষ কথা বলে, কিন্তু সেই কথা কোথায় তাহাকে পৌছাইবে, সে তাহা জানে না। অথচ সেই কথার জন্য আল্লাহ তা’আলা তাহার জন্য স্বীয় সন্তুষ্টি কিয়ামত পর্যন্ত লিখিয়া দেন। আবার কোন সময় এমন কথা কেহ বলে, সেই কথা কোথায় গিয়া ক্রিয়া করে সে তাহা জানে না, অথচ সেই কথার জন্য আল্লাহ তা’আলা তাহার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত স্বীয় অসন্তুষ্টি লিখিয়া দেন।
রেওয়ায়ত ৬. আবূ সালেহ সাম্মান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবু হুরায়রা (রাঃ) বলিয়াছেন যে, (অনেক সময়) মানুষ চিন্তা না করিয়া কথা বলে, পরিণামে সে জাহান্নামে পতিত হয়; আবার চিন্তা না করিয়া (এমন) কথা কেহ বলে, যাহার ফলে সে বেহেশতে গমন করে।
রেওয়ায়ত ৭. যায়দ ইবনে আসলম আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, পূর্বদিক হইতে দুইজন লোক আগমন করিল। তাহারা বক্তৃতা দান করিল এবং তাহাদের বক্তৃতায় জনসাধারণ আশ্চর্যান্বিত হইল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিঃসন্দেহে কোন কোন বক্তৃতা যাদুর মতো ক্রিয়া করে।
রেওয়ায়ত ৮. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, ঈসা ইবনে মরিয়ম (আঃ) বলতেন, আল্লাহর যিকির ব্যতীত অনর্থক বেশি কথা বলিও না। অন্যথায় তোমাদের অন্তর কঠিন হইয়া যাইবে। আর কঠিন হৃদয়ের ব্যক্তি আল্লাহ হইতে দূরে থাকে, অথচ তোমরা তাহা জান না। আর তোমরা অপরের গুনাহের দিকে (এইভাবে) তাকাইও না যেন তোমরা তাহাদের প্রভু! তোমরা নিজেদের গুনাহের দিকে (এইভাবে) তাকাও, যেন তোমরা গোলাম। কেননা মানুষ অনেক রকমের হয়। কেহ রোগী আর কেহ সুস্থ। অতএব, রোগীদের প্রতি সদয় হও এবং নিজের সুস্থতার জন্য আল্লাহর শোকর আদায় কর ।
রেওয়ায়ত ৯. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) ইশার নামাযের পর আপনজনদের কাছে বলিয়া পাঠাইতেন যে, লেখক ফেরেশতাদেরকে এখনও আরাম (অবসর) দিবে না?
রেওয়ায়ত ১০. মুত্তালিব ইবনে আবদুল্লাহ মাখযুমী (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করিল, গীবত কি (বা গীবত কাহাকে বলে)? এতদুত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলিলেন, কাহারও অবর্তমানে তাহার এমন কথা প্রকাশ করা যাহা সে শুনিলে অসন্তুষ্ট হইবে। অতঃপর লোকটি (আবার) বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কথা যদি সত্য হয় (অর্থাৎ যাহা বলা হইতেছে উহা যদি মিথ্যা না হয়, বরং সত্য হয় তাহা হইলেও কি উহা গীবত হইবে)? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, যদি মিথ্যা হয়, (তবে উহাকে গীবত বলা হয় না; বরং) উহা বুহতান (অপবাদ)।