রেওয়ায়ত ১. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর রেওয়ায়ত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোঁফ কামাইতে এবং দাড়ি বাড়াইতে নির্দেশ দিয়াছেন।
রেওয়ায়ত ২. আবদুর রহমান ইবন আউফ (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি মু'আবিয়া ইবন আবূ সুফিয়ান (রাঃ)-এর নিকট সেই বৎসর শুনিয়াছেন, যেই বৎসর তিনি (মু'আবিয়া) হজ্জব্রত পালন করিতে গিয়াছিলেন। তিনি মিম্বরের উপর উপবিষ্ট হইয়া খাদেমের হাত হইতে চুলের একটি গুচ্ছ লইয়া বলিলেন, হে মদীনাবাসিগণ! তোমাদের উলামায়ে কিরাম কোথায়? আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইহা হইতে নিষেধ করিতে শ্রবণ করিয়াছি। তিনি (অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ) ইহাও বলিয়াছেন যে, বনী ইসরাঈলের মহিলাগণ এই কাজ করিয়াছিল বিধায় তাহারা ধ্বংস হইয়াছে।
রেওয়ায়ত ৩. ইবনে শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে বেশ কিছু কাল পর্যন্ত স্বীয় চুল (মুবারক) কপালের দিকে ঝুলাইয়া রাখিতেন। পরে উহাতে সিথি বানাইয়া দিতেন (অর্থাৎ চিরুণি দ্বারা চুলকে মাথার মধ্যভাগে দুই ভাগ করিয়া দিতেন)। মালিক (রহঃ) বলেন, পুত্রবধু অথবা শাশুড়ীর চুলের দিকে তাকাইলে গুনাহ হয় না।
রেওয়ায়ত ৪. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) জীবজন্তু খাসি করানোকে খারাপ মনে করিতেন এবং বলিতেন যে, অণ্ডকোষ রাখার অর্থ বংশ জারি রাখা।
রেওয়ায়ত ৫. সফওয়ান ইবনে সুলাইম (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, আমি ও ইয়াতীমের অভিভাবক — এই অভিভাবক সংশ্লিষ্ট ইয়াতীমের আত্মীয় হউক কিংবা অনাত্মীয়, যদি তাহারা আল্লাহকে ভয় করে, তবে বেহেশতে আমরা একে অপরের এমন নিকট হইব যেমন এই দুইটি অঙ্গুলি। এই বলিয়া তিনি [অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] শাহাদতের অঙ্গুলি ও মধ্যমার দিকে ইঙ্গিত করিলেন।
রেওয়ায়ত ৬. ইয়াহইয়া ইবনে সায়ীদ (রহঃ) বলেন, একদা আবূ কাতাদ আনসারী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট বলিলেন, আমার চুল কাঁধ পর্যন্ত (অর্থাৎ বাবরী চুল) আছে। তবে কি আমি উহাতে চিরনি করিব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, হ্যাঁ, চিরনি কর এবং চুলের সম্মান কর। অতঃপর আবু কাতাদা কোন কোন সময় দিনে দুইবার চুলে তৈল লাগাইতেন। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছিলেন, চুলের সম্মান কর।
রেওয়ায়ত ৭. আতা ইবনে ইয়াসার (রহঃ) বলিয়াছেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে বসিয়াছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি আসিল যাহার চুল ও দাড়ি এলোমেলো ছিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে হাতে ইশারা করিয়া বলিলেন, মসজিদের বাহিরে গিয়া চুল-দাড়ি ঠিক করিয়া আস। লোকটি তাহাই করিল এবং (চুল-দাড়ি ঠিক করিয়া) পুনরায় আসিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, তোমাদের কেহ স্বীয় চুল-দাড়ি এলোমেলো অবস্থায় শয়তানের মতো থাকার তুলনায় ইহা (চুল-দাড়ি) ঠিক করিয়া রাখা উত্তম নয় কি?
রেওয়ায়ত ৮. আবু সালমা ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, আবদুর রহমান ইবন আসওয়াদ আমার সঙ্গী ছিলেন। তাঁহার চুল ও দাড়ি সাদা ছিল। একদা তিনি চুলে লাল রং (লাল খেজাব বা মেহেদী) লাগাইয়া সকালে আগমন করিলেন। তখন সকলে বলিল, ইহা বেশ ভাল। তিনি বলিলেন, আমার আম্মা নবী-পত্নী আয়েশা (রাঃ) স্বীয় বাঁদী নুখাইলাকে কসম করিয়া বলিয়া সকালে (আমার কাছে) পাঠাইয়াছেন, খেজাব কর। আর ইহাও বয়ান করিয়াছেন যে, আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)-ও রং (খেজাব) লাগাইতেন। মালিক (রহঃ) বলেন, কাল খেজাব সম্বন্ধে কোন হাদীস শুনি নাই। কাল রঙের খেজাব ব্যতীত অন্য রঙ হইলে ভাল। আল্লাহ্ চাহেন তো কোন রকম খেজাব না লাগানোই সবচেয়ে উত্তম। ইহাতে জনগণের কোন অসুবিধা নাই।[1] মালিক (রহঃ) বলেন, এই হাদীস দ্বারা বুঝা যইতেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজাব লাগান নাই। আর যদি তিনি খেজাব লাগাইতেন, তবে আয়েশা (রাঃ) আবদুর রহমান ইবনে আসওয়াদের নিকট নিশ্চয়ই উহা বলিয়া পাঠাইতেন।
রেওয়ায়ত ৯. ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রহঃ)-এর বর্ণনা-আমার কাছে রেওয়ায়ত পৌঁছিয়াছে যে, খালিদ ইবনে ওলীদ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলিলেন, আমি নিদ্রাবস্থায় (স্বপ্নে) ভয় পাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, তুমি (শোয়ার সময়) এই দোয়া পাঠ করঃ أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ আমি আল্লাহর ক্রোধ ও আযাব হইতে, তাহার বান্দাগণের উপদ্রব হইতে, শয়তানের প্ররোচনা হইতে এবং আমার নিকট শয়তানের আগমন হইতে আল্লাহর পূর্ণ কলেমাসমূহের আশ্রয় প্রার্থনা করিতেছি।
রেওয়ায়ত ১০. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ)-এর রেওয়ায়ত-মিরাজ রজনীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি দৈত্য দেখিতে পাইলেন। তাহার হাতে আগুনের লেলিহান শিখা ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার দিকে দেখিলে মনে হইত যেন সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের দিকে ছুটিয়া আসিতেছে। অতঃপর জিবরীল (আঃ) প্রীয় নবীকে বলিলেন, আমি আপনাকে এমন কতকগুলো শব্দ শিক্ষা দিব কি যাহা পাঠ করিলে এই দৈত্যের আগুন নিভিয়া যাইবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, নিশ্চয়ই শিক্ষা দিবেন। অতঃপর জিবরীল (আঃ) বললেন, পড়ুনঃ أَعُوذُ بِوَجْهِ اللَّهِ الْكَرِيمِ وَبِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ اللاَّتِي لاَ يُجَاوِزُهُنَّ بَرٌّ وَلاَ فَاجِرٌ مِنْ شَرِّ مَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَشَرِّ مَا يَعْرُجُ فِيهَا وَشَرِّ مَا ذَرَأَ فِي الأَرْضِ وَشَرِّ مَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمِنْ فِتَنِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمِنْ طَوَارِقِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ إِلاَّ طَارِقًا يَطْرُقُ بِخَيْرٍ يَا رَحْمَنُ আমি আসমান হইতে আগত ও আসমানের দিকে ধাবিত বস্তুর অমঙ্গল হইতে, মাটিতে সৃষ্ট ও মাটি হইতে বহির্গত বস্তুর অমঙ্গল হইতে, রাত্ৰ-দিনের বালা-মুসিবত হইতে ও রাত্ৰ-দিনের ঘটনাপ্রবাহ হইতে — তবে উত্তম ঘটনা হইতে নয়— হে দয়াময়! (আমি) আল্লাহর সম্মানিত সত্তার ও তাহার সেই পূর্ণ কলেমাসমূহের আশ্রয় প্রার্থনা করিতেছি, যাহা পুণ্যবান ও পাপী কেহই অতিক্রম করিতে পারে না।