Muwatta Malik
Sahih Lighairihi
705

রেওয়ায়ত ১. আসমা বিনত উমাইস (রাঃ) বলেন, বায়দা নামক স্থানে মুহাম্মদ ইবন আবূ বকর (রাঃ)-এর জন্ম হয়। আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলে তিনি বলিলেনঃ আসমাকে বলিয়া দিন সে যেন গোসল করিয়া ইহরাম বাধিয়া নেয়।

Sahih Lighairihi
706

রেওয়ায়ত ২. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বর্ণনা করেন- জুল-হুলায়ফা নামক স্থানে আসমা বিনত উমাইসের গর্ভে আবূ বকর (রাঃ)-এর পুত্র মুহাম্মদের জন্ম হয়। আবু বকর (রাঃ) তখন আসমাকে গোসল করিয়া ইহরাম বাধিয়া নিতে নির্দেশ দেন।

Mauquf Sahih
707

রেওয়ায়ত ৩. নাফি' (রহঃ) বর্ণনা করেন- আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) ইহরাম বাঁধার উদ্দেশ্যে গোসল করিতেন। মক্কায় প্রবেশের পূর্বে এবং যিলহজ্জ মাসের নবম তারিখে আরাফাতে অবস্থানের জন্যও তিনি গোসল করতেন।

Sahih
708

রেওয়ায়ত ৪. ইবরাহীম ইবন আবদুল্লাহ ইবন হুনায়ন (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন- আব্বাস (রাঃ) এবং মিসওয়ার ইবন মাখরামার মধ্যে আবওয়া’ নামক স্থানে বিতর্ক হয়। ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর অভিমত ছিল মুহরিম অর্থাৎ ইহরামরত ব্যক্তি মাথা ধুইতে পারে আর মিসওয়ারের অভিমত ছিল যে, মুহরিম মাথা ধুইতে পারে না। আবদুল্লাহ ইবন হুনায়ন বলেনঃ শেষে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) আমাকে এই বিষয়ের মীমাংসার জন্য আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)-এর নিকট প্রেরণ করেন। তখন তিনি একটি কুয়ার ধারে পর্দা টাঙ্গাইয়া গোসল করিতেছিলেন। আমি পর্দার বাহির হইতে তাহাকে সালাম করিলাম। তিনি বলিলেনঃ কে? আমি বলিলামঃ আবদুল্লাহ ইবন হুনায়ন। আমাকে আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (রাঃ) পাঠাইয়াছেন, ইহরাম অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিরূপে মাথা ধুইতেন তাহা জানিবার জন্য। আবু আইয়ূব (রাঃ) মাথায় হাত রাখিয়া মাথার কাপড় সরাইয়া দিলেন, আমি তাহার মাথাটি তখন স্পষ্ট দেখিতে পাইতেছিলাম। যে ব্যক্তি তাঁহার গায়ে পানি ঢালিতেছিল তাহাকে বলিলেনঃ পানি ঢাল। ঐ ব্যক্তি তাহার মাথায় পানি ঢালিতে লাগিল আর তিনি তাহার দুই হাত মাথার সামনে এবং পিছনে মর্দন করিয়া বলিলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এইরূপ করিতে দেখিয়াছি।

Mauquf Sahih Lighairihi
709

রেওয়ায়ত ৫. আতা ইবন আবি রাবাহ (রহঃ) বর্ণনা করেন- উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) গোসল করিতেছিলেন এবং ইয়ালা ইবন মুনইয়া (রহঃ) পানি ঢালিয়া দিতেছিলেন। উমর (রাঃ) ইয়ালাকে বলিলেনঃ আমার মাথায় পানি ঢালিয়া দাও। তখন তিনি বলিলেনঃ আপনি কি আমার দ্বারা এই কাজ করাইতে চান? (অর্থাৎ পানি মাথায় ঢালা সম্পর্কে ইয়ালার ভিন্নমত ছিল।) যদি হুকুম করেন তবে পানি ঢালিতে পারি। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিলেনঃ পানি ঢাল, কারণ পানি চুলের রুক্ষতাই বাড়াইবে।

Mauquf Sahih
710

রেওয়ায়ত ৬. নাফি' (রহঃ) বর্ণনা করেন- আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) যখন মক্কার নিকটবর্তী হইতেন তখন দুই গিরিপথের মধ্যবর্তী যি-তুওয়া নামক স্থানে রাত্রিযাপন করিতেন। পরে ফজরেই নামাযের পর উপরের গিরিপথ বাহিয়া মক্কায় প্রবেশ করিতেন। আর হজ্জ বা উমরার উদ্দেশ্যে আসিলে যি-তুওয়ায় গোসল না করিয়া সেখানে প্রবেশ করিতেন না। সঙ্গীগণকে মক্কা প্রবেশের পূর্বে গোসল করিতে তিনি নির্দেশ দিতেন।

Mauquf Sahih
711

রেওয়ায়ত ৭. নাফি' (রহঃ) বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) ইহরামের অবস্থায় মাথা ধুইতেন না। তবে স্বপ্নদোষ হইলে বাধ্যতামূলক ধুইতে হইত। মালিক (রহঃ) বলেন, বিজ্ঞ আলিমদের নিকট শুনিয়াছি যে, জমরা-এ-আকাবার রমি করার পর মাথা কামাইবার পূর্বেই সাবান ইত্যাদি দ্বারা মাথা ধৌত করা যায়। কেননা জমরা-এ-আকাবায় প্রস্তর নিক্ষেপের পর উকুন মারা, মাথা কামানো, ময়লা বিদূরিত করা, কাপড় পরা ইত্যাদি কাজ মুহরিমের জন্য হালাল হইয়া যায়।

Sahih
712

রেওয়ায়ত ৮. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট জিজ্ঞাসা করিল, ইহরাম অবস্থায় মুহরিম ব্যক্তি কি ধরনের কাপড় পরিধান করিতে পারে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে বলিলেনঃ কোর্তা পরিবে না, পাগড়ি বাধিবে না, টুপি, পাজামা এবং মোজা পরিবে না। তবে কাহারও চপ্পল না থাকিলে সে মোজা পরিতে পারে বটে কিন্তু উহা এমনভাবে কাটিয়া পরিবে যাহাতে পায়ের টাখনা বাহির হইয়া থাকে। জাফরান বা ওয়ারস (এক প্রকার সুগন্ধযুক্ত রঙিন ঘাস) রঞ্জিত কাপড়ও পরিতে পারিবে না। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ মালিক (রহঃ)-এর নিকট একবার জিজ্ঞাসা করা হইল, একটি হাদীস হইতে জানা যায় যে, লুঙ্গি না পাইলে সে পায়জামা পরিতে পরিবে। মুহরিমের জন্য পায়জামা পরা কি জায়েয হইবে? মালিক (রহঃ) উত্তরে বললেনঃ এই ধরনের কোন হাদীস আমি শুনি নাই। আমার মতে মুহরিমের জন্য পায়জামা পরিধান করা উচিত হইবে না। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহরিমকে পায়জামা পরিতে নিষেধ করিয়াছেন এবং মোজার ব্যাপারে যেমন অনুমতি প্রদান করা হইয়াছে পায়জামার ব্যাপারে তদ্রুপ অনুমতি প্রদান করা হয় নাই।

Sahih
713

রেওয়ায়ত ৯. আবদুল্লাহ ইবন দীনার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় জাফরান এবং ওয়ার্স রঞ্জিত কাপড় পরিধান করিতে নিষেধ করিয়াছেন। তিনি বলিয়াছেন, যাহার জুতা নাই সে মোজা (চামড়ার) পরিতে পারবে, কিন্তু টাখনার[1] নিচ পর্যন্ত উহা কাটিয়া নিবে।

Mauquf Sahih
714

রেওয়ায়ত ১০. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ্ (রাঃ)-কে ইহরাম অবস্থায় রঙিন কাপড় পরিতে দেখিয়া তাহাকে বলিলেনঃ তালহা, এ রঙিন কাপড় কেন? তিনি বলিলেনঃ আমীরুল মুমিনীন, ইহা তো মাটির রঙ। ইহাতে দোষ কি? উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বললেন, দেখ, তোমরা হইলে নেতা। অন্যরা তোমাদের অনুসরণ করিয়া চলে। স্বল্প বুদ্ধির কেউ তোমাকে দেখিলে মনে করিবে, তাহা ইবন উবায়দুল্লাহও ইহরাম অবস্থায় রঙিন কাপড় পরেন। সুতরাং তোমাদের কোন প্রকারের রঙিন কাপড় পরা উচিত নহে।

Previous section
Page 1 of 26
Next section