Muwatta Malik
Sahih
449

রেওয়ায়ত ১. আব্বাদ ইবন তামীম (রহঃ) বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবন যায়দুল মাযনী (রাঃ)-কে আমি বলিতে শুনিয়াছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার মুসাল্লা-র (নামাযের স্থান- ঈদগাহ) দিকে বাহির হইলেন, তারপর বৃষ্টি প্রার্থনা করিলেন, আর কিবলামুখী হওয়ার সময় আপন চাদর ঘুরাইয়া দিলেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল, সালাতুল ইসতিসকা সম্পর্কে; উহা কত রাকাআত? তিনি (উত্তরে) বলিলেনঃ দুই রাকাআত; কিন্তু ইমাম খুতবা পাঠের পূর্বে নামায আরম্ভ করিবেন। অতঃপর দুই রাকাআত পড়িবেন, তারপর দাঁড়াইয়া খুতবা প্রদান করিবেন এবং দু'আ করবেন। আর কিবলার দিকে যখন মুখ করিবেন, তখন আপন চাদর ঘুরাইবেন। আর উভয় রাকাআতে কিরাআত সরবে পড়িবেন, আর যখন চাদর ঘুরাইবেন, তখন ডান কাধের চাদরকে বাম কাঁধে এবং বা কাঁধের চাদরকে ডান কাঁধে করিবেন। ইমাম যখন আপন চাদর ঘুরাইয়া লইবেন লোকজনও তাঁহাদের স্ব-স্ব চাদর ঘুরাইবেন, আর তাহারা কিবলামুখী হইয়া বসিবেন।

Hasan
450

রেওয়ায়ত ২. আমর ইবন শুয়াইব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বৃষ্টি প্রার্থনা করিতেন, তখন বলিতেনঃ اللَّهُمَّ اسْقِ عِبَادَكَ وَبَهِيمَتَكَ وَانْشُرْ رَحْمَتَكَ وَأَحْىِ بَلَدَكَ الْمَيِّتَ অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আপনার বান্দা ও জীব-জন্তুর পিপাসা নিবারণ করুন এবং আপনার রহমত বিস্তার করুন; আর পানির অভাবে মৃতপ্রায় শহরকে পুনরুজ্জীবিত করুন।

Sahih
451

রেওয়ায়ত ৩. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে হাযির হইয়া বলিলঃ গৃহপালিত পশু ধ্বংস হইয়াছে এবং পথঘাট বিনষ্ট হইয়াছে, অতএব আপনি আল্লাহ্‌র নিকট দুআ করুন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করিলেন, ইহাতে জুম'আর দিন হইতে আমাদের উপর বৃষ্টি হইল। আনাস (রাঃ) বলেন, অতঃপর এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে আসিয়া বলিলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হইয়াছে, পথ-ঘাট রুদ্ধ হইয়াছে এবং গৃহপালিত পশু মারা যাইতেছে। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করিলেনঃ আল্লাহ! পাহাড় ও টিলার পৃষ্ঠদেশে, উপত্যকার মধ্যভাগে এবং বৃক্ষের গোড়ায় বৃষ্টি হউক। আব্বাস (রাঃ) বলেন, (দু'আর পর) মদীনার আকাশ হইতে মেঘ চতুর্দিকে সরিয়া গেল; যেমন পুরাতন কাপড় ছিড়িয়া বিভক্ত হইয়া যায়। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- ইসতিসকার নামায যে ব্যক্তি পায় নাই, অথচ সে খুতবায় শরীক হইয়াছে, অতঃপর সে (ঈদগাহ হইতে) প্রত্যাবর্তন করার পর তাহার গৃহে অথবা মসজিদে নামায পড়িতে ইচ্ছা করিলে তাহার সম্পর্কে কি হুকুম? এইমৰ্মে আমি প্রশ্ন করিলে পর মালিক (রহঃ) বলেন, তাহার ইখতিয়ার রহিয়াছে, ইচ্ছা করিলে পড়িতে পারে, ইচ্ছা করিলে নাও পড়িতে পারে।

Sahih
452

রেওয়ায়ত ৪. যায়দ ইবন খালিদ জুহানী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, হুদায়বিয়ায় রাত্রে বৃষ্টি হইয়াছিল ও উহার চিহ্ন সকালেও বিদ্যমান ছিল, সেই অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদিগকে ফজরের নামায পড়াইলেন। যখন নামায সমাপ্ত করিলেন, তখন পবিত্র মুখমণ্ডল লোকের দিকে করিলেন এবং বলিলেনঃ তোমরা অবগত আছ কি তোমাদের প্রভু কি বলিয়াছেন? তাহারা বলিলেনঃ আল্লাহ্ ও তাঁহার রসূল অধিক অবগত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ (আল্লাহ) বলিয়াছেন, আমার বান্দাদের মধ্য হইতে কিছুসংখ্যক লোক প্রভাত করিয়াছে আমার প্রতি ঈমান (বিশ্বাস) রাখিয়া, আর (কিছুসংখ্যক) প্রভাত করিয়াছে আমার সাথে কুফরী করিয়া। যে বলিয়াছে, আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ ও রহমতে আমাদের প্রতি বৃষ্টি বর্ষিত হইয়াছে, সে আমার প্রতি মুমিন রহিয়াছে, আর নক্ষত্রের প্রতি অস্বীকারী হইয়াছে। আর যে বলিয়াছে, অমুক নক্ষত্রের দ্বারা বৃষ্টি বর্ষিত হইয়াছে, সে আমার প্রতি অস্বীকারকারী হইয়াছে এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাসী হইয়াছে।

Mawdu
453

রেওয়ায়ত ৫. মালিক (রহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সমুদ্রের দিক হইতে মেঘ উঠিয়া শাম[1] অভিমুখে গমন করিল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিতেন, عَيْنٌ غُدَيْقَةٌ ইহা বৰ্ষণপূর্ণ প্রস্রবণ।

Mauquf Daif
454

রেওয়ায়ত ৬. মালিক (রহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, যখন ফজর হয়, আর লোকের প্রতি বৃষ্টি বর্ষিত হয়, তখন আবু হুরায়রা (রাঃ) বলতেনঃ আল্লাহর রহমতে আমাদের প্রতি বৃষ্টি বর্ষিত হইল। অতঃপর এই আয়াতটি তিলাওয়াত করিতেনঃ ‏مَا يَفْتَحِ اللَّهُ لِلنَّاسِ مِنْ رَحْمَةٍ فَلاَ مُمْسِكَ لَهَا অর্থাৎ আল্লাহ মানুষের প্রতি কোন অনুগ্রহ অবারিত করিলে কেহ নিবারণ করিতে পারে না।