Sahih al Bukhari
2566

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, হে মুসলিম নারীগণ! কোন মহিলা প্রতিবেশিনী যেন অপর মহিলা প্রতিবেশিনীর হাদিয়া তুচ্ছ মনে না করে, এমনকি তা ছাগলের সামান্য গোশ্তযুক্ত হাড় হলেও। (৬০১৭, মুসলিম ১২/২৯ হাঃ ১০৩০, আহমাদ ৮০৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

2567

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি একবার ‘উরওয়াহ (রাঃ)-’র উদ্দেশে বললেন, ভাগ্নে! আমরা নতুন চাঁদ দেখতাম, আবার নতুন চাঁদ দেখতাম। এভাবে দু’মাসে তিনটি নতুন চাঁদ দেখতাম। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোন ঘরেই আগুন জ্বালানো হত না। [‘উরওয়াহ (রহ.) বলেন] আমি জিজ্ঞেস করলাম, খালা! আপনারা তাহলে বেঁচে থাকতেন কিভাবে? তিনি বললেন, দু’টি কালো জিনিস অর্থাৎ খেজুর আর পানিই শুধু আমাদের বাঁচিয়ে রাখত। কয়েক ঘর আনসার রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতিবেশী ছিল। তাঁদের কিছু দুগ্ধবতী উটনী ও বকরী ছিল। তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য দুধ হাদিয়া পাঠাত। তিনি আমাদের তা পান করতে দিতেন। (৬৪৫৮, ৬৪৫৯, মুসলিম ৫৩/১ হাঃ ২৯৬২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

2568

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যদি আমাকে হালাল পশুর পায়া বা হাতা খেতে ডাকা হয়, তবু তা আমি গ্রহণ করব আর যদি আমাকে পায়া বা হাতা হাদিয়া দেয়া হয়, আমি তা গ্রহণ করব। (৫১৭৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

2569

وَقَالَ أَبُوْ سَعِيْدٍ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم اضْرِبُوْا لِيْ مَعَكُمْ سَهْمًا আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমাদের সঙ্গে আমার জন্য এক অংশ রেখ। ২৫৬৯. সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক মুহাজির১ মহিলার নিকট নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোক পাঠালেন। তাঁর এক গোলাম ছিল কাঠ মিস্ত্রি। তিনি তাকে বললেন, তুমি তোমার গোলামকে বল, সে যেন আমাদের জন্য একটা কাঠের মিম্বার তৈরি করে। তিনি তার গোলামকে নির্দেশ দিলেন। সে গিয়ে এক রকম গাছ কেটে এনে মিম্বার তৈরী করল। কাজ শেষ হলে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট লোক পাঠিয়ে জানালেন যে, গোলাম তার কাজ শেষ করেছে। তিনি বললেন, সেটা আমার নিকট পাঠিয়ে দাও। তখন লোকেরা তা নিয়ে এল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেটা বহন করে সেখানে রাখলেন, যেখানে তোমরা দেখতে পাচ্ছ। (৩৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

2570

আবূ ক্বাতাদাহ সালামী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি মক্কার পথে কোন এক মনযিলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কয়েকজন সাহাবীর সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের অগ্রবর্তী কোন স্থানে অবস্থান করছিলেন। সকলেই ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। আমি শুধু ইহরাম ব্যতীত ছিলাম। তাঁরা একটি বন্য গাধা দেখতে পেলেন। আমি তখন আমার জুতা মেরামত করছিলাম। তাঁরা আমাকে সে সম্পর্কে জানাননি। অথচ সেটি আমি যেন দেখতে পাই তাঁরা তা চাচ্ছিলেন। আমি হঠাৎ সেদিকে তাকালেন, সেটা আমার নযরে পড়ল। তখন আমি উঠে ঘোড়ার দিকে এগিয়ে গেলাম এবং জীন লাগিয়ে তাতে সাওয়ার হলাম। কিন্তু চাবুক ও বর্শা নিতে ভুলে গেলাম। তখন তাঁদের বললাম, চাবুক আর বর্শাটা আমাকে তুলে দাও। কিন্তু তাঁরা বললেন, আল্লাহর কসম! গাধা শিকার করার ব্যাপারে আমরা তোমাকে কোন সাহায্যই করব না। আমি তখন রাগ করে নেমে এলাম এবং সে দু’টি তুলে নিয়ে সাওয়ার হলাম। আর গাধাটা আক্রমণ করে আহত করলাম। তাতে সেটি মারা গেল। অতঃপর সেটাকে নিয়ে আসলাম। তারা সেই গাধার গোশত খেতে লাগলেন। পরে তাদের মনে ইহরাম অবস্থায় তা খাওয়া নিয়ে সন্দেহ দেখা দিল। আমরা যাত্রা শুরু করলাম। এক ফাঁকে আমি আমার নিকট গাধার একটি হাতা লুকিয়ে রেখেছিলাম। আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাক্ষাৎ পেয়ে সেই গোশত সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তোমাদের সঙ্গে সেটার গোশতের কিছু আছে কি? আমি বললাম, হ্যাঁ আছে। অতঃপর হাতাখানা তাঁকে দিলে তিনি ইহরাম অবস্থায় তার সবটুকু খেলেন। এ হাদীসটি যায়দ ইবনু আসলাম (রাঃ) ‘আতা’ ইবনু ইয়াসার (রহ.)-এর মাধ্যমে আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। (১৮২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

2571

وَقَالَ سَهْلٌ قَالَ لِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْقِنِي সাহল (রাঃ) বর্ণনা করেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, আমাকে পান করাও। ২৫৭১. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের এই ঘরে আগমন করেন এবং কিছু পান করতে চাইলেন। আমরা আমাদের একটা বকরীর দুধ দোহন করে তাতে আমাদের এই কুয়ার পানি মিশালাম। অতঃপর তা সম্মুখে পেশ করলাম। এ সময় আবূ বাকর (রাঃ) ছিলেন তাঁর বামে, ‘উমার (রাঃ) ছিলেন তাঁর সম্মুখে, আর এক বেদুঈন ছিলেন তাঁর ডানে। তিনি যখন পান শেষ করলেন, তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, ইনি আবূ বাকর, কিন্তু রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বেদুঈনকে তার অবশিষ্ট পানি দান করলেন। অতঃপর বললেন, ডান দিকের ব্যক্তিদেরকেই (অগ্রাধিকার), ডান দিকের ব্যক্তিদের (অগ্রাধিকার) শোন! ডান দিক থেকেই শুরু করবে। আনাস (রাঃ) বলেন, এটাই সুন্নাত, এটাই সুন্নাত, এটাই সুন্নাত। (২৩৫২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

2572

وَقَبِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَبِيْ قَتَادَةَ عَضُدَ الصَّيْدِ. আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিকারকৃত পশুর একটি বাহু গ্রহণ করেছিলেন। ২৫৭২. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (মক্কার অদূরে) মার্রায্ যাহারান নামক স্থানে আমরা একটি খরগোশ তাড়া করলাম। লোকেরা সেটার পিছনে ধাওয়া করে ক্লান্ত হয়ে পড়ল। অবশেষে আমি সেটাকে পেয়ে গেলাম এবং ধরে আবূ ত্বলহা (রাঃ)-এর নিকট নিয়ে গেলাম। তিনি সেটাকে যব্হ করে তার পাছা অথবা রাবী বলেন, দু’ উরু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর খিদমতে পাঠালেন। শু‘বা (রহ.) বলেন, দু’টি উরুই এতে কোন সন্দেহ নেই। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা গ্রহণ করেছিলেন। রাবী বলেন, আমি শু‘বা (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কি তা খেয়েছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, খেয়েছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা গ্রহণ করেছিলেন। (৫৪৮৯, ৫৫৩৫ মুসলিম ৩৫/৪, হাঃ ১৯৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

2573

সা‘আব ইবনু জাসসামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি (সা‘আব ইবনু জাসসামা) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য একটি বন্য গাধা হাদিয়া পাঠালেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন আবওয়া কিংবা ওয়াদ্দান নামক স্থানে ছিলেন। তিনি হাদিয়া ফেরত পাঠালেন। পরে তার বিষণ্ণ মুখ দেখে বললেন, শুন! আমরা ইহরাম অবস্থায় না থাকলে তোমার হাদিয়া ফেরত দিতাম না। (১৮২৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

2574

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। লোকেরা তাদের হাদিয়া পাঠাবার ব্যাপারে ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর জন্য নির্ধারিত দিনের অপেক্ষা করত। এতে তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করত। (২৫৮০, ২৫৮১, ৩৭৭৫, মুসলিম ৪৪/১৩, হাঃ ২৪৪১, ২৪৪২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

2575

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘আব্বাসের খালা উম্মু হুফায়দ (রাঃ) একদা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর খিদমাতে পনির, ঘি ও দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) হাদিয়া পাঠালেন। কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শুধু পনির ও ঘি খেলেন আর দব্ব অরুচিকর হওয়ায় বাদ দিলেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দস্তরখানে (দব্ব) খাওয়া হয়েছে। তা হারাম হলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দস্তরখানে খাওয়া হত না। (৫৩৮৯, ৫৪০২, ৭৩৫৮, মুসলিম ৩৪/৭ হাঃ ১৯৪৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

Previous section
Page 1 of 8
Next section