لِقَوْلِهِ تَعَالَى (وَلاَ تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ تِلْكَ حُدُودُ اللهِ فَلاَ تَقْرَبُوهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللهُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ) কারণ আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘আর যতক্ষণ তোমরা ই‘তিকাফ অবস্থায় মাসজিদসমূহে অবস্থান কর ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মেলামেশা করো না। এগুলো আল্লাহর সীমারেখা। অতএব তোমরা এর নিকটবর্তী হয়ো না। এভাবে আল্লাহ তাঁর নিদর্শনাবলী মানব জাতির জন্যে সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে।’’ (আল-বাকারাহঃ ১৮৭) ২০২৫. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করতেন। (মুসলিম ১৪/১, হাঃ ১১৭১, আহমাদ ৬১৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
নবী সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানের শেষ দশক ই‘তিকাফ করতেন। তাঁর ওফাত পর্যন্ত এই নিয়মই ছিল। এরপর তাঁর সহধর্মিণীগণও (সে দিনগুলোতে) ই‘তিকাফ করতেন। (২০৩৩, ২০৩৪, ২০৪১, ২০৪৫, মুসলিম ১৪/১, হাঃ ১১৭২, আহমাদ ২৬০১১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানের মধ্যম দশকে ই‘তিকাফ করতেন। এক বছর এরূপ ই‘তিকাফ করেন, যখন একুশের রাত এল, যে রাতের সকালে তিনি তাঁর ই‘তিকাফ হতে বের হবেন, তখন তিনি বললেনঃ যারা আমার সঙ্গে ই‘তিকাফ করেছে তারা যেন শেষ দশকে ই‘তিকাফ করে। আমাকে স্বপ্নে এই রাত (লাইলাতুল কদর [ক্বদর]) দেখানো হয়েছিল, পরে আমাকে তা (সঠিক তারিখ) ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। অবশ্য আমি স্বপ্নে দেখতে পেয়েছি যে, ঐ রাতের সকালে আমি কাদা-পানির মাঝে সিজদা করছি। তোমরা তা শেষ দশকে তালাশ কর এবং প্রত্যেক বেজোড় রাতে তালাশ কর। পরে এই রাতে আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষিত হয়, মসজিদের ছাদ ছিল খেজুরের পাতার ছাউনির। ফলে মসজিদে টপটপ করে বৃষ্টি পড়তে লাগল। একুশের রাতের সকালে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কপালে কাদা-পানির চিহ্ন আমার এ দু’চোখ দেখতে পায়। (৬৬৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
নবী সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মসজিদে ই‘তিকাফরত অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দিকে তাঁর মাথা ঝুঁকিয়ে দিতেন আর আমি ঋতুমতী অবস্থায় তাঁর চুল আঁচড়িয়ে দিতাম। (২৯৫, মুসলিম ৩/৩, হাঃ ২৯৭, আহমাদ ২৬৩২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
নবী সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে থাকাবস্থায় আমার দিকে মাথা বাড়িয়ে দিতেন আর আমি তা আঁচড়িয়ে দিতাম এবং তিনি যখন ই‘তিকাফে থাকতেন তখন (প্রাকৃতিক) প্রয়োজন ব্যতীত ঘরে প্রবেশ করতেন না। (২০৩৩, ২০৩৪, ২০৪১, ২০৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
এবং তিনি ই‘তিকাফরত অবস্থায় মাসজিদ হতে তাঁর মাথা বের করে দিতেন, আমি ঋতুমতী অবস্থায় তা ধুয়ে দিতাম। (২৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯০০ শেষাংশ)
এবং তিনি ই‘তিকাফরত অবস্থায় মাসজিদ হতে তাঁর মাথা বের করে দিতেন, আমি ঋতুমতী অবস্থায় তা ধুয়ে দিতাম। (২৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯০০ শেষাংশ)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত যে, ‘উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করেন যে, আমি জাহিলিয়্যা যুগে মাসজিদুল হারামে এক রাত ই‘তিকাফ করার মানৎ করেছিলাম। তিনি (উত্তরে) বললেনঃ তোমার মানৎ পুরা কর। (২০৪৩, ৩১৪৪, ৪৩২০, ৬৬৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমাযানের শেষ দশকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই‘তিকাফ করতেন। আমি তাঁর তাঁবু তৈরি করে দিতাম। তিনি ফজরের সালাত আদায় করে তাতে প্রবেশ করতেন। (নবী-সহধর্মিণী) হাফসাহ্ (রাযি.) তাঁবু খাটাবার জন্য ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর কাছে অনুমতি চাইলেন। তিনি তাঁকে অনুমতি দিলে হাফসাহ্ (রাযি.) তাঁবু খাটালেন। (নবী-সহধর্মিনী) যায়নাব বিনতু জাহশ (রাযি.) তা দেখে আরেকটি তাঁবু তৈরি করলেন। সকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁবুগুলো দেখলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ এগুলো কী? তাঁকে জানানো হলে তিনি বললেনঃ তোমরা কি মনে কর এগুলো দিয়ে নেকী হাসিল হবে? এ মাসে তিনি ই‘তিকাফ ত্যাগ করলেন এবং পরে শাওয়াল মাসে দশ দিন (কাযা স্বরূপ) ই‘তিকাফ করেন। (২০২৬, ২০২৯, মুসলিম ১৪/২, হাঃ ১১৭৩, আহমাদ ২৪৫৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই‘তিকাফ করার ইচ্ছা করলেন। এরপর যে স্থানে ই‘তিকাফ করার ইচ্ছা করেছিলেন সেখানে এসে কয়েকটি তাঁবু দেখতে পেলেন। (তাঁবুগুলো হল নবী-সহধর্মিণী) ‘আয়িশাহ্ (রাযি.), হাফসাহ্ (রাযি.) ও যায়নাব (রাযি.)-এর তাঁবু। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা কি এগুলো দিয়ে নেকী হাসিলের ধারণা কর? এরপর তিনি চলে গেলেন আর ই‘তিকাফ করলেন না। পরে শাওয়াল মাসে দশ দিনের ই‘তিকাফ করলেন। (২০২৬, ২০২৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)