Sahih al Bukhari
1867

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মদিনা এখান হতে ওখান পর্যন্ত হারাম (রূপে গণ্য)। সুতরাং তার গাছ কাটা যাবে না এবং এখানে কোন ধরনের অঘটন (বিদ‘আত, অত্যাচার ইত্যাদি) ঘটানো যাবে না। যদি কেউ এখানে কোন অঘটন ঘটায় তাহলে তার প্রতি আল্লাহ্‌র এবং ফেরেশতাদের ও সকল মানুষের লা’নত (অভিশাপ)। (৭৩০৬, মুসলিম ১৫/৮৫, হাঃ ১৩৬৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

1868

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদ্বীনায় এসে মাসজিদ নির্মাণের আদেশ দেন। অতঃপর বলেনঃ হে বনূ নাজ্জার! আমার নিকট হতে মূল্য নিয়ে (ভূমি) বিক্রি কর। তাঁরা বললেন, আমরা এর মূল্য কেবল আল্লাহর নিকটই চাই। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নির্দেশে মুশরিকদের কবর খুঁড়ে ফেলা হল, ধ্বংসাবশেষ সমতল করা হল, খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলা হল। কেবল মসজিদের কিবলার দিকে কিছু খেজুর গাছ সারিবদ্ধভাবে রাখা হল। (২৩৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

1869

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাদ্বীনার দু’ পাথুরে ভূমির মধ্যবর্তী স্থান আমার ঘোষণা মোতাবেক হারাম হিসাবে নির্ধারিত করা হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ হারিসের নিকট তাশরীফ আনেন এবং বলেনঃ হে বনূ হারিসা! আমার ধারণা ছিল যে, তোমরা হারামের বাইরে অবস্থান করছ, অতঃপর তিনি সেদিকে দৃষ্টিপাত করে বললেনঃ (না তোমরা হারামের বাইরে নও) বরং তোমরা হারামের ভিতরেই আছ। (১৮৭৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

1870

‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের কাছে আল্লাহ্‌র কিতাব এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত, এ সহীফা ছাড়া আর কিছুই নেই। তিনি আরো বলেন, ‘আয়ির নামক জায়গা হতে অমুক জায়গা পর্যন্ত মদিনা হল হারাম। যদি কেউ এতে অঘটন ঘটায় অথবা আশ্রয় দেয়, তাহলে তার উপর আল্লাহর, ফেরেশ্তা ও মানুষের অভিসম্পাত। সে ব্যক্তির কোন ফরয এবং নফল ‘ইবাদত গৃহীত হবে না। তিনি আরো বলেন, মুসলিম কর্তৃক নিরাপত্তা দানের অধিকার সকলের ক্ষেত্রে সমান। তাই যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের দেয়া নিরাপত্তাকে লঙ্ঘন করবে, তার প্রতি আল্লাহ্‌র অভিসম্পাত এবং সকল ফেরেশতা ও মানুষের। আর কবূল করা হবে না তার কোন নফল কিংবা ফরয ‘ইবাদাত। যে ব্যক্তি তার মাওলার (চুক্তিবদ্ধ মিত্রের) অনুমতি ছাড়া অন্য সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্ব করবে, তার প্রতিও আল্লাহ্‌র এবং সব ফেরেশতা ও সকল মানুষের অভিসম্পাত। তার ফরয কিংবা নফল কোন ‘ইবাদাতই কবূল করা হবে না। আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, ‘আদলুন’ অর্থ বিনিময়। (১১১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

1871

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি এমন এক জনপদে হিজরত করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি, যে জনপদ অন্য সকল জনপদের উপর জয়ী হবে। লোকেরা তাকে ইয়াসরিব বলে থাকে। এ হল মদিনা। তা অবাঞ্ছিত লোকদেরকে এমনভাবে বহিষ্কার করে দেয়, যেমনভাবে কামারের অগ্নিচুলা লোহার মরিচা দূর করে দেয়। (মুসলিম ১৫/৮৮, হাঃ ১৩৮২, আহমাদ ৮৯৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

1872

আবূ হুমাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আমরা তাবূক যুদ্ধ হতে প্রত্যাবর্তন করে মাদ্বীনার নিকটবর্তী স্থানে পৌঁছলে, তিনি বললেনঃ (মদিনা্) হল ত্বাবাহ। (১৪৮১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

1873

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলতেন, আমি যদি মাদ্বীনাতে কোন হরিণকে বেড়াতে দেখি তাহলে তাকে আমি তাড়াব না। (কেননা) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাদ্বীনার প্রস্তরময় পাহাড়ের দুই এলাকার মধ্যবর্তী এলাকা হল হারাম বা সম্মানিত স্থান। (১৮৬৯, মুসলিম ১৫/৮৫, হাঃ ১৩৭২, আহমাদ ৭২২২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

1874

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, তোমরা উত্তম অবস্থায় মদিনাকে রেখে যাবে। আর জীবিকা অন্বেষণে বিচরণকারী অর্থাৎ পশু-পাখি ছাড়া আর কেউ একে আচ্ছন্ন করে নিতে পারবে না। সবশেষে যাদের মদিনা্তে একত্রিত করা হবে তারা হল মুযায়না গোত্রের দু’জন রাখাল। তারা তাদের বকরীগুলোকে হাঁক-ডাক দিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশেই মদিনাতে আসবে। এসে দেখবে মদিনা বন্য পশুতে ছেয়ে আছে। এরপর তারা সানিয়্যাতুল-বিদা নামক স্থানে পৌঁছতেই মুখ থুবড়ে পড়ে যাবে। (মুসলিম ১৫/৯১, হাঃ ১৩৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

1875

সুফইয়ান ইবনু আবূ যুহায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ ইয়ামান বিজিত হবে, তখন একদল লোক নিজেদের সওয়ারী তাড়িয়ে এসে স্বীয় পরিবার-পরিজন এবং অনুগত লোকদেরকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে। অথচ মদিনা তাদের জন্য উত্তম ছিল, যদি তারা বুঝত। সিরিয়া বিজিত হবে, তখন একদল লোক নিজেদের সওয়ারী তাড়িয়ে এসে স্বীয় পরিবার-পরিজন এবং অনুগত লোকদেরকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে; অথচ মাদ্বীনাই ছিল তাদের জন্য মঙ্গলজনক, যদি তারা জানত। এরপর ইরাক বিজিত হবে তখন একদল লোক নিজেদের সওয়ারী তাড়িয়ে এসে স্বজন এবং অনুগতদেরকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে; অথচ মাদ্বীনাই তাদের জন্য ছিল মঙ্গলজনক, যদি তারা জানত। (মুসলিম ১৫/৯০, হাঃ ১৩৮৮, আহমাদ ২১৯৭৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

1876

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈমান মদিনাতে ফিরে আসবে যেমন সাপ তার গর্তে ফিরে আসে। (মুসলিম ১/৬৫, হাঃ ১৪৭, আহমাদ ৯৪৬২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

Previous section
Page 1 of 3
Next section