Sahih al Bukhari
1040

আবূ বাকরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট ছিলাম, এ সময় সূর্যগ্রহণ শুরু হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন উঠে দাঁড়ালেন এবং নিজের চাদর টানতে টানতে মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং আমরাও প্রবেশ করলাম। তিনি আমাদেরকে নিয়ে সূর্য প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কারো মৃত্যুর কারণে কখনো সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তোমরা যখন সূর্যগ্রহণ দেখবে তখন এ অবস্থা দূর না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করবে এবং দু‘আ করতে থাকবে। (১০৪৮,১০৬২, ১০৬৩, ৫৭৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

1041

আবূ মাস‘ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোকের মৃত্যুর কারণে কখনো সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তবে তা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। তাই তোমরা যখন সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হতে দেখবে, তখন দাঁড়িয়ে যাবে এবং সালাত আদায় করবে। (১০৫৭, ৩২০৪; মুসলিম ১০/৫, হাঃ ৯১১, আহমাদ ১৭১০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

1042

ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে হয় না। তবে তা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কাজেই তোমরা যখনই গ্রহণ হতে দেখবে তখনই সালাত আদায় করবে। (৩২০১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

1043

মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় যে দিন (তাঁর পুত্র) ইবরাহীম (রাযি.) ইন্তিকাল করেন, সেদিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। লোকেরা তখন বলতে লাগল, ইব্রাহীম (রাযি.) এর মৃত্যুর কারণেই সূর্যগ্রহণ হয়েছে। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কারো মৃত্যু অথবা জন্মের কারণে সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তোমরা যখন তা দেখবে, তখন সালাত আদায় করবে এবং আল্লাহর নিকট দু‘আ করবে। (১০৬০, ৬১৯৯; মুসলিম ১০,৫, হাঃ ৯১৫, আহমদ ১৮১৬৫, ১৮২০২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

1044

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় একবার সূর্যগ্রহণ হল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি দীর্ঘ সময় কিয়াম করেন, অতঃপর দীর্ঘক্ষণ রুকূ‘ করেন। অতঃপর পুনরায় (সালাতে) তিনি উঠে দাঁড়ান এবং দীর্ঘ কিয়াম করেন। অবশ্য তা প্রথম কিয়াম চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি রুকূ‘ করেন এবং এ রুকূ‘ও দীর্ঘ করেন। তবে তা প্রথম রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি সিজদা্ করেন এবং সিজদা্ও দীর্ঘক্ষণ করেন। অতঃপর তিনি প্রথম রাকা‘আতে যা করেছিলেন তার অনুরূপ দ্বিতীয় রাকা‘আতে করেন এবং যখন সূর্য প্রকাশিত হয় তখন সালাত শেষ করেন। অতঃপর তিনি লোকজনের উদ্দেশে খুৎবা দান করেন। প্রথমে তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ বর্ণনা করেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা তা দেখবে তখন তোমরা আল্লাহর নিকট দু‘আ করবে। তাঁর মহত্ব ঘোষণা করবে এবং সালাত আদায় করবে ও সদাক্বাহ প্রদান করবে। অতঃপর তিনি আরো বললেনঃ হে উম্মাতে মুহাম্মাদী! আল্লাহর কসম, আল্লাহর কোন বান্দা যিনা করলে কিংবা কোন নারী যিনা করলে, আল্লাহর চেয়ে অধিক অপছন্দকারী কেউ নেই। হে উম্মাতে মুহাম্মাদী! আল্লাহর কসম, আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে তাহলে তোমরা অবশ্যই হাসতে কম এবং বেশী করে কাঁদতে। (১০৪৬, ১০৪৭, ১০৫০, ১০৫০, ১০৫৬, ১০৫৮, ১০৬৪, ১০৬৫, ১০৬৬, ১২১২, ৩২০৩, ৪৬২৪, ৫২২১, ৬৬৫৩১; মুসলিম ১০/১, হাঃ ৯০১, আহমাদ ২৫৩৬৭, ২৫৪০৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

1045

‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় যখন সূর্যগ্রহণ হলো, তখন ‘আস্-সালাতু জামি‘আতুন’ বলে (সালাতে সমবেত হবার জন্য) আহবান জানানো হল। (১০৫১; মুসলিম ১০/৪, হাঃ ৯১০, আহমাদ ৭০৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

1046

وَقَالَتْ عَائِشَةُ وَأَسْمَاءُ خَطَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم. ‘আয়িশাহ ও আসমা (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুৎবাহ দিয়েছিলেন। ১০৪৬. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জীবদ্দশায় একবার সূর্যগ্রহণ হয়। তখন তিনি মসজিদে গমন করেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর লোকেরা তাঁর পিছনে সারিবদ্ধ হলো। তিনি তাকবীর বললেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করলেন। অতঃপর তাকবীর বললেন এবং দীর্ঘক্ষণ রুকূ‘তে থাকলেন। অতঃপর سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলে দাঁড়ালেন এবং সিজদা্য় না গিয়েই আবার দীর্ঘক্ষণ কিরাআত পাঠ করলেন। তবে তা প্রথম কিরাআতের চেয়ে অল্পস্থায়ী। অতঃপর তিনি ‘আল্লাহু আকবার’ বললেন এবং দীর্ঘ রুকূ‘ করলেন, তবে তা প্রথম রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি বললেনঃ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ অতঃপর সিজদা্য় গেলেন। অতঃপর তিনি পরবর্তী রাক‘আতেও অনুরূপ করলেন এবং এভাবে চার সিজদার সাথে চার রাক‘আত পূর্ণ করলেন। তাঁর সালাত শেষ করার পূর্বেই সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গেল। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন এবং বললেনঃ সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন মাত্র। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে গ্রহণ হয় না। কাজেই যখনই তোমরা গ্রহণ হতে দেখবে, তখনই ভীত হয়ে সালাতের দিকে গমন করবে। (৯৮৩) রাবী বর্ণনা করেন, কাসীর ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বলতেন, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে ‘উরওয়াহ (রহ.) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাই আমি ‘উরওয়াহ্কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার ভাই (‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র) তো মদিনা্য় যেদিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল, সেদিন ফজরের সালাতের ন্যায় দু‘রাক‘আত সালাত আদায়ের অতিরিক্ত কিছু করেননি। তিনি বললেন, তা ঠিক, তবে তিনি সুন্নাত অনুসরণ করতে ভুল করেছেন। (১০৪৪) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

1047

وَقَالَ اللهُ تَعَالَى وَخَسَفَ الْقَمَرُ. আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেন, ‘‘আর চন্দ্র নিষ্প্রভ হয়ে পড়বে’’। (সূরাহ্ ক্বিয়ামাহ ৭৫/৮) ১০৪৭. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণের সময় সালাত আদায় করেন। তিনি দাঁড়িয়ে তাকবীর বললেন। অতঃপর দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করেন। অতঃপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করলেন। অতঃপর মাথা তুললেন, আর سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলে পূর্বের মতই দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করলেন। তবে তা পূর্বের কিরাআতের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করলেন, তবে এ রুকূ‘ প্রথম রুকূ‘র চেয়ে কম দীর্ঘ ছিল। অতঃপর তিনি দীর্ঘ সিজদা্ করলেন। অতঃপর তিনি শেষ রাক‘আতে প্রথম রাক‘আতের অনুরূপ করলেন এবং সালাম ফিরালেন। তখন সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গেল। অতঃপর লোকদের উদ্দেশে তিনি খুৎবাহ দিলেন। খুৎবায় তিনি সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ সম্পর্কে বললেন, এ হচ্ছে আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কারো মৃত্যু কিংবা জন্মের কারণে গ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা তা দেখবে তখন তোমরা ভীত অবস্থায় সালাতের দিকে গমন করবে। (১০৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

1048

وَقَالَ أَبُو مُوسَى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. আবূ মূসা আশ‘আরী (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে তা বর্ণনা করেছেন। ১০৪৮. আবূ বাকরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল বলেছেনঃ সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কারো মৃত্যুর কারণে এ দু’টির গ্রহণ হয় না। তবে এ দিয়ে আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের সতর্ক করেন। ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ ওয়ারিস, শু‘আইব, খালিদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ্, হাম্মাদ ইবনু সালাম (রহ.) ইউনুস (রহ.) হতে ‘এ দিয়ে আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদেরকে সতর্ক করেন’ বাক্যটি বর্ণনা করেননি; আর মূসা (রহ.) মুবারক (রহ.) স্থলে হাসান (রহ.) হতে ইউনুস (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। তিনি বলেন, আমাকে আবূ বাকরা (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ্ এ দিয়ে তাঁর বান্দাদেরকে সতর্ক করেন। (১০৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

1049

পরে কোন এক সকালে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারীতে আরোহণ করেন। তখন সূর্যগ্রহণ আরম্ভ হয়। তিনি সূর্যোদয় ও দুপুরের মাঝামাঝি সময় ফিরে আসেন এবং কামরাগুলোর মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করেন। অতঃপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন এবং লোকেরা তাঁর পিছনে দাঁড়াল। অতঃপর তিনি দীর্ঘ কিয়াম করেন। অতঃপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন পরে মাথা তুলে দীর্ঘ কিয়াম করেন। তবে এ কিয়াম পূর্বের কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর আবার তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে এ রুকূ‘ পূর্বের রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি মাথা তুললেন এবং সিজদা্য় গেলেন। অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করলেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর দীর্ঘ রুকূ‘ করলেন। এ রুকূ‘ প্রথম রাক‘আতের রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর আবার রুকূ‘ করলেন এবং তা প্রথম রাক‘আতের রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। পরে মাথা তুললেন এবং সিজদা্য় গেলেন। অতঃপর সালাত শেষ করলেন। আল্লাহর যা ইচ্ছা তিনি তা বললেন এবং কবর আযাব হতে পানাহ চাওয়ার জন্য উপস্থিত লোকেদের আদেশ করলেন। (১০৪৪; মুসলিম ১০/২, হাঃ ৯০৩, আহমাদ ১৪৭২, ১৪৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮৬ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯২ শেষাংশ)

Previous section
Page 1 of 3
Next section