Sahih al Bukhari
990

ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ রাতের সালাত দু’ দু’ (রাক‘আত) করে। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি ফজর হবার আশঙ্কা করে, সে যেন এক রাক‘আত সালাত আদায় করে নেয়। আর সে যে সালাত আদায় করল, তা তার জন্য বিতর হয়ে যাবে। (৪৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

991

নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘উমার (রাযি.) বিত্‌র সালাতের দু’ রাক‘আতের মাঝে সালাম ফিরাতেন। অতঃপর কাউকে কোন প্রয়োজনীয় কাজের নির্দেশ দিতেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৩২ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৩৭ শেষাংশ)

992

ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি তাঁর খালা উম্মুল মু‘মিনীন মাইমূনাহ (রাযি.)-এর ঘরে রাত কাটান। (তিনি বলেন) আমি বালিশের প্রস্থের দিক দিয়ে শয়ন করলাম এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিবার সেটির দৈর্ঘ্যের দিক দিয়ে শয়ন করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের অর্ধেক বা তার কাছাকাছি সময় পর্যন্ত ঘুমালেন। অতঃপর তিনি জাগ্রত হলেন এবং চেহারা হতে ঘুমের রেশ দূর করলেন। পরে তিনি সূরাহ্ আলু-ইমরানের (শেষ) দশ আয়াত তিলাওয়াত করলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ঝুলন্ত মশ্কের নিকট গেলেন এবং উত্তমরূপে উযূ করলেন। অতঃপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন। আমিও তাঁর মতই করলাম এবং তাঁর পাশেই দাঁড়ালাম। তিনি তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন এবং আমার কান ধরলেন। অতঃপর তিনি দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর দু’ রাক‘আত, অতঃপর দু‘ রাকা’আত, অতঃপর দু‘ রাক‘আত, অতঃপর দু‘ রাক‘আত, অতঃপর দু’ রাক‘আত। অতঃপর বিতর আদায় করলেন। অতঃপর তিনি শুয়ে পড়লেন। অবশেষে মুআয্যিন তাঁর নিকট এলো। তখন তিনি দাঁড়িযে দু‘ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বের হয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। (১১৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

993

‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাতের সালাত দু’ দু’ রাক‘আত করে। অতঃপর যখন তুমি সালাত শেষ করতে চাইবে, তখন এক রাক‘আত আদায় করে নিবে। তা তোমার পূর্ববর্তী সালাতকে বিতর করে দিবে। ক্বাসিম (রহ.) বলেন, আমরা সাবালক হয়ে লোকদের তিন রাক‘আত বিতর আদায় করতে দেখেছি। উভয় নিয়মেরই অবকাশ রয়েছে। আমি আশা করি এর কোনটিই দূষণীয় নয়। (৪৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

994

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগার রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। এ ছিল তাঁর রাত্রিকালীন সালাত। এতে তিনি এমন দীর্ঘ সিজদা্ করতেন যে, তাঁর মাথা উঠাবার পূর্বে তোমাদের কেউ পঞ্চাশ আয়াত পড়তে পারে এবং ফজরের সালাতের পূর্বে তিনি আরো দু’ রাক‘আত পড়তেন। অতঃপর তিনি ডান কাতে শুয়ে বিশ্রাম করতেন, সালাতের জন্য মুআয্যিনের আসা পর্যন্ত। (৬২৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

995

قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ أَوْصَانِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِالْوِتْرِ قَبْلَ النَّوْمِ. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ঘুমানোর পূর্বে বিতর আদায়ের আদেশ দিয়েছেন। ৯৯৫. আনাস ইবনু সীরীন (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাযি.)-কে বললাম, ফজরের পূর্বের দু’ রাকআতে আমি কিরাআত দীর্ঘ করব কি-না, এ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে দু’ দু’ রাক‘আত করে সালাত আদায় করতেন এবং এক রাক‘আত বিতর আদায় করতেন।* অতঃপর ফজরের সালাতের পূর্বে তিনি দু’ রাক‘আত এমনভাবে আদায় করতেন যেন ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের শব্দ তাঁর কানে আসছে। রাবী হাম্মাদ (রহ.) বলেন, অর্থাৎ তাড়াতাড়ি। (৪৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

996

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের সকল অংশে (অর্থাৎ বিভিন্ন রাতে বিভিন্ন সময়ে) বিতর আদায় করতেন আর (জীবনের) শেষ দিকে সাহরির সময় তিনি বিতর আদায় করতেন। (মুসলিম ৬/১৭, হাঃ ৭৪৫ আহমাদ ২৪২৪৩, ২৪৮১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

997

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রাতে) সালাত আদায় করতেন, তখন আমি তাঁর বিছানায় আড়াআড়িভাবে ঘুমিয়ে থাকতাম। অতঃপর তিনি যখন বিতর পড়ার ইচ্ছা করতেন, তখন আমাকে জাগিয়ে দিতেন এবং আমিও বিতর আদায় করে নিতাম। (৩৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

998

‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিতরকে তোমাদের রাতের শেষ সালাত করবে। (মুসলিম ৬/২০, হাঃ ৭৫১ আহমাদ ৪৭১০, ৫৭৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

999

সা‘ঈদ ইবনু ইয়াসার (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.)-এর সঙ্গে মক্কার পথে সফর করছিলাম। সা‘ঈদ (রহ.) বলেন, আমি যখন ফজর হয়ে যাবার ভয় করলাম, তখন সওয়ারী হতে নেমে পড়লাম এবং বিতরের সালাত আদায় করলাম। অতঃপর তাঁর সঙ্গে মিলিত হলাম। তখন ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোথায় ছিলে? আমি বললাম, ভোর হয়ে যাবার ভয়ে নেমে বিতর আদায় করেছি। তখন ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মধ্যে কি তোমার জন্য উত্তম আদর্শ নেই? আমি বললাম, হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের পিঠে বিতরের সালাত আদায় করতেন। (১০০০, ১০৯৫, ১০৯৬, ১০৯৮, ১১০৫; মুসলিম ৬/৪, হাঃ ৭০০ আহমাদ ৫২০৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

Previous section
Page 1 of 2
Next section