। ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কুরআনের মধ্যে পনেরটি সিজদা্ পাঠ করিয়েছেন। তন্মধ্যে সূরাহ মুফাসসলে তিনটি এবং সূরাহ হাজ্জের মধ্যে দু’টি।[1] ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আবূ দারদা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, সিজদা্ এগারটি। তবে এ বর্ণনার সানাদ দুর্বল। দুর্বল : মিশকাত (১০২৯)।
। ‘উক্ববাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করি, হে আল্লাহর রসূল! সূরাহ হাজ্জে কি দু’টি সিজদা্ রয়েছে? তিনি বলেন, হ্যাঁ। যে ব্যক্তি এ দু’টি সিজদা্ আদায় করবে না সে যেন তা তিলাওয়াত না করে।[1] হাসান।
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনায় আগমনের পর মুফাসসলের কোথাও সিজদা্ করেননি।[1] দুর্বল : মিশকাত (১০৩৪)।
। যায়িদ ইবনু সাবিত (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মুখে সূরাহ নাজম তিলাওয়াত করেছি কিন্তু তিনি এ সূরাহতে সিজদা্ করেননি।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। খারিজাহ ইবনু যায়িদ ইবনু সাবিত (রহঃ) হতে তার পিতা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, যায়িদ (রাঃ) ইমাম হওয়া সত্ত্বেও সিজদা্ করেননি।
। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরাহ নাজম তিলাওয়াতের পর সিজদা্ করলে উপস্থিত সকলেই সিজদা্ করলো। কিন্তু এক ব্যক্তি সিজদা না করে এক মুষ্টি কংকর অথবা মাটি স্বীয় কপালের কাছে নিয়ে বললো, আমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, পরবর্তীতে আমি লোকটিকে কাফির অবস্থায় মরতে দেখেছি।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ‘ইযাস্-সামাউন শাককাত্ এবং ‘ইক্বরা বিসমি রব্বিকাল্লাযী খালাক্বা’ সূরাহ দু’টিতে সিজদা্ করেছি। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) ষষ্ঠ হিজরীতে খায়বার যুদ্ধের বছরে ইসলাম কবুল করেন। আর এ সিজদা্ ছিলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের শেষদিকের আমল।[1] সহীহ : মুসলিম।
। আবূ রাফি’ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-এর সাথে ‘ইশার সালাত আদায় করি। তিনি সূরাহ ‘ইযাস্-সামাউন শাক্কাত’ তিলাওয়াত করে সিজদা্ করলেন। আমি তাকে বলি, এ সিজদা্ কিসের? তিনি বললেন, আমি আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে এ সিজদা্ করেছি এবং মৃত্যু পর্যন্ত আমি এ সিজদা্ আদায় করতে থাকবো।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূরাহ সোয়াদের সিজদা্ আবশ্যক নয়। তবে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এখানে সিজদা্ করতে দেখেছি।[1] সহীহ : বুখারী।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারের উপর ‘সূরাহ সোয়াদ’ তিলাওয়াতকালে সাজদার আয়াত পর্যন্ত পৌছলে নীচে নেমে সিজদা্ করলে লোকজনও তাঁর সাথে সিজদা্ করলো। অতঃপর আরেক দিন তিনি তা তিলাওয়াত করলেন, তখন সাজদার আয়াত পর্যন্ত পৌঁছলে লোকজন সাজদার জন্য প্রস্তুত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটা নবীর জন্য তওবাহ স্বরূপ ছিলো। অথচ আমি দেখছি তোমরা সিজদা্ করার জন্য প্রস্তুত। অতঃপর তিনি সিজদা্ করলে লোকেরাও সিজদা্ করলো।[1] সহীহ।